রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই কিলোমিটার জুড়ে ময়লার স্তূপ, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনজীবন

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৪:৩৫:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫
  • / 56

ছবি: নিউজ লাইট ৭১

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর শহরের দত্তনগর সড়কের পাশে প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে গড়ে উঠেছে ময়লার বিশাল স্তূপ। পৌরসভার নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় প্রতিদিন শহরের আবর্জনা ফেলা হচ্ছে এ সড়কের ধারে। তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে আশপাশের বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও পথচারীরা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ওই সড়কে চলাচলকারীদের নাক চেপে হাঁটতে হচ্ছে। দুর্গন্ধে অনেকে ভুগছেন শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগসহ নানা সমস্যায়। মাত্র ২০০ গজ দূরেই রয়েছে জীবননগর আলিয়া মাদ্রাসা ও দুটি বেসরকারি মাদ্রাসা। শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন দুর্গন্ধ পেরিয়ে যাতায়াত করছে।

স্থানীয়রা জানান, আগে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তেতুলিয়ায় ময়লা ফেলা হতো। এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে তা বন্ধ হলে বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই সড়কের পাশে ময়লা ফেলা শুরু হয়।

শাপলাকলি স্কুলের ছাত্র রিফাত হোসেন বলেন, “বর্ষাকালে গাদাগাদা ময়লার পানি রাস্তা দিয়ে গড়িয়ে যায়, গাড়ির চাপে ছিটকে পড়ে পথচারীদের গায়ে।”

অভিভাবক মিজানুর রহমান জানান, “অনেক ছাত্রছাত্রী মাস্ক পরে ক্লাসে যায়। অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি।”

পথচারী লিয়াকত আলী ও তানজিরা খাতুন জানান, দুর্গন্ধে এ রাস্তা দিয়ে চলা দায় হয়ে পড়েছে। ভ্যানযাত্রী তানজিরা বলেন, “এত দুর্গন্ধ, চলাফেরাই কষ্টের।”

স্থানীয় সাংবাদিক মাজেদুর রহমান লিটন বলেন, “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। ময়লার স্তূপ সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”

জীবননগর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক সৈয়দজাদী মাহাবুবা মঞ্জুর মৌনা জানান, “আমরা জমি খুঁজছি। উপযুক্ত জায়গা পেলেই দ্রুত ডাম্পিং স্টেশনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশবিদদের মতে, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এভাবে ময়লা ফেলা শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকির নয়, বরং এটি স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বহীনতারও প্রতিফলন। দ্রুত পরিকল্পিতভাবে আবর্জনা ব্যবস্থাপনার দাবি তুলেছেন তাঁরা।

নিউজ লাইট ৭১

Tag :

শেয়ার করুন

দুই কিলোমিটার জুড়ে ময়লার স্তূপ, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনজীবন

আপডেট টাইম : ০৪:৩৫:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর শহরের দত্তনগর সড়কের পাশে প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে গড়ে উঠেছে ময়লার বিশাল স্তূপ। পৌরসভার নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় প্রতিদিন শহরের আবর্জনা ফেলা হচ্ছে এ সড়কের ধারে। তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে আশপাশের বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও পথচারীরা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ওই সড়কে চলাচলকারীদের নাক চেপে হাঁটতে হচ্ছে। দুর্গন্ধে অনেকে ভুগছেন শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগসহ নানা সমস্যায়। মাত্র ২০০ গজ দূরেই রয়েছে জীবননগর আলিয়া মাদ্রাসা ও দুটি বেসরকারি মাদ্রাসা। শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন দুর্গন্ধ পেরিয়ে যাতায়াত করছে।

স্থানীয়রা জানান, আগে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তেতুলিয়ায় ময়লা ফেলা হতো। এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে তা বন্ধ হলে বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই সড়কের পাশে ময়লা ফেলা শুরু হয়।

শাপলাকলি স্কুলের ছাত্র রিফাত হোসেন বলেন, “বর্ষাকালে গাদাগাদা ময়লার পানি রাস্তা দিয়ে গড়িয়ে যায়, গাড়ির চাপে ছিটকে পড়ে পথচারীদের গায়ে।”

অভিভাবক মিজানুর রহমান জানান, “অনেক ছাত্রছাত্রী মাস্ক পরে ক্লাসে যায়। অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি।”

পথচারী লিয়াকত আলী ও তানজিরা খাতুন জানান, দুর্গন্ধে এ রাস্তা দিয়ে চলা দায় হয়ে পড়েছে। ভ্যানযাত্রী তানজিরা বলেন, “এত দুর্গন্ধ, চলাফেরাই কষ্টের।”

স্থানীয় সাংবাদিক মাজেদুর রহমান লিটন বলেন, “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। ময়লার স্তূপ সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”

জীবননগর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক সৈয়দজাদী মাহাবুবা মঞ্জুর মৌনা জানান, “আমরা জমি খুঁজছি। উপযুক্ত জায়গা পেলেই দ্রুত ডাম্পিং স্টেশনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশবিদদের মতে, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এভাবে ময়লা ফেলা শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকির নয়, বরং এটি স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বহীনতারও প্রতিফলন। দ্রুত পরিকল্পিতভাবে আবর্জনা ব্যবস্থাপনার দাবি তুলেছেন তাঁরা।

নিউজ লাইট ৭১