জাতির পিতার নানা স্মৃতি বিজড়িত জরাজীর্ণ এই পৈতৃক বাড়িটি
- আপডেট টাইম : ১০:০৭:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২০
- / 177
নিউজ লাইট ৭১: গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট সপরিবারে নিহত হন তিনি। সে সময় বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান তার দুই কন্যা দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। বঙ্গবন্ধুর সমাধির দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে জাতির পিতার পৈতৃক বাড়ি। প্রায় আড়াই থেকে তিনশ’ বছর আগে ইট দিয়ে নির্মিত বাড়িটিতে ব্যবহার করা হয়েছে চুন-সুড়কি। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতির পিতার নানা স্মৃতি বিজড়িত জরাজীর্ণ এই পৈতৃক বাড়িটি সেই আদি রূপে ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর প্রায় ৪ মাস আগে বাড়িটির কাজ শুরু করেছে। প্রধান মিস্ত্রি মো. আনোয়ার বলেন, বাড়িটির দেয়াল থেকে পুরনো পলেস্তারা সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
বাড়িটি আদি রূপে ফিরিয়ে আনতে এখন নতুন করে চুন, সুড়কি ও চিটাগুড় দিয়ে পলেস্তারা করা হচ্ছে। সিমেন্ট, বালু বাদে চুন, সুড়কি ও চিটাগুড় দিয়ে পলেস্তারা কেন এমন এক প্রশ্নের উত্তরে বাড়ি নির্মাণকারী প্রধান রাজমিস্ত্রি বললেন, আড়াই থেকে তিনশ’ বছর আগে ইট দিয়ে গাঁথা বাড়িটি চুন আর সুড়কি দিয়ে পলেস্তারা করা হয়েছিল বলেই বাড়ির জৌলুস আজও আছে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের উপপরিচালক আমিরুজ্জামান পলাশ ও সহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ আহমেদ কাজটি তত্ত্বাবধান করছেন। ফিরোজ আহমেদ জানিয়েছেন, প্রায় ৮ বছর আগে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বাড়িটি একবার সংস্কার করেছিল। এতে বাড়িটি কিছুটা পুরনো আদি রূপ ফিরে পেয়ে বেশ পরিবর্তন হয়েছিল। এরপর বাড়িটি পুরনো আমলের কাঠামো ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়। এরপর প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রকৌশলীরা টুঙ্গিপাড়া এসে এ বাড়ির পুরনো ছবি ও ভবনের নির্মাণশৈলী দেখে সেই আড়াই থেকে তিনশ’ বছর আগের রূপে ফিরিয়ে আনতে একাধিক নকশা প্রণয়ন করেন। এগুলো পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখানো হয়। প্রধানমন্ত্রী ওই নকশা অনুযায়ী বাড়িটি সংস্কার করার অনুমতি দেন। সে মোতাবেক বাড়িটি আদি রূপে ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে। চূড়ান্ত কাজ শেষ করার আগে বাড়ির বর্তমান অবস্থা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। সেটি দেখে অনুমোদন দিলেই চূড়ান্ত কাজ করা হবে। টুঙ্গিপাড়ার শেখ বাড়ির শেখ বোরহান উদ্দিন জানান, প্রায় সাড়ে ৩শ’ বছর আগে বঙ্গবন্ধুর পূর্বপুরুষ জমিদার শেখ কুদরতউল্লা টুঙ্গিপাড়ায় এ বাড়িটি নির্মাণ করেন। এ বাড়ি তখন এ অঞ্চলের মধ্যে অনন্য স্থাপত্যশৈলী হিসেবে পরিগণিত হতো। এ অঞ্চলে আগত মানুষ বাড়িটির নির্মাণশৈলী দেখে মুগ্ধ হতো। বঙ্গবন্ধুর শৈশব থেকে শুরু করে জীবনের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে এই বাড়ির সঙ্গে। দীর্ঘ দিন বাড়িটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়েছিলো। প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পর বাড়ির কাজ শুরু হয়েছে। টুঙ্গিপাড়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত শেখ পরিবারের ঐতিহ্যবাহী এ বাড়িটি দেখতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ আসেন। তারা বাড়িটি ঘুরে ঘুরে দেখেন। শেখ পরিবারের ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারেন। বাড়িটি আদি রুপে ফিরে এলে আরও আকর্ষণীয় ও দর্শনীয় হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। খুলনা, বাগেরহাট, নড়াইল, যশোর, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, নাজিরপুর, মাদরীপুর, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি ডাইরেক্টর তুহিন মাহামুদ, সহকারী রেজিষ্টার নজরুল ইসলাম হীরা, কন্টোলার গোলাম হায়দার, ডেপুটি কন্টোলার মিকাইল হোসেন, কিপার অফিসার সাইফুল্লাহ রাজু ও সেকশন অফিসার ইমরুল হাসানসহ একাধিক দর্শনার্থীরা বলেন, বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। তার পৈতৃক বাড়িটি সংস্কার করে আদি আমলে ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে এর কাজ শেষ হবে। সাড়ে তিনশ’ বছরের পুরনো এ বাড়ি আদি রূপে ফিরলে নতুন প্রজন্মের কাছে জাতির পিতার পরিবারের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরবে।























