সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুতবায় দেরি হওয়ায় ইমামকে বকাঝকা

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৮:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ নভেম্বর ২০২২
  • / 82

মসজিদের ইমামকে বাজে ভাষায় বকাঝকার প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার নামাজরত মুসল্লিরা বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলাধীন কয়া ইউনিয়নের বারাদী মন্ডলপাড়া গ্রামে। এই হামলায় গুরুতর আহত ২ জন কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী একজনের দাবি, গত শুক্রবার বারাদী বায়তুল রহিম জামে মসজিদে জুম্মার নামাজের আগে ইমাম খুতবা পাঠ করছিলেন। নামাজের সময় ১ মিনিট অতিবাহিত হওয়ায় স্থানীয় আব্দুস সাত্তারের ছেলে শাহিন হোসেন ইমাম সাহেবকে উদ্দেশ্য করে বাজে ভাষায় বকাঝকা করেন। সে সময় উপস্থিত মুসল্লিরা বাজে ব্যবহারের প্রতিবাদ করলে শাহিন, শাহিনের ছোট ভাই রাসেল, তাদের বাবা আব্দুস সাত্তার ও তাদের অনুসারীরা মসজিদে উপস্থিত মুসল্লিদের ও ইমাম সাহেবকে মারতে উদ্যত হয়। হুড়োহুড়ি রুখারুখির একপর্যায়ে কুমারখালী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

জানা যায়, বিষয়টি সমাধান করার পর পুনরায় কোন কোন্দল না সৃষ্টি করতে আব্দুস সাত্তারকে দায়িত্ব দেন উপস্থিত পুলিশের দলটি। শাহিন, রাসেল, আব্দুস সাত্তার, ডাগু, সোহেল, মাসুম, মনিরুল, এনামুল, আলিমুল, বারু মৃধা, মিনারুল, মতিউর, আতাউল, সরাজ, জহুরুল ও তার সহযোগীরা এশার নামাজ চলাকালীন সময় মসজিদে অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় মসজিদে নামাজরত মুসল্লিরাসহ মসজিদের পাশে দোকানে বসে থাকা স্থানীয়দের বেশ কয়েকজন আহত হন। হামলাকারীরা মসজিদের সামনে দোকানে বসে থাকা সেলিমের উপর হামলা চালালে তাকে বাঁচাতে তার ফুফু মনিরা খাতুন এগিয়ে আসলে তাকেও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করে তারা। মনিরার হাতের ২ আঙ্গুল বিছিন্ন হওয়ার সাথে সেলিমের মাথাও ক্ষত করেন হামলাকারীরা। গুরুতর আহত সেলিম ও মনিরা দুজনেই কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাছাড়া হামলাকারীরা মসজিদের উল্টো পাশে বাড়ির সামনে রাখা ১টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।

মসজিদের ইমাম ইব্রাহিম খলিল প্রতিবেদককে বলেন, গত শুক্রবার জুম্মার নামাজের আগে খুতবা বলতে বলতে হয়তো দুই এক মিনিট বেশি হয়ে যায়। যার কারণে শাহিন সবার সম্মুখে আমাকে বাজে ভাষায় বকাঝকা করেন। সে সময় উপস্থিত মুসল্লিরা শাহিনের বাজে ব্যবহারের প্রতিবাদ করলে শাহিন, রাসেল, আব্দুল সাত্তার ও তার সহযোগীরা আমার ও উপস্থিত মুসল্লিদের উপরে চড়াও হন। সে সময় কুমারখালী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরবর্তীতে এশার নামাজের সময় তারা ও তাদের সহযোগীরা পুনরায় মসজিদে এসে হামলা চালিয়ে মুসল্লিদের মারধর করে। ” তুই বাইরে আয় তোকে পেটাবো, তোকে নামাজ পড়াতে কে বলেছে? ” এই বলে রাসেল সে সময় আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিতে থাকে। পরবর্তীতে আবারও পুলিশ আসলে হামলাকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

হামলায় গুরুতর আহত সেলিম ও মনিরার পরিবারের পক্ষে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তাছাড়া এই ঘটনায় আহত সেলিমের বাবা মনসুর আলী বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহসীন হোসাইন জানান, এজাহারের তদন্ত করে সত্যতা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজ লাইট ৭১

facebook sharing button
twitter sharing button
pinterest sharing button
email sharing button
sharethis sharing button
Tag :

