জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে দ্রুত ব্যবস্থা নিন
- আপডেট টাইম : ১০:৫১:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৫
- / 51
সরকার পতনের পর সাধারণ মানুষ অনেকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল কিন্তু যে লাউ সেই কদু। বাজারে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকার নানাভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে কিন্তু কোনো ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতি সপ্তাহেই বদলে যাচ্ছে পণ্যের মূল্য তালিকা। একটার পর একটা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে সিন্ডিকেট। মূলত খাদ্যপণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকায় খাদ্য মূল্যস্ফীতির হারও ধারাবাহিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। লাগামহীন মূল্যস্ফীতিতে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে।
নিত্যপণ্যের অসহনীয় দামে ক্রেতারা দিশাহারা। এরমধ্যে বেসামাল চালের বাজার। নানা উদ্যোগের পরেও নিয়ন্ত্রণে আসছে না চালের বাজার। আমদানি বৃদ্ধি, ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি, অভিযানসহ কোনো উদ্যোগই বাড়তি দামের লাগাম টানতে কাজে লাগছে না। হঠাৎ করেই দফায় দফায় চালের দাম ৫ টাকা থেকে ১০ টাকার বেশি বেড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। দুঃখজনক হলেও সত্য- শুধু গত এক বছরেই চালভেদে দাম ১৪-১৯ শতাংশ বেড়েছে। কোনোভাবেই বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না সরকার।
এবার বাজারে চোখ রাঙাচ্ছে মাছ ও মাংসের দাম। সবজির কমলেও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ ও মাংস। তবে চোখ রাঙাচ্ছে মাছ-মাংস। মাছ-মাংসের দাম বাড়ছেই। এতে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা। গত বৃহস্পতিবার রাতে যে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৯৫ টাকা কেজিতে, রাত পেরিয়ে ভোর হতে না হতেই একই দোকানে একই মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা কেজি দরে। এভাবে প্রতি শুক্রবারই মাছ-মাংসসহ প্রায় সব ধরনের পণ্যেরই দাম বেড়ে যায়। প্রায় প্রতিটি পণ্যেরই দাম বেড়ে যায় কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত।
বাজার সরেজমিনে দেখা গেছে, শুক্রবারের বাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকায়, যা বৃহস্পতিবার রাতেও ছিল ১৯৫-২০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়াও দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত, যা একদিন আগেই বিক্রি হয়েছে ৬০০ টাকা কেজিতে। এছাড়াও সাদা লেয়ার ২৫০ টাকা ও লাল লেয়ার ৩০০ টাকায় এবং প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩২০ টাকায়। এগুলোও রাতের ফলে ব্যবধানে অন্তত ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত কেজিপ্রতি বেশিতে বিক্রি হচ্ছে। ফলে নিম্ন আয়সম্পন্ন মানুষ ছাড়াও মধ্যবিত্তরাও তাদের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। যার ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।
অন্তর্বর্তী সরকারের চার মাস পার হলেও বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়নি। দেশের প্রধান কয়েকটি সমস্যার মধ্যে অন্যতম সমস্যা হলো দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। দুর্বল অর্থনীতির দেশে এটা এক বড় সমস্যা। ফলে নিম্ন আয়সম্পন্ন মানুষ ছাড়াও মধ্যবিত্তরাও তাদের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। নিত্যপণ্যের বাজারে মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা। প্রায় দুই বছর ধরে ভোগ্যপণ্যের বাজারে বেসামাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরাই কারসাজি করে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন হলো- এখন কারা কারসাজি করছে? বাজারে যে অস্থিরতা সৃষ্টির নেপথ্যে সিন্ডিকেট সক্রিয়, এটি বহুল আলোচিত। দুঃখজনক হলেও সত্য- শত চেষ্টা করেও পণ্যের ঊর্ধ্বগতির লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। উল্টো যৌক্তিক কোনো কারণ ছাড়াই বাড়ছে দাম।
সরকার শুল্ক-কর কমিয়ে আনার পরেও বাজারে কোনো ইতিবাচক বার্তা নেই। পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে সব উদ্যোগ। অন্তর্বর্তী সরকার পাঁচ মাসেও বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়নি। শুধু মাছ-মাংস নয়, প্রতিটি তরি-তরকারির দাম সাধারণ ভোক্তার নাগালের বাইরে। এই অবস্থায় মানুষ রীতিমতো দিশাহারা।
সর্বোপরি, নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবনে বয়ে আনছে অমানিশার ঘোর অন্ধকার। জনসাধারণের স্বস্তির জায়গা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। সরকার পরিবর্তনের ফলে মানুষের মধ্যে যে প্রত্যাশা জš§ নিয়েছিল, ক্রমেই তা হতাশায় রূপ নিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এটি যদি সত্য হয় তাহলে ব্যর্থতা কাদের? বাজার কেন নিয়ন্ত্রণে আসছে না। এমন প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে। তাই বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
নিউজ লাইট ৭১













