মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বনের নানান সম্পদ লুটতে

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৪:৫০:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২১
  • / 150

বার বার অগ্নিকান্ডের ঘটনায় আয়তন কমেছে বৃহত্তর ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট সুন্দরবনের। সংঘঠিত হওয়া অগ্নিকান্ডে বনের হাজার হাজার গাছ পালা পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় এখন অনেকটা ফাঁকা সুন্দরবন। তবে বনকে তার পুরানো চেহারায় ফিরে যেতে ও আগুনের ক্ষত শুকাতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের। 

প্রানী ও মৎস্য এবং মধু সহ বনের নানান সম্পদ লুটতে একাধিক চক্র সক্রিয় হওয়ার কারনে বার বার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটছে সুন্দরবনে। অপরদিকে, বন সংশ্লিষ্ট এলাকার টহল ফাঁড়িগুলোতে পাহারার কাজে ২/৪ জন বনকর্মী থাকলেও বনজ সম্পদ পাচারকারী চক্রের কাছে তারা নিজেরাই অসহায়। তবে, বনবিভাগের দাবী সুন্দরবন লাগোয়া ঘনবসতি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জন্য এখন হুমকি। বনে যে সকল অপরাধ সংঘঠিত হচ্ছে তার অধিকাংশ ঘটনার সাথে ওই জনবসতিদের কারো না কারো সম্পৃক্তা থাকে। তাছাড়া আধুনিক সুযোগ সুবিধা সহ চরম জনবল সংকটের কারনে নিরন্তন চেষ্টা করেও অপরাধী চক্রের লাগাম টানতে পারছেনা বনবিভাগ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুন্দরবনের নানা সম্পদ লুটতে প্রভাবশালী চক্র বনসংলগ্ন এলাকার জনবসতিদের মধ্যে কিছু অসাধু ব্যাক্তিকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে বনের অভ্যন্তরে পাঠিয়ে বহু অপরাধমূলক কর্মকান্ড করতে বাধ্য করে। গত ১৭ বছরে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২৫ বার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলেও কখোনোই আইনের আওতায় আসেনি প্রভাবশালী চক্রের সদস্যদের কেউ। 

সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর এলাকা ইতিমধ্যে সংরক্ষিত হিসেবে ঘোষন করা হয়েছে। কিন্তু ওই সকল জলাশয়ের মাছ, বনের মধু সহ বনজ ও প্রানী সম্পদ লুটের উদ্দেশ্যে প্রভাবশালী চক্র অসাধু বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করে থাকেন। ২০০৪ সাল হতে গত ১৭ বছরে সুন্দরবনের যে সব এলাকা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ওই সব এলাকাগুলো আজও পুরোপুরি সাভাবিক হয়ে ওঠেনি। এলাকা গুলোতে নেই প্রাণীকুলের তেমন বিচরণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, দফায় দফায় অগ্নিকান্ডের ঘটনায় সুন্দরবনের ওই সকল স্থানের জীবজন্তু, পশু-পাখি অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। তাছাড়া এভাবে বার বার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলে সুন্দরবন সুরক্ষা করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়াবে।

নাম গোপন রাখার শর্তে বন সংলগ্ন এলাকার দুই সমাজ সেবক বলেন, সুন্দরবনের পার্শ্বে বসবাসরত বাসিন্দাদের মধ্যে কিছু অসাধু ব্যাক্তি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাদের ছত্র-ছায়ায় থেকে সুন্দরবনে ঢুকে অতি লোভে বিষ দিয়ে মাছ শিকার ও ফাঁদ পেতে হরিণ শিকারের পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে বাঘ হত্যায়ও জড়িয়ে পড়ে। এছাড়া শুস্কু মৌসুমে এলেই অবৈধভাবে বিভিন্ন জলাশয়ের মাছ এবং আগুনের কুন্ডালী সাজিয়ে মধু সংগ্রহ করে থাকেন  কতিপয় অসাধু পেশাজীবীরা। তাছাড়া বনরক্ষীদের তেমন কোন টহল ব্যাবস্থা না থাকায় পর্যটক সহ সাধারন মানুষের বনের অভ্যন্তরে অবাধ যাতায়াত থাকায় বন্ধ করা যাচ্ছে না সুন্দরবনের নাশকতার আগুন। এমনকি রাজনৈতিক দলের কিছু নেতা অনেক সময় বনরক্ষীদের উপর প্রভাব খাটিয়ে বনের প্রাকৃতিক সম্পদ লুটের ধান্ধায় তৎপর হয়ে ওঠে। তাই প্রভাবশালীদের কথা অনুযায়ী কাজ না করলে সুন্দরবনে পেশাজীবির কাজ করতে পারেন না বনসংলগ্ন এলাকার অনেক পরিবার। 

