কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সন্তানকে অপহরণ
- আপডেট টাইম : ০৫:০৭:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২২
- / 18
অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পাশের বাসার রাশিদা নামের এক নারীর তিন বছরের শিশু সন্তানকে অপহরণ করে ৮ মাস আটকে রাখে আকাশ নামের এক ব্যাক্তি। শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য মা রাশিদা এলাকার ইউপি চেয়ারম্যানসহ অনেকের কাছেই ধর্না ধরলেও কেউ তার আকুতি শোনে না। পরে ডিবি ওয়ারী বিভাগের ডিসি মোবাইল নম্বর জোগাড় করে ফোনে সব জানালে ওয়ারীর ডিসি তার টিমসহ অভিযান চালিয়ে মাত্র তিন দিনের মধ্যে নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা থানার বিশ্বকাকনি ইউনিয়নের যাত্রাবাড়ী থেকে অপহৃত শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারসহ অপহরণকারী ইসমাইল হোসেন জীবন ওরফে আকাশকে গ্রেপ্তার করে।
শনিবার দুপুরে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা জানান ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আশরাফ হোসেন সিদ্দিক।
তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী বাসার ভাড়াটিয়া অপহরণকারী ইসমাইল হোসেন জীবন রাশিদা খাতুনকে বিভিন্ন সময় উত্যক্ত করতো এবং অনৈতিক প্রস্তাব দিত। আকাশ শিশুটিকে অসৎ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময় চকলেট ও চিপস্ কিনে দিয়ে ছেলের সঙ্গে ঘনিষ্ট হওয়ার চেষ্টা করতো। অপহরণকারী ইসমাইল হোসেন জীবন ওরফে আকাশ শিশু ইমরানকে অসৎ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময় চকলেট ও চিপস্ কিনে দিয়ে তার সঙ্গে ঘনিষ্ট হওয়ার চেষ্টা করতো।
আশরাফ হোসেন সিদ্দিক বলেন, গত বছরের ১৫ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ইমরানকে (৪) ভাড়া বাসা থেকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুজির পর শিশুটির কোনো সন্ধান না পাওয়ায় ভিকটিমের মা রাশিদা পাগলপ্রায় হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে আসামির মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন।
রাশিদা খাতুন আকাশের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে আসামি জানায়, তার ছেলেকে কাগজপত্র করে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। রাশিদা খাতুন তার ছেলেকে পাওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় আসামির সঙ্গে যোগাযোগ করলে সে অনৈতিক প্রস্তাব দিত এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতো।
পুলিশ জানায়, রাশিদা খাতুন তার ছেলেকে ফিরে পাওয়ার জন্য দীর্ঘ ৮ মাস ধরে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও তার অপহৃত ছেলেকে উদ্ধার করতে পারেনি। রাশিদা খাতুনের লেখাপড়া না থাকায় এবং কারো কাছ থেকে সঠিক পরামর্শ না পাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তার ছেলেকে উদ্ধারের বিষয়ে কোনো আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারেনি। একজন সন্তান হারানো মায়ের আহাজারিতে যখন আকাশ বাতাশ ভারী হয় তখন বিষয়টি ডিবির দৃষ্টি গোচরে আসলে আমরা দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করি।
ডিবি ওয়ারী বিভাগের ডিসি আরও বলেন, রাশিদা খাতুন দক্ষিনখানের জামতলা আলমাস উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়ায় থাকতেন। তিনি উত্তরার বিভিন্ন বাসা বাড়িতে গৃহ পরিচারিকার কাজ করতেন। গত ৬ বছর আগে পার্শ্ববর্তী থানার মো. মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় রাশিদা খাতুনের সঙ্গে। বিয়ের দুই বছর পর রাশিদা খাতুনের একমাত্র পুত্র সন্তান জন্মলাভ করে। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে এ বিষয়ে জানা যাবে।
নিউজ লাইট ৭১























