বাংলাদেশি যুবক হত্যা, বিএসএফের নামে মামলা
- আপডেট টাইম : ০৭:২৮:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩
- / 34
কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহতের ঘটনায় বাহিনীটির অজ্ঞাতনামা সদস্যদের আসামি করে রৌমারী থানায় মামলা হয়েছে। গত রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত ১২টার নিহতের বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন।
মঙ্গলবার সকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রৌমারী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুপ কুমার সরকার।
তিনি বলেন, ভারতীয় সীমান্তে মানিক মিয়া হত্যার ঘটনায় নিহত যুবকের বাবা বাদী হয়ে বিএসএফের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ওসি আরও বলেন, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদনের প্রাথমিকভাবে বাঁ পাঁজরে একটি ছোট ফুটো এবং বুকের ডান দিকে আরেকটি ফুটো ছিল। উদ্ধার হওয়া লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এর আগে রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের একটি ঝুপড়ি থেকে মানিক মিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের বেহুলারচর গ্রামের আবদুল বাতেনের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে পুলিশ জানায়, রোববার ভোরে একদল গরু ব্যবসায়ী মোল্লারচর সীমানাপিলারের পাশ দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু পাচার করছিলেন। এ সময় টহলরত কুচনিমারা ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে পরপর চারটি গুলি করেন। এতে মানিক মিয়া বুক ও কোমরে গুলিবিদ্ধ হয়ে ভারতের অভ্যন্তরে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সঙ্গে থাকা লোকজন তাকে উদ্ধার করে রৌমারী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তারা মামলার ভয়ে উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের বাঞ্ছারচর গ্রামের নিহত মানিকের খালাতো ভাই আবদুল মোতালেবের বাড়িতে লাশ নিয়ে যান। পরে খবর পেয়ে রোববার বিকেলে পুলিশ ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ভারতীয় সীমান্তে অবৈধ পথে গরু পাচার করতে গেলে বিএসএফের গুলিতে মানিক মিয়ার মৃত্যু হয়। তিনি সীমান্তে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। রৌমারী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা। এসব সীমান্ত এলাকায় কয়েক শ যুবক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত।
এদিকে সীমান্তে গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহতের ঘটনায় সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়েছে। এ বিষয়ে রৌমারী সীমান্তের দায়িত্বে থাকা জামালপুর বিজিবি-৩৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মাশরুকী বলেন, পতাকা বৈঠকে বিএসএফ জানিয়েছে, তাদের সীমানায় সন্দেহভাজনদের অনুপ্রবেশের কারণে তারা গুলি ছুড়েছে। গুলির ঘটনায় আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি।
নিউজ লাইট ৭১























