ঢাকা ০৪:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় যুবককে পুড়িয়ে হত্যা

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০২:২৬:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 7

ছবি: সংগৃহীত

‘দুজনে পেট্রল দিছে, আরেকজনে আগুন ধরাইয়া দিছে।’—মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার ঠিক আগমুহূর্তে মুক্তাগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হোসেনের হাত ধরে নিজের ওপর হওয়া নির্মমতার শেষ বর্ণনাটুকু এভাবেই দিয়েছিলেন ফরহাদ হোসেন জনি (৩৫)।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিভে যায় এই প্রতিবাদী যুবকের জীবনপ্রদীপ। এর আগে বুধবার রাত ১০টার দিকে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা পৌর শহরের মধ্যহিস্যা এলাকায় তাঁর ওপর এই বর্বরোচিত হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।

নিহত ফরহাদ হোসেন জনি উপজেলার তারাটি ইউনিয়নের মৌশাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সাত্তারের বড় ছেলে। পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ও কৃষি উদ্যোক্তা জনি ছিলেন এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান আন্দোলনের পরিচিত মুখ। বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়া বাবার সংসারে দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে জনিই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবার এখন দিশেহারা।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নিহতের বাবা আব্দুস সাত্তার জানান, বুধবার রাতে ফরহাদ ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির সামনে আসামাত্র আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপর চড়াও হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুজন তাঁর শরীরে পেট্রোল ঢেলে দেয় এবং অন্যজন আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে জনির আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁকে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত স্থানান্তর করা হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, পৌর শহরের একটি পরিত্যক্ত রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ সংলগ্ন এলাকায় থাকতেন ফরহাদ। ওই পরিত্যক্ত স্থানে নিয়মিত বসত মাদকসেবীদের আড্ডা। জনি প্রায়ই সেখানে গিয়ে মাদকসেবীদের বাধা দিতেন এবং সমাজকে মাদকমুক্ত করার চেষ্টা করতেন। এলাকাবাসীর ধারণা, মাদক সেবন ও বিক্রিতে বাধা দেওয়ার জেরেই মাদকচক্র পরিকল্পিতভাবে জনিকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে।

এদিকে বুধবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জ্ঞান থাকা অবস্থায় এসআই নাজমুল হোসেনের কাছে দেওয়া জনির সেই মর্মস্পর্শী জবানবন্দির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এসআই নিজেই।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মুক্তাগাছা থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, “এমন নির্মম মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। জনি মৃত্যুর আগে যে জবানবন্দি দিয়ে গেছেন, সেটিকে সূত্র ধরে আমরা অপরাধীদের শনাক্ত করতে ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছি।”

নিউজ লাইট ৭১

 

Tag :

শেয়ার করুন

মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় যুবককে পুড়িয়ে হত্যা

আপডেট টাইম : ০২:২৬:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘দুজনে পেট্রল দিছে, আরেকজনে আগুন ধরাইয়া দিছে।’—মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার ঠিক আগমুহূর্তে মুক্তাগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হোসেনের হাত ধরে নিজের ওপর হওয়া নির্মমতার শেষ বর্ণনাটুকু এভাবেই দিয়েছিলেন ফরহাদ হোসেন জনি (৩৫)।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিভে যায় এই প্রতিবাদী যুবকের জীবনপ্রদীপ। এর আগে বুধবার রাত ১০টার দিকে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা পৌর শহরের মধ্যহিস্যা এলাকায় তাঁর ওপর এই বর্বরোচিত হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।

নিহত ফরহাদ হোসেন জনি উপজেলার তারাটি ইউনিয়নের মৌশাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সাত্তারের বড় ছেলে। পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ও কৃষি উদ্যোক্তা জনি ছিলেন এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান আন্দোলনের পরিচিত মুখ। বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়া বাবার সংসারে দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে জনিই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবার এখন দিশেহারা।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নিহতের বাবা আব্দুস সাত্তার জানান, বুধবার রাতে ফরহাদ ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির সামনে আসামাত্র আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপর চড়াও হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুজন তাঁর শরীরে পেট্রোল ঢেলে দেয় এবং অন্যজন আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে জনির আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁকে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত স্থানান্তর করা হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, পৌর শহরের একটি পরিত্যক্ত রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ সংলগ্ন এলাকায় থাকতেন ফরহাদ। ওই পরিত্যক্ত স্থানে নিয়মিত বসত মাদকসেবীদের আড্ডা। জনি প্রায়ই সেখানে গিয়ে মাদকসেবীদের বাধা দিতেন এবং সমাজকে মাদকমুক্ত করার চেষ্টা করতেন। এলাকাবাসীর ধারণা, মাদক সেবন ও বিক্রিতে বাধা দেওয়ার জেরেই মাদকচক্র পরিকল্পিতভাবে জনিকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে।

এদিকে বুধবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জ্ঞান থাকা অবস্থায় এসআই নাজমুল হোসেনের কাছে দেওয়া জনির সেই মর্মস্পর্শী জবানবন্দির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এসআই নিজেই।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মুক্তাগাছা থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, “এমন নির্মম মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। জনি মৃত্যুর আগে যে জবানবন্দি দিয়ে গেছেন, সেটিকে সূত্র ধরে আমরা অপরাধীদের শনাক্ত করতে ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছি।”

নিউজ লাইট ৭১