বাথরুমের দুর্গন্ধ দূর হচ্ছে না? জেনে নিন কারণ
- আপডেট টাইম : ০৯:৩১:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
- / 13
বাথরুম নিয়মিত পরিষ্কার করার পরও অনেক সময় দুর্গন্ধ থেকে যায়। কখনো স্যাঁতসেঁতে গন্ধ, কখনো পচা ডিমের মতো গন্ধ, আবার কখনো দুর্গন্ধের উৎস খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এয়ার ফ্রেশনার ব্যবহার করেও সমস্যার সমাধান হয় না। মূলত বাথরুমের এমন কিছু জায়গা ও ব্যবহার্য সামগ্রী রয়েছে, যেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করলে দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে।
বাথরুমে পানি ও আর্দ্রতা বেশি থাকায় ঠিকমতো পরিষ্কার এবং শুকনো না রাখলে জীবাণু ও ছত্রাক জন্মানোর আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া জমে থাকা ময়লা, চুল কিংবা ভেজা কাপড় থেকেও দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে। অনেক সময় এমন কিছু জায়গায় ময়লা জমে, যেগুলো পরিষ্কারের সময় সহজেই চোখ এড়িয়ে যায়। বাথরুমে দুর্গন্ধের সাতটি সম্ভাব্য কারণ ও তা থেকে মুক্তির উপায় জেনে নেওয়া যাক।
১. বেসিন ও গোসলের স্থানের ড্রেনে ময়লা
বেসিন কিংবা গোসলের স্থানের পানিনিষ্কাশন পাইপে চুল, সাবানের অংশ ও অন্যান্য ময়লা জমে যেতে পারে। এতে পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন এসব ময়লা পরিষ্কার না করলে সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে।
যা করবেন: হাতে গ্লাভস পরে ড্রেনের মুখে জমে থাকা চুল ও ময়লা সরিয়ে ফেলুন। প্রয়োজনে ড্রেন পরিষ্কারের বিশেষ তার বা সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারেন। ভবিষ্যতে চুল আটকে রাখার জন্য ড্রেনের মুখে ছাঁকনি লাগানো যেতে পারে।
পাইপের ময়লা পরিষ্কারে অনেকে বেকিং সোডা ও ভিনেগার ব্যবহার করেন। তবে পাইপে গুরুতরভাবে ময়লা জমে গেলে এ পদ্ধতি সব সময় কার্যকর হয় না। বিশেষ করে রাসায়নিক ড্রেন পরিষ্কারক, ভিনেগার, ব্লিচ কিংবা অন্য কোনো পরিষ্কারক একসঙ্গে মেশানো যাবে না। এতে বিপজ্জনক গ্যাস তৈরি হতে পারে।
২. ভেজা তোয়ালে
গোসলের পর অনেকেই তোয়ালে বাথরুমে ঝুলিয়ে রাখেন। কিন্তু সেখানে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা ভালো না থাকলে তোয়ালে সহজে শুকায় না। দীর্ঘ সময় ভেজা অবস্থায় থাকলে এতে জীবাণু ও ছত্রাক জন্মাতে পারে। ফলে তোয়ালে থেকে স্যাঁতসেঁতে ও বাসি গন্ধ ছড়ায়। এমনকি সেই গন্ধ শরীরেও লেগে যেতে পারে।
যা করবেন: তিন থেকে চারবার ব্যবহারের পর গোসলের তোয়ালে ধুয়ে ফেলুন। তোয়ালের পরিচর্যার নির্দেশনা অনুযায়ী উপযুক্ত তাপমাত্রার পানিতে ধোয়া যেতে পারে। কাপড়ের ধরন অনুমতি দিলে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ধোয়া সম্ভব। তবে অতিরিক্ত ডিটারজেন্ট বা ফ্যাব্রিক সফটনার ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রতিবার ব্যবহারের পর তোয়ালে ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়াও জরুরি।
৩. টুথব্রাশ রাখার পাত্র
টুথব্রাশ রাখার পাত্র থেকেও বাথরুমে দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে। ব্রাশ থেকে ঝরে পড়া পানি, টুথপেস্টের অবশিষ্টাংশ ও ময়লা পাত্রের ভেতরে জমে থাকে। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করলে পাত্রের তলায় পিচ্ছিল আস্তরণ তৈরি হয়। সেখান থেকেই ছড়াতে পারে অস্বস্তিকর গন্ধ।
যা করবেন: নিয়মিত টুথব্রাশ রাখার পাত্র খালি করে গরম সাবানপানি দিয়ে ধুয়ে নিন। পাত্রের ভেতরের অংশের পাশাপাশি তলাও ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। ধোয়ার পর শুকিয়ে আবার ব্যবহার করুন। ব্রাশগুলো এমনভাবে রাখুন, যাতে পানি ঝরে পড়ে এবং সহজে শুকিয়ে যায়।
৪. ইলেকট্রিক টুথব্রাশের মাথার নিচে জমে থাকা ময়লা
ইলেকট্রিক টুথব্রাশ ব্যবহারকারীদের এর খোলা যায় এমন মাথার নিচের অংশও পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। সেখানে পানি, টুথপেস্ট ও লালার অবশিষ্টাংশ জমতে পারে। নিয়মিত পরিষ্কার না করলে পিচ্ছিল ময়লা কিংবা ছত্রাকের আস্তরণ তৈরি হয়। একসময় সেখান থেকেও দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে।
