শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাটি খুঁড়ে পাট জাগ

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৭:৪২:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ জুলাই ২০২২
  • / 18

ছবি: নিউজ লাইট ৭১

এবার বন্যায় দেশের একাধিক এলাকা প্লাবিত হলেও পানির অভাবে পড়েছে ফরিদপুরবাসী। জেলার অন্যান্য উপজেলার মতো পানির অভাব প্রকট হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন এখানকার প্রধান অর্থকরী ফসল পাট চাষিরা।

প্রতিবছর এই সময় বর্ষায় খাল-বিল, নদী-নালা ও নিচু জমি পানিতে ভরে ওঠে। তবে এ বছর সেই দৃশ্য নেই। নদ-নদীতে পানির সামান্য প্রবাহ থাকলেও খাল-বিল একেবারেই পানিশূন্য। যে কারণে চলতি মৌসুমে সোনালী আঁশ পাট পঁচানো নিয়ে চিন্তার ছাপ কৃষকদের চোখে-মুখে।

বন্যার পানির অপেক্ষায় থাকতে থাকতে একদিকে মরে যাচ্ছে পাটের গাছ। সেইসাথে মরে যাচ্ছে কৃষকদের সোনালী স্বপ্ন। শেষমেষ কোনো উপায় না পেয়ে অনেক কৃষকরা বাড়ির আঙিনায় মাটি খুঁড়ে পাট জাগ দিচ্ছেন।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, পানির অভাবে শুকনো জায়গা গর্ত করে পাট জাগ দেয়ার ব্যবস্থা করছেন কৃষকেরা। অনেকেই আবার পুকুরে শ্যালোমেশিন দিয়ে পানি ভরে সেখানে পাট জাগ দিচ্ছেন। এতে কৃষকদের অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হচ্ছে।

সালথা উপজেলার ভাওয়ালের মধ্যদিয়ে বয়ে যাওয়া কুমার নদীর পানিতে দেখা যায় ২ ইঞ্চি পরিমাণ পাট পঁচনের ময়লার স্তর। ওই এলাকার কৃষক কাইয়ুম মোল্যা বলেন, কুমার নদীর পানি এতটাই বিষাক্ত হয়ে গেছে যে, পাট জাগ দিতে গিয়ে আমার শরীরে পঁচন (ঘা) শুরু হয়ে গেছে। যার কারণে দুই সপ্তাহ ধরে পানিতে নামতে পারছি না।

হৃদয় হোসেন নামে আরেক কৃষক বলেন, পানির অভাবে পাট কাটতে পারছি না। রোদে পুড়ে লালচে হয়ে ক্ষেতেই পাট মরে যাচ্ছে। জমির পাট কাটতে গত বছরের তুলনায় এবার দ্বিগুণ খরচও গুণতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে পাট নিয়ে আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই।

উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের পাটচাষি হারুন মিয়া ও ভাওয়াল ইউনিয়নের পুরুরা সাধুপাড়া গ্রামের পাট চাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে আমাদের হাহাকার দশা। অনাবৃষ্টি আর নদ-নদীর অব্যবস্থাপনার কারণে চরম পানি সংকটে পড়েছি আমরা। ফলে কিছুটা রেটিং পদ্ধতিতে পানির অভাবে মাটি খুঁড়ে গর্ত করে পাট জাগ দিচ্ছি।

তারা আরও বলেন, সালথার প্রায় প্রতিটি গ্রামের ভেতর বয়ে গেছে কুমার নদসহ ছোট ছোট নদী ও খাল। যদিও আষাঢ়-শ্রাবণ দুই মাস বর্ষাকাল। অন্যান্য বছর এই সময় নদ-নদী ও খাল-বিলে পর্যাপ্ত পানি থাকতো। কিন্তু এবার সেই চিত্র দেখা যাচ্ছে না।

কৃষকরা জানিয়েছেন, ফরিদপুর স্লুইজ গেইট খুলে দিলেই সালথার নদ-নদী ও খাল-বিল পানিতে ভরে যাবে। এতে তাদের পানির অভাব পুরণ হতে পারে। তাই দ্রুত স্লুইজ গেইট খুলে দেয়ার দাবি জানান তারা।

সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জীবাংশু দাস বলেন, সালথার প্রধান অর্থকরী ফসল হচ্ছে পাট। এবারো ৮টি ইউনিয়নে মোট ১৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হচ্ছে। মাঠের সার্বিক পরিস্থিতিও ভালো ছিল। কিন্তু এবার পানির সংকটে বিপাকে কৃষকেরা। এটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, এখানে কারো হাত নেই। তাছাড়া মানুষ যদি পুকুর আর ডোবাগুলো ভরাট না করতো তাহলে শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে পানি দিয়ে পাট পঁচানো যেতো। আর যদি কেউ এ রেবোন রেটিং ব্যবহার করতে চায় আমি সহযোগিতা করতে পারবো।

নিউজ লাইট ৭১

 

facebook sharing button
twitter sharing button
messenger sharing button
sharethis sharing button

