বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলোকিত চরাঞ্চলের ৬ গ্রাম

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৬:৩৭:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ মার্চ ২০২১
  • / 158

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন ভারতের সীমান্তবর্তী একটি এলাকা। গোদাগাড়ীর বিদিরপুর রেল বাজার থেকে আধা ঘণ্টায় পদ্মা নদী পার হয়ে সেখানে পৌঁছতে হয়। সৌর বিদ্যুৎ থেকে উৎপন্ন আলোয় আলোকিত হচ্ছে চরআষাড়িয়াদহ। তবে বিদ্যুতের দাম বেশি হওয়ায় হতাশ ইউনিয়নের বাসিন্দারা। 

ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, চরআষাড়িয়াদহ ইউনিয়নে মোট ৩০ হাজার মানুষের বসবাস। সব মানুষের দোরগোড়ায় বিদ্যুতের ছোঁয়া পৌঁছাতে না পারলেও প্রায় ১৩ হাজার মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)। সরকারের এই সংস্থার আওতাধীন প্রতিষ্ঠান আভা-মিনি গ্রিড প্রজেক্ট চর আষাড়িয়াদহে ৫৯৪ পিস সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে ৬টি গ্রামে বিদ্যুতের সেবা দিচ্ছে। এসব সৌর প্যানেলের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা ১৪৮ দশমিক ৫০ কিলোওয়াট। এর মাধ্যমে ১৩০০ মিটার চালানো হয়। 

একটি মিটারের অধীনে ১০ জন মানুষ থাকলে প্রায় ১৩ হাজার মানুষ বিদ্যুতের সেবা পেয়ে থাকে। চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের আষাড়িয়াদহ, পানিপার, ভুবনপাড়া, কানপাড়া, হনুমান্ত নগর ও নওশেরা গ্রামের মানুষ বিদ্যুতের সেবা পেয়ে থাকেন। আভা-মিনি প্রজেক্টের প্ল্যান্ট ম্যানেজার প্রকৌশলী মিল্লাত হোসেন জানান, ২০১৫ সালের ৬ নভেম্বর সৌর প্যানেলের কার্যক্রম শুরু হয়। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ছয়টি গ্রামের বিদ্যুতের লাইন স্থাপন করা হয়। দিনে সৌর প্যানেলগুলো সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ সংগ্রহ করে। সেই জমাকৃত বিদ্যুৎ সংযোগ লাইনের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যায়। চাহিদার তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ উৎপন্ন হলে সেগুলো জমা থাকে। সেই জমাকৃত বিদ্যুৎ রাতে সরবরাহ করা হয়। একটি মিটার থেকে কয়েকটি বাল্ব, ফ্যান ও টেলিভিশন চালানো যায়। 

ভুবনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, আগে মোবাইলে চার্জ দিতে পদ্মা নদী নৌকায় পার হয়ে ওই পারে যেতে হতো। এখন সেই সমস্যা নেই। সৌর প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পেয়ে আলো জ্বালানো যায়, টিভি দেখতে পারি আর ফ্যানের বাতাস তো পাওয়া যায়। রাতে ছেলেমেয়েরা বিদ্যুতের আলোয় পড়ালেখা করতে পারে। 

কানপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলেয়া বানু বলেন, বিদ্যুৎ আসার পরে গ্রামের অনেক পরিবর্তনই হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুতের কারণে রাতে আলো জ্বালানো যায়। আগে অন্ধকারে কষ্ট হতো। তবে বিদ্যুতের দাম অনেক বেশি। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৌর প্রতিটি মিটার প্রি-পেইড। আগে টাকা দিয়ে ইউনিট কিনে নিয়ে যেতে হয়। প্রতি ইউনিটের মূল্য ৩০ টাকা। 

কানপাড়া এলাকার বাসিন্দা তাইফুল ইসলাম বলেন, শহরের মানুষ যেখানে ৭ টাকা ইউনিট প্রতি খরচ করে সেখানে আমাদের খরচ করতে হয় ইউনিট প্রতি ৩০ টাকা। এত টাকা খরচ করা সম্ভব হয় না। এ জন্য হিসাব করে প্রতিটি পরিবারই বিদ্যুৎ খরচ করে। মাসে চারশ টাকার বেশি কেউ খরচ করতে চায় না।

নিউজ লাইট ৭১

Tag :

