রোগ-বালাই মুক্ত বাতাস চাই
- আপডেট টাইম : ১০:৪৫:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মার্চ ২০২৪
- / 82
দেশে বায়ুদূষণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শিশুসহ সব বয়সী মানুষের অ্যাজমা, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন ধরনের শ্বাসতন্ত্রের রোগ। বায়ুদূষণের জন্য শ্বাসতন্ত্রের রোগ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। ইদানিংকালে অনেকেরই হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দিচ্ছে। পরে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পর অ্যাজমা শনাক্ত হয়েছে এমন ঘটনা কম নয়।
এখন ঢাকা শহরের প্রায় সব রাস্তার কাজ চলছে, প্রচুর ধুলা। দুটা মাস্ক পরেও ধুলা থেকে রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না। সে কারণে শ্বাসকষ্ট বাড়ছে। সুইজারল্যান্ডের বায়ুদূষণ এবং বায়ু পরিশোধন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা সংস্থা আইকিউএয়ারের সমীক্ষায় উঠে এসেছে, বাংলাদেশের বাতাসের মান বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বাতাসের মধ্যে উপস্থিত পার্টিকল বা সূক্ষ্ম কণা পিএম-২.৫ এর গড় বার্ষিক মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ৫ মাইক্রোগ্রামের বেশি হওয়া উচিত নয়। কিন্তু ২০২১ সালে বাংলাদেশের প্রতি ঘনমিটার বায়ুতে পিএম-২.৫ এর গড় মাত্রা ছিল ৭৬.৯ মাইক্রোগ্রাম।
চিকিৎসকেরা বলেন, পিএম-২.৫ অতিসূক্ষ্ম হওয়ায় সহজেই মানুষের শ্বাসতন্ত্রে ঢুকে পড়ছে, পরবর্তী সময়ে যা পুরো শরীরকে আক্রান্ত করছে। এ থেকে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। স্বল্পমেয়াদে এ বস্তুকণা মাথাব্যথা, শ্বাসতন্ত্রের রোগসহ নানা ব্যাধি সৃষ্টি করছে। দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুস ক্যান্সার, কিডনিসহ বিভিন্ন রোগ বাড়ছে। বায়ুদূষণজনিত রোগে দেশে কত সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, তার নির্দিষ্ট কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নেই। তবে ডাক্তারেরা বলছেন, বায়ুদূষণজনিত রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার ক্রমশ বাড়ছে।
ঢাকা শিশু হাসপাতালের অ্যাজমা সেন্টারের সমন্বয়ক ডা. কামরুজ্জামান কামরুল এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, শ্বাসতন্ত্রের রোগের সঙ্গে ধুলাবালির সরাসরি সম্পর্ক আছে। ধুলাবালির কারণে অ্যাজমা রোগীদের কষ্ট বেড়ে যায়। শিশুদের ব্রংকিউলাইটিস, নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, যক্ষ্মা এসব রোগ ধুলাবালির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তাই বায়ুদূষণ কমানোর বিকল্প নেই। অ্যাজমা সেন্টারে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, ডাস্ট অ্যালার্জি ও অ্যাজমা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এখন দিনে ২৫০-৩০০ রোগী আসছে, কোভিডের আগে এ সংখ্যা ২০০ এর কম ছিল।
বায়ুদূষণের মাত্রা বৃদ্ধির সাথে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা, প্রতিবন্ধকতা এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং ডায়াবেটিস নিউমোনিয়ার মতো রোগে আক্রান্তের এবং মৃত্যুর হার অনেকাংশে বেড়েছে। ২০২১ সালে রাজধানীর জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল আউটডোর ও ইমার্জেন্সি মিলিয়ে ২ লাখ ১০ হাজার রোগীর চিকিৎসা দিয়েছে।
সাত বছর আগে ২০১৬ সালে হাসপাতালটির আউটডোর ও ইমার্জেন্সি মিলিয়ে সেবা নেয় ৮৫ হাজার রোগী। বাংলাদেশে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রোগী ফুসফুসের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত, এর মধ্যে শুধু অ্যাজমাতে আক্রান্ত ৭০ লাখ মানুষ। বায়ুদূষণের কারণে প্রথমে আক্রান্ত হয় ফুসফুস ও শ্বাসনালি। অব্যাহত বায়ুদূষণে অ্যাজমা, অ্যালার্জি, নিউমোনিয়া, সিওপিডি ও ফুসফুসের ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ বাড়ছে।
অথচ এ দূষণ কমানোর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। দূষণমুক্ত পরিবেশ না হলে রোগ বালাই বাড়বেই পরিবেশ দূষণ আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর এক নতুন চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেয়ার বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে সরকারে সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ গ্রহণ একান্ত জরুরি।
নিউজ লাইট ৭১













