মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘুষ বাণিজ্য

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৭:৩২:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২১
  • / 124

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার ২৩৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন ইএফটি করতে পৌনে তিন লাখ টাকা ঘুষ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সালমা আক্তারের বিরুদ্ধে। এছাড়াও বিদ্যালয় উন্নয়নের বরাদ্দ থেকে অন্তত ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সালমা আক্তার ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরেই তার বিরুদ্ধে কতিপয় শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ভুয়া অভিযোগ দিয়েছেন।

অর্থিক লেনদেন সম্পর্কে তিনি বলেন, ইএফটি ও বিদ্যালয়ের নাম সংশোধনের জন্য শিক্ষকরা কম্পিউটারের জন্য ইন্টারনেট, প্রিন্টারের কালি ও কাগজ কিনে দিয়েছেন। কিন্তু তাদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেননি তিনি। অন্যান্য খাতেও স্বচ্ছতার সঙ্গে আর্থিক লেনদেন হয়েছে, কোনো দুর্নীতি হয়নি। সব কিছুই আমার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র।

এসব বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল হক বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষা কর্মকর্তার বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে এবং অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইএফটি পূরণ বাবদ প্রত্যেক শিক্ষকের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে উৎকোচ দাবি করেন। কোনো শিক্ষক দিতে অস্বীকার করলে ওই শিক্ষকের ইএফটি পূরণ বন্ধ করে দেন। ফলে উপজেলার সকল শিক্ষক বাধ্য হয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়ে ইএফটি পূরণ করেন। এছাড়াও বিদ্যালয় উন্নয়নে সিøপের বরাদ্দ থেকে আত্মসাৎ করেছেন অন্তত তিন লাখ টাকা।

২০২০ সালে উপজেলার ২৩৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিজয় ফুল প্রতিযোগিতা ও ইন্টারনেট বরাদ্দের তিন হাজার ১৫০ টাকা থেকে নিয়মের তোয়াক্কা না করে প্রধান শিক্ষকদের ২০০০ টাকা করে নিতে বাধ্য করেন।

অভিযোগ রয়েছে, এখান থেকেও কমপক্ষে দুই লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। ২০১৯-২০ অর্থ বছরের আন্তঃপ্রাথমিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে বেশ কয়েকজন প্রধান শিক্ষক অপকটে স্বীকার করে বলেন, এ নিয়ে কথা বললে পরবর্তী সময়ে নানাভাবে হয়রানি করেন শিক্ষা কর্মকর্তা সালমা আক্তার।facebook sharing button

 whatsapp sharing buttonনিউজ লাইট ৭১

Tag :

শেয়ার করুন

ঘুষ বাণিজ্য

আপডেট টাইম : ০৭:৩২:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২১

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার ২৩৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন ইএফটি করতে পৌনে তিন লাখ টাকা ঘুষ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সালমা আক্তারের বিরুদ্ধে। এছাড়াও বিদ্যালয় উন্নয়নের বরাদ্দ থেকে অন্তত ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সালমা আক্তার ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরেই তার বিরুদ্ধে কতিপয় শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ভুয়া অভিযোগ দিয়েছেন।

অর্থিক লেনদেন সম্পর্কে তিনি বলেন, ইএফটি ও বিদ্যালয়ের নাম সংশোধনের জন্য শিক্ষকরা কম্পিউটারের জন্য ইন্টারনেট, প্রিন্টারের কালি ও কাগজ কিনে দিয়েছেন। কিন্তু তাদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেননি তিনি। অন্যান্য খাতেও স্বচ্ছতার সঙ্গে আর্থিক লেনদেন হয়েছে, কোনো দুর্নীতি হয়নি। সব কিছুই আমার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র।

এসব বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল হক বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষা কর্মকর্তার বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে এবং অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইএফটি পূরণ বাবদ প্রত্যেক শিক্ষকের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে উৎকোচ দাবি করেন। কোনো শিক্ষক দিতে অস্বীকার করলে ওই শিক্ষকের ইএফটি পূরণ বন্ধ করে দেন। ফলে উপজেলার সকল শিক্ষক বাধ্য হয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়ে ইএফটি পূরণ করেন। এছাড়াও বিদ্যালয় উন্নয়নে সিøপের বরাদ্দ থেকে আত্মসাৎ করেছেন অন্তত তিন লাখ টাকা।

২০২০ সালে উপজেলার ২৩৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিজয় ফুল প্রতিযোগিতা ও ইন্টারনেট বরাদ্দের তিন হাজার ১৫০ টাকা থেকে নিয়মের তোয়াক্কা না করে প্রধান শিক্ষকদের ২০০০ টাকা করে নিতে বাধ্য করেন।

অভিযোগ রয়েছে, এখান থেকেও কমপক্ষে দুই লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। ২০১৯-২০ অর্থ বছরের আন্তঃপ্রাথমিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে বেশ কয়েকজন প্রধান শিক্ষক অপকটে স্বীকার করে বলেন, এ নিয়ে কথা বললে পরবর্তী সময়ে নানাভাবে হয়রানি করেন শিক্ষা কর্মকর্তা সালমা আক্তার।facebook sharing button

 whatsapp sharing buttonনিউজ লাইট ৭১