তবে, পেশাজীবীর কাজ করতে গিয়ে যারা বন ধংসের খেলায় মেতে উঠেন তাদের সহ প্রভাবশালী চক্রের লাগাম টানতে না পারলে সুন্দরবন  হুমকির মুখে পড়তে পারে। এছাড়া এপর্যন্ত বহুবার আগুনের ঘটনা ঘটলেও বনবিভাগ শুধু মাত্র তদন্ত কমিটি করেই দায় সেরেছেন। কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পারেননি তারা। এছাড়া প্রভাবশালী চক্রের সংশ্লিষ্টতা থাকলেও কখনোই তাদের আলোর সামনে দেখা যায়নি এবং আজ পর্যন্ত কেউ তাদের বিচারের মুখোমুখি দাড় করাতেও পারেননি। অথচ সুন্দরবনের কোন ঘটনা ঘটলে মাঝখান থেকে অযথা হয়রানির শিকার হন এলাকার সাধারন মানুষ।

বনসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা প্রভাষক মো. কামাল হোসেন তালুকদার বলেন, পুর্ব বনের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর, কলমতেজী ও নাংলী এলাকায় প্রবেশ করলে বনের কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে তেমন কোন গাছপালা দেখা যায় না। চোখে পড়ে শুধু ঘাস আর লতাপাতা। সংশ্লিষ্ট এলাকার বনরক্ষীদের ম্যানেজ করে স্থানীয় কিছু লোক বছর জুড়ে তাদের পালিত মহিষগুলোকে জঙ্গলে ঘাস খাওয়ায়। ওই মহিষগুলো দেখা শুনার কাজে নিয়োজিত রাখালদের বিড়ি-সিগারেটের ফেলে দেওয়া ফিল্টারের মাধ্যমেও অনেক সময় সুন্দরবনে আগুনের ঘটনা ঘটতে পারে। পাশাপাশি বনে অবৈধ যাতায়াত বন্ধে বনরক্ষীদের  সর্বদা কঠোর নজরদারী থাকা উচিত। এছাড়া কোন স্বার্থান্বেষী মহল সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে আগুন খেলা খেলতে পারে। 

সুন্দরবন সুরক্ষার কাজে নিয়োজিত সুন্দরবন সহ ব্যাবস্থাপনা সংগঠন (সিএমসির) শরনখোলা রেঞ্জের সহ সভাপতি ও শরনখোলা উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি মো. আব্দুল ওয়াদুদ আকন বলেন, বনে আগুন দেয়া একটি বড় ধরনের নাশকতা। তাই দুর্বৃত্তায়নের হাত থেকে সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হলে বনবিভাগের জনবল বৃদ্ধি সহ বনরক্ষীদের আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি ২৪ ঘন্টা কঠোর নজরদারী সহ প্রভাবশালী চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। 

চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মো. এনামুল হক বলেন, এবারের অগ্নিকান্ডে সুন্দবনের তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে বনের কিছু অংশের লতা-পাতা পুড়ে গেছে। খরব পেয়ে তাৎক্ষনিক বনবিভাগ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথ চেষ্টা চালিয়ে আগুন বিনাশ করেছেন। পাশাপাশি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ইতোমধ্যে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে এবং বনের ওই এলাকায় নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাছাড়া আগুনের কারণ অনুসন্ধান করে আগামী সাত কর্ম দিবসের মধ্যে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তবে, বন সংলগ্ন জনবসতি এখন সুন্দরবনের জন্য অনেকটা হুমকির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। 

এ ব্যাপারে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্তকর্তা (ডিএফও) মুহম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, শীঘ্রই সুন্দবনের জনবল সংকট দুর করে বনরক্ষীদের আরো দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য তাদের ট্রেনিংয়ের ব্যাবস্থা করা হবে। তাছাড়া মরে যাওয়া ভোলা নদী খনন সহ সীমানায় কাঁটা তারের বেড়া দেওয়ার জন্য একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। পাশাপাশি আগুন সহ চোরা কারবারীদের গতিবিধির উপর নজর রাখতে সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া পূর্বে অগ্নিকান্ডের  সকল ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। ওই সকল অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে বলে আশা করেন তিনি।

নিউজ লাইট ৭১

Tag :

