আতঙ্ক বাড়াচ্ছেন বিদেশ ফেরতরা
- আপডেট টাইম : ০৮:৫৯:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২০
- / 125
নিউজ লাইট ৭১: করোনা ভাইরাস আতঙ্কে কাঁপছে পুরোবিশ্ব। এরই মধ্যে বাংলাদেশেও বাড়তে শুরু করেছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে ৫ জনকে। তাদের মধ্যে ৪ জনই বিদেশ থেকে দেশে ফিরে এসেছেন। এদের একজনের সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হয়েছেন তার এক স্বজন। এ ছাড়াও বর্তমানে ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ রাখা হয়েছে দুই সহস্রাধিক আর আইসোলেশনে রয়েছেন ১০ জন।
দেশের বৃহৎ স্বার্থের কথা চিন্তা করে বিদেশ থেকে না আসার জন্য অনুরোধ করা হলেও থেমে নেই ফেরত আসাদের মিছিল। গতকাল ইতালি থেকে ১৫৫ জন আর কাতার থেকে এসেছেন ৫৮ জন বাংলাদেশি। ফেরতের আসাদের ১৪ দিন বাধ্যতামূলক ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ থাকার নির্দেশনা দেয়া হলেও তা মানতে রাজি নন তারা। কোয়ারেন্টাইন থেকে বের হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দিব্বি। এমনকি করোনা ভাইরাস পরীক্ষার প্রস্তুতির মধ্যে হাসপাতাল থেকে পলায়নও করেছেন দুই প্রবাসী।
এসব প্রবাসীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে দেশে করোনার মহামারী ছড়াতে পারেন বলে দাবি করছেন বিশ্লেষকরা। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) সূত্র জানায়, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে দেশে এখন পর্যন্ত দুই হাজার ৩১৪ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। আইসোলেশনে আছেন ১০ জন। তবে ফেরত আসা অনেকেই হোম কোয়ারেন্টাইন ঠিকভাবে মানছেন না। তাই বাধ্য হয়ে শনিবার থেকে যারাই বিদেশ থেকে দেশে ফিরে এসেছেন তাদের সরকারি হেফাজতে কোয়ারেন্টনাইনে পাঠানো হচ্ছে।
কিন্তু সরকারি হেফাজতে কিংবা নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টনাইনে থাকতে রাজি হন প্রবাসীরা। ফলে বাধ্য হয়ে শনিবার সকালে ইতালি থেকে আসা ১৪২ বাংলাদেশিকে সরকারি হেফাজতে আশকোনা হজ ক্যাম্পে পাঠানো হয়। পরিবার-পরিজন সর্বোপরি দেশের মানুষের স্বার্থে বিদেশ ফেরতদের কোয়ারেন্টাইনে থাকার অনুরোধ জানানো হলেও তারা সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে অস্বীকৃতি জানান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাদের আশকোনা হজ ক্যাম্পে নেয়া হলে সেখানে একপর্যায়ে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে। হজ ক্যাম্পের অস্থায়ী কোয়ারেন্টাইনের বাইরের গেটে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন প্রবাসীরা।
হজ ক্যাম্পের প্রধান গেটে বিক্ষোভ এবং গেট ধরে তারা ধাক্কাধাক্কি করেন। হজ ক্যাম্পে থাকার পরিবেশ নেই উল্লেখ করে প্রশাসনের অবহেলার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগানও দেন। পরে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়।
এদিকে গতকাল শনিবার ইতালি থেকে আসা ১৫৫ জনকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আশকোনা হজ ক্যাম্পে ও কাতার দেশে আসা ৫৮ জনকে গাজীপুরের একটি হাসপাতালে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তারাও সরকারি হেফাজতে কেবায়ারেইন্টাইনে থাকতে আপত্তি জানাচ্ছেন বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।
এ ছাড়াও গতকাল রোববার সকালে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত কি না সেই পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের প্রস্তুতির মধ্যে রাজধানীর শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী হাসপাতালের ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে পালিয়ে গেছেন একজন রোগী। বাহরাইন প্রবাসী ওই ব্যক্তি জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে এখানে ভর্তি হয়েছিলেন বলে হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া জানিয়েছেন। এর আগে গত ১০ মার্চ করোনা ভাইরাস আক্রান্ত কি না পরীক্ষা করতে বলায় সিলেটে একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে সৌদি আরব প্রবাসী এক নারী পালিয়ে যান। পরে খোঁজ নিয়ে সিভিল সার্জন অফিসের লোকজন ওই নারীর বাসায় গিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার অনুরোধ করলেও তিনি রাজি হননি।
বিদেশ ফেরত বাংলাদেশিদের এসব কাণ্ডে ক্ষুব্দ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোও। পাররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন কঠোর সমালোচনা করে বলেন, প্রবাসীরা দেশে এলেই নবাবজাদা হয়ে যান। তারা কোয়ারেনটাইনে যাওয়ার বিষয়ে খুব অসন্তুষ্ট হন। ফাইভ স্টার হোটেল না হলে তারা অপছন্দ করেন। তিনি বলেন, আমাদের তো দৈন্য আছে। এটা তো একটা বিশেষ অবস্থা। আমরা যাদের নিয়ে আসি, তাদের হজ ক্যাম্পে রাখি, এখন আরো কয়েকটা হাসপাতালও জোগাড় করেছি।
আইইডিসিআর পরিচালক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, আক্রান্ত দেশ থেকে যারা এসেছেন হোম কোয়ারেন্টাইন কঠোরভাবে পালন করবেন। এ ব্যাপারে গাফিলতি করার কোনো সুযোগ নেই। বিদেশ থেকে ফেরত যাত্রীরা হোম কোয়ারেন্টাইনে না থাকলে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে বাধ্য করা হবে। তিনি পরিবারের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সম্ভব হলে আলাদা কক্ষে হোম কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করবেন। আর তা সম্ভব না হলে অন্তত নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখবেন। এ ছাড়া কারো হোম কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা না থাকলে যোগাযোগ করলে আইইডিসিআর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করবে।
অন্যদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, হোম কোয়ারেন্টাইনের ক্ষেত্রে আপোস করা হবে না। কেউ হোম কোয়ারেন্টাইন না মানলে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। প্রয়োজনে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।























