সংসদ সদস্যদের বসবাসের জন্য নির্মিত ভবন ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে যাচ্ছে
- আপডেট টাইম : ০৬:০৭:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২০
- / 96
৭১: সংসদ সদস্যদের বসবাসের জন্য নির্মিত ভবন ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে যাচ্ছে। ভবনের বেশকিছু কক্ষ নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমতায় এখানে ঠাঁই মিলছে সাংবৎসরিক কর্মচারীদেরও।
জাতীয় সংসদ ভবনে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সংসদ কমিটির বৈঠকের কার্যপত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। কমিটির সভাপতি চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য এ বি তাজুল ইসলাম, ইকবালুর রহিম, ফজলে হোসেন বাদশা, নূর মোহাম্মদ, মনজুর হোসেন এবং শওকত হাচানুর রহমান (রিমন) অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া বিশেষ আমন্ত্রণে সংসদ-সদস্য ভবন ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক মো. সাইফুজ্জামান, যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিদ ইজাহার খান এবং যুগ্ম আহ্বায়ক নার্গিস রহমান অংশ নেন।
জানা গেছে, নাখালপাড়া পুরাতন সংসদ সদস্য ভবনের ২১টি কক্ষ ১৫ দিনের মধ্যে খালি করে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের অনুকূলে বুঝিয়ে দেয়ার সুপারিশ করে ‘সংসদ কমিটি’। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে সংসদ ভবন শাখা ও গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-১ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বসবাসের জন্য সংসদ সচিবালয়ের সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস এর অনুকূলে ২০টি কক্ষ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে সংসদ কমিটিকে জানানো হয়েছে।
এর মধ্য দিয়ে সংসদ সদস্যদের বাসভবন চলে গেল নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে। শুধু তাই না সংসদ ভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নাখালপাড়া থেকে সংসদ ভবনে আনা নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবহন ব্যবস্থার সুপারিশও করে সংসদ কমিটি। সে বিষয়ে পুলিশ কমিশনার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ/পরিবহন শাখা সংসদ সচিবালয়ের পরিবহন শাখাকে গত ২ মার্চ ও ২৮ অক্টোবর দুটি চিঠি দিয়েছে। তবে সেই চিঠির কোন অগ্রগতি নেই বলে কমিটিকে জানানো হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।
এদিকে রাষ্ট্রপতির অভিপ্রায় অনুযায়ী বিশেষ কোটায় নাখালপাড়া পুরাতন সংসদ সদস্য ভবনে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সাংবৎসরিক অফিস সহায়ক আজমাইন রাসেলকে একটি কক্ষ দেয়ার সুপারিশ করলে সেটি বাস্তবায়ন করেছে সংসদ ভবন শাখা। এছাড়া মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও নাখালপাড়ার সংসদ সদস্য ভবনে তেলাপোকা ও ইঁদুরের উপদ্রব নিয়মিত প্রশমন করার সুপারিশ করে সংসদ কমিটি।
সংসদ সচিবালয় জানায়, বৈঠকের শুরুতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালো রাত্রিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও তার পরিবারের সদস্যসহ অন্যান্য যারা শহীদ হয়েছেন, ২১ আগস্টে শাহাদাত বরণকারী এবং করোনা মহামারীতে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
বৈঠকে সংসদ-সদস্য ভবনসমূহের ফ্ল্যাট বরাদ্দের বিদ্যমান শর্তাবলির পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংশোধন বিষয়ে আলোচনা করা হয় এবং সংসদ-সদস্য ভবনসমূহের ফ্ল্যাট বরাদ্দের নীতিমালা পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া মানিক মিয়া অ্যাভিনিউস্থ ৪, ৫ ও ৬ নং সংসদ সদস্য ভবনের ফ্ল্যাটসমূহের তেলাপোকা-উইপোকা নির্মূলের ব্যবস্থা গ্রহণ, ১নং ভবনের ন্যায় গাড়ি পার্কিং এর ব্যবস্থা ও পুরাতন মসজিদকে সংস্কারপূর্বক আধুনিকীকরণের জন্য সুপারিশ করে। এছাড়া মানিক মিয়া অ্যাভিনিউস্থ সংসদ সদস্য ভবনের সামনে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিটি করপোরেশন ও ওয়াসাকে বলা হয়।
বৈঠকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউস্থ ও নাখালপাড়াস্থ সংসদ সদস্য ভবন, পুরাতন সংসদ সদস্য ভবন এবং মন্ত্রী হোস্টেলস্থ স্থায়ী কমিটির সভাপতিবৃন্দের কার্যালয়কে সিসিটিভির আওতায় আনা এবং অগ্নি-নির্বাপণ যন্ত্রপাতি স্থাপনের জন্য সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউস্থ এবং নাখালপাড়াস্থ সংসদ সদস্য ভবনের সামনে সাইনবোর্ড/বিল বোর্ডসহ যাবতীয় ব্যানার এবং সংসদ ভবন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুর দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও পিডব্লিউডিয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।






