শেয়ার করুন

বনের নানান সম্পদ লুটতে

আপডেট টাইম : ০৪:৫০:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২১

বার বার অগ্নিকান্ডের ঘটনায় আয়তন কমেছে বৃহত্তর ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট সুন্দরবনের। সংঘঠিত হওয়া অগ্নিকান্ডে বনের হাজার হাজার গাছ পালা পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় এখন অনেকটা ফাঁকা সুন্দরবন। তবে বনকে তার পুরানো চেহারায় ফিরে যেতে ও আগুনের ক্ষত শুকাতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের। 

প্রানী ও মৎস্য এবং মধু সহ বনের নানান সম্পদ লুটতে একাধিক চক্র সক্রিয় হওয়ার কারনে বার বার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটছে সুন্দরবনে। অপরদিকে, বন সংশ্লিষ্ট এলাকার টহল ফাঁড়িগুলোতে পাহারার কাজে ২/৪ জন বনকর্মী থাকলেও বনজ সম্পদ পাচারকারী চক্রের কাছে তারা নিজেরাই অসহায়। তবে, বনবিভাগের দাবী সুন্দরবন লাগোয়া ঘনবসতি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জন্য এখন হুমকি। বনে যে সকল অপরাধ সংঘঠিত হচ্ছে তার অধিকাংশ ঘটনার সাথে ওই জনবসতিদের কারো না কারো সম্পৃক্তা থাকে। তাছাড়া আধুনিক সুযোগ সুবিধা সহ চরম জনবল সংকটের কারনে নিরন্তন চেষ্টা করেও অপরাধী চক্রের লাগাম টানতে পারছেনা বনবিভাগ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুন্দরবনের নানা সম্পদ লুটতে প্রভাবশালী চক্র বনসংলগ্ন এলাকার জনবসতিদের মধ্যে কিছু অসাধু ব্যাক্তিকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে বনের অভ্যন্তরে পাঠিয়ে বহু অপরাধমূলক কর্মকান্ড করতে বাধ্য করে। গত ১৭ বছরে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২৫ বার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলেও কখোনোই আইনের আওতায় আসেনি প্রভাবশালী চক্রের সদস্যদের কেউ। 

সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর এলাকা ইতিমধ্যে সংরক্ষিত হিসেবে ঘোষন করা হয়েছে। কিন্তু ওই সকল জলাশয়ের মাছ, বনের মধু সহ বনজ ও প্রানী সম্পদ লুটের উদ্দেশ্যে প্রভাবশালী চক্র অসাধু বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করে থাকেন। ২০০৪ সাল হতে গত ১৭ বছরে সুন্দরবনের যে সব এলাকা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ওই সব এলাকাগুলো আজও পুরোপুরি সাভাবিক হয়ে ওঠেনি। এলাকা গুলোতে নেই প্রাণীকুলের তেমন বিচরণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, দফায় দফায় অগ্নিকান্ডের ঘটনায় সুন্দরবনের ওই সকল স্থানের জীবজন্তু, পশু-পাখি অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। তাছাড়া এভাবে বার বার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলে সুন্দরবন সুরক্ষা করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়াবে।

নাম গোপন রাখার শর্তে বন সংলগ্ন এলাকার দুই সমাজ সেবক বলেন, সুন্দরবনের পার্শ্বে বসবাসরত বাসিন্দাদের মধ্যে কিছু অসাধু ব্যাক্তি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাদের ছত্র-ছায়ায় থেকে সুন্দরবনে ঢুকে অতি লোভে বিষ দিয়ে মাছ শিকার ও ফাঁদ পেতে হরিণ শিকারের পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে বাঘ হত্যায়ও জড়িয়ে পড়ে। এছাড়া শুস্কু মৌসুমে এলেই অবৈধভাবে বিভিন্ন জলাশয়ের মাছ এবং আগুনের কুন্ডালী সাজিয়ে মধু সংগ্রহ করে থাকেন  কতিপয় অসাধু পেশাজীবীরা। তাছাড়া বনরক্ষীদের তেমন কোন টহল ব্যাবস্থা না থাকায় পর্যটক সহ সাধারন মানুষের বনের অভ্যন্তরে অবাধ যাতায়াত থাকায় বন্ধ করা যাচ্ছে না সুন্দরবনের নাশকতার আগুন। এমনকি রাজনৈতিক দলের কিছু নেতা অনেক সময় বনরক্ষীদের উপর প্রভাব খাটিয়ে বনের প্রাকৃতিক সম্পদ লুটের ধান্ধায় তৎপর হয়ে ওঠে। তাই প্রভাবশালীদের কথা অনুযায়ী কাজ না করলে সুন্দরবনে পেশাজীবির কাজ করতে পারেন না বনসংলগ্ন এলাকার অনেক পরিবার। 

