তিস্তার ভাঙনে পীরগাছায় নিঃস্ব ৮০ পরিবার
- আপডেট টাইম : ১২:০১:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫
- / 50
‘সবাই খালি ছবি তুলে নিয়ে যায়, কেউ সাহায্য দেয় না। আমরা গরিব মানুষ, তিস্তার ভাঙনে ঘর ভেঙেছে, এখনো কোনো সাহায্য পাইনি,’ চরম আক্ষেপের সঙ্গে এভাবে বলছিলেন পীরগাছার ছাওলা ইউনিয়নের পানিয়ালঘাটের বাসিন্দা গোলেজা বেগম (৪৫)। তিনি জানান, তিস্তার ভাঙনে তার ৬-৭ বার বাড়ি ভেঙেছে। গাছপালা, জমিজমা সব নদীতে চলে গেছে। এখন অন্যের জায়গায় ঘর তুলে বসবাস করছেন তিনি।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) বিকেলে পানিয়ালঘাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গত ১০ থেকে ১৫ দিনে তিস্তার ভাঙনে প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি পরিবার তাদের বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। অনেকে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। সরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ৫৫টি পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেলেও, অনেকে এখনো এই সাহায্য পাননি।
ক্ষতিগ্রস্তদের একজন আনছার আলী বলেন, ‘জীবনে বহুবার নদীভাঙনের কারণে ঘর সরাতে হয়েছে। এখন নদী ভাঙছে, আর জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। শুকনো মৌসুমে এগুলো ফেলা হলে ভাঙন কম হতো। এখন এসব পানিতে চলে যাবে, কোনো কাজ হবে না।’ তিনি নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান দাবি করেন।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, ৩০ কেজি চাল দিয়ে তাদের সমস্যার সমাধান হয় না। বাড়ি সরানো বা মেরামতের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।
ছাওলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজির হোসেন জানান, ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ৬ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ৫৫টি পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। বাদ পড়া পরিবারের তালিকা তৈরি করে শিগগিরই সহায়তা দেওয়া হবে। নগদ অর্থ সহায়তার বিষয়ে বরাদ্দ পেলে তা বিতরণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেল বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত সহযোগিতার প্রয়োজন হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’
নিউজ লাইট ৭১



