 

Tag :

শেয়ার করুন

মাটি খুঁড়ে পাট জাগ

আপডেট টাইম : ০৭:৪২:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ জুলাই ২০২২

এবার বন্যায় দেশের একাধিক এলাকা প্লাবিত হলেও পানির অভাবে পড়েছে ফরিদপুরবাসী। জেলার অন্যান্য উপজেলার মতো পানির অভাব প্রকট হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন এখানকার প্রধান অর্থকরী ফসল পাট চাষিরা।

প্রতিবছর এই সময় বর্ষায় খাল-বিল, নদী-নালা ও নিচু জমি পানিতে ভরে ওঠে। তবে এ বছর সেই দৃশ্য নেই। নদ-নদীতে পানির সামান্য প্রবাহ থাকলেও খাল-বিল একেবারেই পানিশূন্য। যে কারণে চলতি মৌসুমে সোনালী আঁশ পাট পঁচানো নিয়ে চিন্তার ছাপ কৃষকদের চোখে-মুখে।

বন্যার পানির অপেক্ষায় থাকতে থাকতে একদিকে মরে যাচ্ছে পাটের গাছ। সেইসাথে মরে যাচ্ছে কৃষকদের সোনালী স্বপ্ন। শেষমেষ কোনো উপায় না পেয়ে অনেক কৃষকরা বাড়ির আঙিনায় মাটি খুঁড়ে পাট জাগ দিচ্ছেন।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, পানির অভাবে শুকনো জায়গা গর্ত করে পাট জাগ দেয়ার ব্যবস্থা করছেন কৃষকেরা। অনেকেই আবার পুকুরে শ্যালোমেশিন দিয়ে পানি ভরে সেখানে পাট জাগ দিচ্ছেন। এতে কৃষকদের অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হচ্ছে।

সালথা উপজেলার ভাওয়ালের মধ্যদিয়ে বয়ে যাওয়া কুমার নদীর পানিতে দেখা যায় ২ ইঞ্চি পরিমাণ পাট পঁচনের ময়লার স্তর। ওই এলাকার কৃষক কাইয়ুম মোল্যা বলেন, কুমার নদীর পানি এতটাই বিষাক্ত হয়ে গেছে যে, পাট জাগ দিতে গিয়ে আমার শরীরে পঁচন (ঘা) শুরু হয়ে গেছে। যার কারণে দুই সপ্তাহ ধরে পানিতে নামতে পারছি না।

হৃদয় হোসেন নামে আরেক কৃষক বলেন, পানির অভাবে পাট কাটতে পারছি না। রোদে পুড়ে লালচে হয়ে ক্ষেতেই পাট মরে যাচ্ছে। জমির পাট কাটতে গত বছরের তুলনায় এবার দ্বিগুণ খরচও গুণতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে পাট নিয়ে আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই।

উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের পাটচাষি হারুন মিয়া ও ভাওয়াল ইউনিয়নের পুরুরা সাধুপাড়া গ্রামের পাট চাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে আমাদের হাহাকার দশা। অনাবৃষ্টি আর নদ-নদীর অব্যবস্থাপনার কারণে চরম পানি সংকটে পড়েছি আমরা। ফলে কিছুটা রেটিং পদ্ধতিতে পানির অভাবে মাটি খুঁড়ে গর্ত করে পাট জাগ দিচ্ছি।

তারা আরও বলেন, সালথার প্রায় প্রতিটি গ্রামের ভেতর বয়ে গেছে কুমার নদসহ ছোট ছোট নদী ও খাল। যদিও আষাঢ়-শ্রাবণ দুই মাস বর্ষাকাল। অন্যান্য বছর এই সময় নদ-নদী ও খাল-বিলে পর্যাপ্ত পানি থাকতো। কিন্তু এবার সেই চিত্র দেখা যাচ্ছে না।

কৃষকরা জানিয়েছেন, ফরিদপুর স্লুইজ গেইট খুলে দিলেই সালথার নদ-নদী ও খাল-বিল পানিতে ভরে যাবে। এতে তাদের পানির অভাব পুরণ হতে পারে। তাই দ্রুত স্লুইজ গেইট খুলে দেয়ার দাবি জানান তারা।

সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জীবাংশু দাস বলেন, সালথার প্রধান অর্থকরী ফসল হচ্ছে পাট। এবারো ৮টি ইউনিয়নে মোট ১৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হচ্ছে। মাঠের সার্বিক পরিস্থিতিও ভালো ছিল। কিন্তু এবার পানির সংকটে বিপাকে কৃষকেরা। এটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, এখানে কারো হাত নেই। তাছাড়া মানুষ যদি পুকুর আর ডোবাগুলো ভরাট না করতো তাহলে শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে পানি দিয়ে পাট পঁচানো যেতো। আর যদি কেউ এ রেবোন রেটিং ব্যবহার করতে চায় আমি সহযোগিতা করতে পারবো।

নিউজ লাইট ৭১

 

facebook sharing button
twitter sharing button
messenger sharing button
sharethis sharing button