তবে, পেশাজীবীর কাজ করতে গিয়ে যারা বন ধংসের খেলায় মেতে উঠেন তাদের সহ প্রভাবশালী চক্রের লাগাম টানতে না পারলে সুন্দরবন  হুমকির মুখে পড়তে পারে। এছাড়া এপর্যন্ত বহুবার আগুনের ঘটনা ঘটলেও বনবিভাগ শুধু মাত্র তদন্ত কমিটি করেই দায় সেরেছেন। কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পারেননি তারা। এছাড়া প্রভাবশালী চক্রের সংশ্লিষ্টতা থাকলেও কখনোই তাদের আলোর সামনে দেখা যায়নি এবং আজ পর্যন্ত কেউ তাদের বিচারের মুখোমুখি দাড় করাতেও পারেননি। অথচ সুন্দরবনের কোন ঘটনা ঘটলে মাঝখান থেকে অযথা হয়রানির শিকার হন এলাকার সাধারন মানুষ।

বনসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা প্রভাষক মো. কামাল হোসেন তালুকদার বলেন, পুর্ব বনের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর, কলমতেজী ও নাংলী এলাকায় প্রবেশ করলে বনের কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে তেমন কোন গাছপালা দেখা যায় না। চোখে পড়ে শুধু ঘাস আর লতাপাতা। সংশ্লিষ্ট এলাকার বনরক্ষীদের ম্যানেজ করে স্থানীয় কিছু লোক বছর জুড়ে তাদের পালিত মহিষগুলোকে জঙ্গলে ঘাস খাওয়ায়। ওই মহিষগুলো দেখা শুনার কাজে নিয়োজিত রাখালদের বিড়ি-সিগারেটের ফেলে দেওয়া ফিল্টারের মাধ্যমেও অনেক সময় সুন্দরবনে আগুনের ঘটনা ঘটতে পারে। পাশাপাশি বনে অবৈধ যাতায়াত বন্ধে বনরক্ষীদের  সর্বদা কঠোর নজরদারী থাকা উচিত। এছাড়া কোন স্বার্থান্বেষী মহল সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে আগুন খেলা খেলতে পারে। 

সুন্দরবন সুরক্ষার কাজে নিয়োজিত সুন্দরবন সহ ব্যাবস্থাপনা সংগঠন (সিএমসির) শরনখোলা রেঞ্জের সহ সভাপতি ও শরনখোলা উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি মো. আব্দুল ওয়াদুদ আকন বলেন, বনে আগুন দেয়া একটি বড় ধরনের নাশকতা। তাই দুর্বৃত্তায়নের হাত থেকে সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হলে বনবিভাগের জনবল বৃদ্ধি সহ বনরক্ষীদের আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি ২৪ ঘন্টা কঠোর নজরদারী সহ প্রভাবশালী চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। 

চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মো. এনামুল হক বলেন, এবারের অগ্নিকান্ডে সুন্দবনের তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে বনের কিছু অংশের লতা-পাতা পুড়ে গেছে। খরব পেয়ে তাৎক্ষনিক বনবিভাগ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথ চেষ্টা চালিয়ে আগুন বিনাশ করেছেন। পাশাপাশি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ইতোমধ্যে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে এবং বনের ওই এলাকায় নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাছাড়া আগুনের কারণ অনুসন্ধান করে আগামী সাত কর্ম দিবসের মধ্যে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তবে, বন সংলগ্ন জনবসতি এখন সুন্দরবনের জন্য অনেকটা হুমকির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। 

এ ব্যাপারে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্তকর্তা (ডিএফও) মুহম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, শীঘ্রই সুন্দবনের জনবল সংকট দুর করে বনরক্ষীদের আরো দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য তাদের ট্রেনিংয়ের ব্যাবস্থা করা হবে। তাছাড়া মরে যাওয়া ভোলা নদী খনন সহ সীমানায় কাঁটা তারের বেড়া দেওয়ার জন্য একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। পাশাপাশি আগুন সহ চোরা কারবারীদের গতিবিধির উপর নজর রাখতে সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া পূর্বে অগ্নিকান্ডের  সকল ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। ওই সকল অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে বলে আশা করেন তিনি।

নিউজ লাইট ৭১