স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করেই চলছে মেলা
- আপডেট টাইম : ০৫:৫৪:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ জুলাই ২০২২
- / 75
দেশে ফের বৈশ্বিক মহামারি করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতি চতুর্থ ঢেউ শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আগামী সপ্তাহগুলোতে করোনা শনাক্ত আরও বাড়তে পারে, শুরু হতে পারে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন। অথচ দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মডেল থানার সামনে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের পাশ ঘেঁষে পুরোদমে চলছে মেলা।
এতে জেলা পরিষদের অডিটোরিয়াম চত্বরে বসানো মেলায় করা হয়েছে ঘটা করে বর্ণিল আলোকসজ্জা। এতে উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি ও বর্ণিল আলোকসজ্জার ব্যাপারে সরকারি বিধি নিষেধ। পাশাপাশি পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি থেকে চট্টগ্রামের পৌঁছার অন্যতম উক্ত মহাসড়ক জুড়ে লেগে রয়েছে তীব্র যানজট। এ সময় রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ নানা ওই মহাসড়ক ব্যবহারকারী হাজার হাজার যাত্রী সাধারণকে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
যদিও হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুরজিত দত্ত এ প্রসঙ্গে বলেন, করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতি তৃতীয় ঢেউ পর্যন্ত হাটহাজারী উপজেলা ছিল চট্টগ্রাম জেলার মধ্যে সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ। করোনার চতুর্থ ঢেউ শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহগুলোতে করোনা শনাক্ত আরও বাড়তে পারে, শুরু হতে পারে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন।
অভিযোগ উঠেছে, রাউজান উপজেলার বাসিন্দা মো. হাসানসহ আরও কয়েকজন সরকার দলীয় নেতাকর্মী হাটহাজারী উপজেলা হকার্স লীগের নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্তাদের ম্যানেজ করে মেলা বসিয়েছেন। নেতাকর্মী মতে, হকার্স লীগের প্যাডে তারা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে দুই মাসের জন্য মেলার অনুমতি নিয়েছে বলে দাবী করলেও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. শাহিদুল আলম বলছেন, অনুমতির বিষয়টি তাঁর অজানা।
সরেজমিন গেয়ে দেখা গেছে, মেলার চারপাশ লাল, নীল ও হলুদ বাতিতে সয়লাব। আলোকসজ্জার ঝলকানি চোখে পড়ার মতো। আবালবৃদ্ধবনিতার কোলাহলে মুখরিত মেলা প্রাঙ্গণ। ক্রেতা-বিক্রেতার কারও মুখে মাস্ক নেই। সামাজিক দূরত্ব মানার বালাই নেই। গা ঘেঁষেইে হাঁটছেন লোকজন। মেলায় অর্ধশতাধিক অস্থায়ী দোকান রয়েছে। মেলার সবগুলো দোকানেই বর্ণিল আলোকসজ্জায় সজ্জিত।
বিদ্যুৎ অপচয়রোধে সরকারি নিদর্শনা থাকলেও তা এ মেলায় উপক্ষিত। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লোকজনের সমাগম। তাছাড়া কথিত আছে, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্তাদের ম্যানেজ করে মেলায় অবৈধভাবে দেয়া হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। বিষয়টির সত্যতা জানতে চাইলে বিউবো হাটহাজারী বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নওয়াজ আহমেদ খান বলেন, আমাদের কাছে যে কেউ বিদ্যুতের আবেদন করলে আমরা বিদ্যুৎ সংযোগ দিব। তবে, জেলা প্রশাসক কর্তৃক মেলায় অনুমোদন আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি আমাদের দেখার প্রয়োজন নাই।
মেলা আয়োজক কমিটির পরিচালক মো. হাসান বলেন, আমরা জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছি। পরক্ষণে তিনি ফের বলেন, হাটহাজারী তারা অনুমতি নিয়েছে। তবে, হাটহাজারী উপজেলা হকার্স লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল বাতেন নিকলু জানান, আমি উপজেলা হকার্স লীগের প্যাডে তাদের কথা মতো স্বাক্ষর করেছি। অনুমোদন পেয়েছে কিনা আমি কিছুই জানি না।
হাটহাজারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, আমি সদ্য যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা নাই। খবর নিয়ে দেখছি।
নিউজ লাইট ৭১
