শেয়ার করুন

আলোকিত চরাঞ্চলের ৬ গ্রাম

আপডেট টাইম : ০৬:৩৭:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ মার্চ ২০২১

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন ভারতের সীমান্তবর্তী একটি এলাকা। গোদাগাড়ীর বিদিরপুর রেল বাজার থেকে আধা ঘণ্টায় পদ্মা নদী পার হয়ে সেখানে পৌঁছতে হয়। সৌর বিদ্যুৎ থেকে উৎপন্ন আলোয় আলোকিত হচ্ছে চরআষাড়িয়াদহ। তবে বিদ্যুতের দাম বেশি হওয়ায় হতাশ ইউনিয়নের বাসিন্দারা। 

ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, চরআষাড়িয়াদহ ইউনিয়নে মোট ৩০ হাজার মানুষের বসবাস। সব মানুষের দোরগোড়ায় বিদ্যুতের ছোঁয়া পৌঁছাতে না পারলেও প্রায় ১৩ হাজার মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)। সরকারের এই সংস্থার আওতাধীন প্রতিষ্ঠান আভা-মিনি গ্রিড প্রজেক্ট চর আষাড়িয়াদহে ৫৯৪ পিস সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে ৬টি গ্রামে বিদ্যুতের সেবা দিচ্ছে। এসব সৌর প্যানেলের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা ১৪৮ দশমিক ৫০ কিলোওয়াট। এর মাধ্যমে ১৩০০ মিটার চালানো হয়। 

একটি মিটারের অধীনে ১০ জন মানুষ থাকলে প্রায় ১৩ হাজার মানুষ বিদ্যুতের সেবা পেয়ে থাকে। চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের আষাড়িয়াদহ, পানিপার, ভুবনপাড়া, কানপাড়া, হনুমান্ত নগর ও নওশেরা গ্রামের মানুষ বিদ্যুতের সেবা পেয়ে থাকেন। আভা-মিনি প্রজেক্টের প্ল্যান্ট ম্যানেজার প্রকৌশলী মিল্লাত হোসেন জানান, ২০১৫ সালের ৬ নভেম্বর সৌর প্যানেলের কার্যক্রম শুরু হয়। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ছয়টি গ্রামের বিদ্যুতের লাইন স্থাপন করা হয়। দিনে সৌর প্যানেলগুলো সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ সংগ্রহ করে। সেই জমাকৃত বিদ্যুৎ সংযোগ লাইনের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যায়। চাহিদার তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ উৎপন্ন হলে সেগুলো জমা থাকে। সেই জমাকৃত বিদ্যুৎ রাতে সরবরাহ করা হয়। একটি মিটার থেকে কয়েকটি বাল্ব, ফ্যান ও টেলিভিশন চালানো যায়। 

ভুবনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, আগে মোবাইলে চার্জ দিতে পদ্মা নদী নৌকায় পার হয়ে ওই পারে যেতে হতো। এখন সেই সমস্যা নেই। সৌর প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পেয়ে আলো জ্বালানো যায়, টিভি দেখতে পারি আর ফ্যানের বাতাস তো পাওয়া যায়। রাতে ছেলেমেয়েরা বিদ্যুতের আলোয় পড়ালেখা করতে পারে। 

কানপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলেয়া বানু বলেন, বিদ্যুৎ আসার পরে গ্রামের অনেক পরিবর্তনই হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুতের কারণে রাতে আলো জ্বালানো যায়। আগে অন্ধকারে কষ্ট হতো। তবে বিদ্যুতের দাম অনেক বেশি। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৌর প্রতিটি মিটার প্রি-পেইড। আগে টাকা দিয়ে ইউনিট কিনে নিয়ে যেতে হয়। প্রতি ইউনিটের মূল্য ৩০ টাকা। 

কানপাড়া এলাকার বাসিন্দা তাইফুল ইসলাম বলেন, শহরের মানুষ যেখানে ৭ টাকা ইউনিট প্রতি খরচ করে সেখানে আমাদের খরচ করতে হয় ইউনিট প্রতি ৩০ টাকা। এত টাকা খরচ করা সম্ভব হয় না। এ জন্য হিসাব করে প্রতিটি পরিবারই বিদ্যুৎ খরচ করে। মাসে চারশ টাকার বেশি কেউ খরচ করতে চায় না।

নিউজ লাইট ৭১