যা করবেন: প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুসরণ করে টুথব্রাশের মাথা খুলে পরিষ্কার করুন। সরু জায়গায় জমে থাকা ময়লা দূর করতে নরম ও ছোট ব্রাশ ব্যবহার করা যেতে পারে। পরিষ্কারের পর অংশগুলো ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। সাধারণত তিন মাস পরপর টুথব্রাশের মাথা পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে ব্রিসল নষ্ট হয়ে গেলে নির্ধারিত সময়ের আগেই বদলে ফেলুন।
৫. কমোডের আশপাশের ম্যাট
কমোডের সামনে বা আশপাশে ব্যবহৃত কাপড়ের ম্যাটেও দুর্গন্ধের কারণ লুকিয়ে থাকতে পারে। এতে পানির ছিটা, প্রস্রাব ও অন্যান্য ময়লা জমে যায়। নিয়মিত পরিষ্কার না করলে সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। ভেজা ম্যাটে জীবাণু ও ছত্রাক জন্মানোর পরিবেশও তৈরি হয়।
যা করবেন: সপ্তাহে অন্তত একবার ম্যাট ধুয়ে ফেলুন। এর পরিচর্যার নির্দেশনা অনুযায়ী গরম পানিতে ধোয়া যেতে পারে। ধোয়ার পর পুরোপুরি শুকিয়ে বাথরুমে বিছিয়ে দিন। পাশাপাশি ম্যাটের নিচের মেঝেও নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। সহজে ধোয়া ও শুকানো যায়, এমন ম্যাট ব্যবহার করাই ভালো।
৬. গোসলের পর ব্যবহৃত বাথরোব
অনেকে গোসলের পর শরীর মোছা বা ঢাকার জন্য বাথরোব ব্যবহার করেন। কিন্তু নিয়মিত পরিষ্কার না করলে এটিও দুর্গন্ধের উৎস হয়ে উঠতে পারে। এতে ঘাম, শরীরের তেল, ক্রিম ও প্রসাধনীর অবশিষ্টাংশ জমে থাকে। ভেজা শরীরে পরার কারণে কাপড়টি আর্দ্র হয়ে যায়। ফলে ধীরে ধীরে দুর্গন্ধ তৈরি হয়।
যা করবেন: নিয়মিত ব্যবহার করলে সপ্তাহে অন্তত একবার বাথরোব ধুয়ে নিন। ধোয়ার আগে এর পকেট খালি করুন এবং আলাদা বেল্ট থাকলে সেটিও পরিষ্কার করুন। ব্যবহারের পর এমন জায়গায় ঝুলিয়ে রাখুন, যেখানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে। এতে কাপড়টি দ্রুত শুকাবে।
৭. গোসলের পর্দায় ছত্রাক
গোসলের জায়গায় ব্যবহৃত পর্দা থেকেও দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে। প্রতিবার গোসলের সময় পর্দা ভিজে যায়। এরপর সেটি ভাঁজ করে বা গুটিয়ে রাখলে সহজে শুকাতে পারে না। দীর্ঘ সময় আর্দ্র অবস্থায় থাকায় সেখানে ছত্রাক জন্মানোর আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে পর্দার নিচের দিকে কালচে দাগ ও স্যাঁতসেঁতে গন্ধ দেখা দিতে পারে।
যা করবেন: পর্দার উপাদান ও পরিচর্যার নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত পরিষ্কার করুন। প্লাস্টিক বা ভিনাইলের অনেক পর্দা ওয়াশিং মেশিনের মৃদু ধোয়ার পদ্ধতিতে পরিষ্কার করা যায়। কাপড়ের পর্দার ক্ষেত্রেও উপযুক্ত ডিটারজেন্ট ও পানির তাপমাত্রা ব্যবহার করতে হবে।
ছত্রাকের দাগ দূর করতে পর্দার উপাদানের উপযোগী পরিষ্কারক ব্যবহার করুন। ব্লিচ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দেশনা মেনে চলুন এবং অন্য কোনো পরিষ্কারকের সঙ্গে মেশাবেন না। গোসলের পর পর্দা ভাঁজ না করে পুরোপুরি ছড়িয়ে রাখুন। এতে দ্রুত শুকিয়ে যাবে।
দুর্গন্ধ এড়াতে আরও যা করবেন
বাথরুমে দুর্গন্ধ তৈরির অন্যতম কারণ আর্দ্রতা। তাই সেখানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা জরুরি। সম্ভব হলে এগজস্ট ফ্যান চালান অথবা জানালা খুলে দিন। ভেজা কাপড়, তোয়ালে ও ম্যাট দীর্ঘ সময় বাথরুমে ফেলে রাখবেন না। নিয়মিত পরিষ্কারের পাশাপাশি কোথাও পানি জমে থাকছে কি না, সেদিকেও খেয়াল রাখুন।
তবে বাথরুমের সব দুর্গন্ধের কারণ ময়লা কিংবা ছত্রাক নয়। ড্রেন থেকে পচা ডিমের মতো গন্ধ বের হলে, দীর্ঘদিন পরিষ্কারের পরও দুর্গন্ধ না কমলে কিংবা পানি নিষ্কাশনে সমস্যা দেখা দিলে পাইপ, ড্রেনের ট্র্যাপ বা পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থায় ত্রুটি থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ প্লাম্বারের সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন।
নিউজ লাইট ৭১
