শেয়ার করুন

খুতবায় দেরি হওয়ায় ইমামকে বকাঝকা

আপডেট টাইম : ০৮:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ নভেম্বর ২০২২

মসজিদের ইমামকে বাজে ভাষায় বকাঝকার প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার নামাজরত মুসল্লিরা বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলাধীন কয়া ইউনিয়নের বারাদী মন্ডলপাড়া গ্রামে। এই হামলায় গুরুতর আহত ২ জন কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী একজনের দাবি, গত শুক্রবার বারাদী বায়তুল রহিম জামে মসজিদে জুম্মার নামাজের আগে ইমাম খুতবা পাঠ করছিলেন। নামাজের সময় ১ মিনিট অতিবাহিত হওয়ায় স্থানীয় আব্দুস সাত্তারের ছেলে শাহিন হোসেন ইমাম সাহেবকে উদ্দেশ্য করে বাজে ভাষায় বকাঝকা করেন। সে সময় উপস্থিত মুসল্লিরা বাজে ব্যবহারের প্রতিবাদ করলে শাহিন, শাহিনের ছোট ভাই রাসেল, তাদের বাবা আব্দুস সাত্তার ও তাদের অনুসারীরা মসজিদে উপস্থিত মুসল্লিদের ও ইমাম সাহেবকে মারতে উদ্যত হয়। হুড়োহুড়ি রুখারুখির একপর্যায়ে কুমারখালী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

জানা যায়, বিষয়টি সমাধান করার পর পুনরায় কোন কোন্দল না সৃষ্টি করতে আব্দুস সাত্তারকে দায়িত্ব দেন উপস্থিত পুলিশের দলটি। শাহিন, রাসেল, আব্দুস সাত্তার, ডাগু, সোহেল, মাসুম, মনিরুল, এনামুল, আলিমুল, বারু মৃধা, মিনারুল, মতিউর, আতাউল, সরাজ, জহুরুল ও তার সহযোগীরা এশার নামাজ চলাকালীন সময় মসজিদে অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় মসজিদে নামাজরত মুসল্লিরাসহ মসজিদের পাশে দোকানে বসে থাকা স্থানীয়দের বেশ কয়েকজন আহত হন। হামলাকারীরা মসজিদের সামনে দোকানে বসে থাকা সেলিমের উপর হামলা চালালে তাকে বাঁচাতে তার ফুফু মনিরা খাতুন এগিয়ে আসলে তাকেও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করে তারা। মনিরার হাতের ২ আঙ্গুল বিছিন্ন হওয়ার সাথে সেলিমের মাথাও ক্ষত করেন হামলাকারীরা। গুরুতর আহত সেলিম ও মনিরা দুজনেই কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাছাড়া হামলাকারীরা মসজিদের উল্টো পাশে বাড়ির সামনে রাখা ১টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।

মসজিদের ইমাম ইব্রাহিম খলিল প্রতিবেদককে বলেন, গত শুক্রবার জুম্মার নামাজের আগে খুতবা বলতে বলতে হয়তো দুই এক মিনিট বেশি হয়ে যায়। যার কারণে শাহিন সবার সম্মুখে আমাকে বাজে ভাষায় বকাঝকা করেন। সে সময় উপস্থিত মুসল্লিরা শাহিনের বাজে ব্যবহারের প্রতিবাদ করলে শাহিন, রাসেল, আব্দুল সাত্তার ও তার সহযোগীরা আমার ও উপস্থিত মুসল্লিদের উপরে চড়াও হন। সে সময় কুমারখালী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরবর্তীতে এশার নামাজের সময় তারা ও তাদের সহযোগীরা পুনরায় মসজিদে এসে হামলা চালিয়ে মুসল্লিদের মারধর করে। ” তুই বাইরে আয় তোকে পেটাবো, তোকে নামাজ পড়াতে কে বলেছে? ” এই বলে রাসেল সে সময় আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিতে থাকে। পরবর্তীতে আবারও পুলিশ আসলে হামলাকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

হামলায় গুরুতর আহত সেলিম ও মনিরার পরিবারের পক্ষে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তাছাড়া এই ঘটনায় আহত সেলিমের বাবা মনসুর আলী বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহসীন হোসাইন জানান, এজাহারের তদন্ত করে সত্যতা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজ লাইট ৭১

facebook sharing button
twitter sharing button
pinterest sharing button
email sharing button
sharethis sharing button