টিকার প্রতি দেশের মানুষের আগ্রহ বেড়েছে
- আপডেট টাইম : ০৭:৪৬:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২১
- / 109
করোনার টিকার প্রতি দেশের মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। টিকা নিতে বাড়ছে নিবন্ধনের সংখ্যা। সরকার টিকার শর্ত শিথিল করায় মঙ্গলবার তার আগের দুই দিনের তুলনায় টিকা গ্রহণ ও নিবন্ধনের সংখ্যা বেশ বেড়েছে। বিশেষ করে ৪০ বছর থেকে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হওয়ায় টিকাকেন্দ্রগুলোতে ভিড় কিছুটা বেড়েছে।
রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও টিকাদান কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়েও টিকা নেওয়ার চিত্র দেখা গেছে।
প্রথম দুই দিনের মতো মঙ্গলবারও রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও কেন্দ্রে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের টিকা নিতে দেখা গেছে। তাদের মধ্যে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও তার পরিবারের সদস্যরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন সচিবালয় ক্লিনিকে ও স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মান্নান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টিকা নিয়েছেন। তারা সবাই টিকা নেওয়ার পর দেশের মানুষকে নির্ভয়ে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
গত রবিবার থেকে সারা দেশে সরকার করোনার অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনার টিকা ‘কভিশিল্ড’ দেওয়া শুরু করেছে। টিকার তৃতীয় দিন মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে মোট টিকা নিয়েছেন ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩১৮ জন। এর মধ্যে গত ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি উদ্বোধন ও পরীক্ষামূলক ৫৬৭ জনের টিকা নেওয়ার সংখ্যাও যুক্ত করা হয়েছে।
মোট টিকাগ্রহীতাদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ মঙ্গলবার এক দিনে মোট টিকা নিয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ৮২ জন। অর্থাৎ আগের দিন সোমবারের তুলনায় গতকাল ৫৪ হাজার ৫৭৩ জন বেশি টিকা নিয়েছেন। মোট টিকাগ্রহীতাদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৭৪ হাজার ৫৮৬ জন ও নারীর সংখ্যা ২৬ হাজার ৪৯৬ জন।
পাশাপাশি বেড়েছে টিকার জন্য নিবন্ধনের সংখ্যাও। গতকাল বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোট নিবন্ধন করেছেন ৭ লাখ ২৬ হাজার জন। গত সোমবার এই সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ১৫ হাজার ৩২৬ জন। সে হিসেবে সোমবারের তুলনায় গতকাল একদিনে ২ লাখ ১০ হাজার ৬৭৪ নিবন্ধন বেশি হয়েছে।
নির্ভয়ে টিকা নিতে বললেন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা
টিকা নিয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘নো ফিলিং অ্যাট অল’। গতকাল হুইল চেয়ারে করে টিকা কেন্দ্রে আসেন।
তিনি বলেন, নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পর গত মার্চ মাস থেকে বাসায় ছিলাম। টিকা নেওয়ার পর কিছু তো টেরই পাইলাম না। নো ফিলিং অ্যাট অল। আগে যেসব ইনজেকশন নিতাম, সেগুলোতে যেমন যাতনা হতো, তাও হয়নি। করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা পেতে সবাইকে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় সাবেক অর্থমন্ত্রীর ছোট ভাই এ কে এ মুবিন, এএসএ মুইজ, বোন শাহলা খাতুন, শিপা হাফিজা, নাজিয়া খাতুন, রিও আজিজা, মুবিনের স্ত্রী লুলু মুবিন এবং মুহিতের পুত্রবধূ মানতাশা আহমেদ ছিলেন। তারাও টিকা নিয়েছেন।
এক সপ্তাহের মধ্যে সব প্রাথমিক শিক্ষককে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন।
মঙ্গলবার সচিবালয়ের ক্লিনিকে ভ্যাকসিন গ্রহণ শেষে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক আগেই দেশে ভ্যাকসিন নিয়ে আসার জন্য। প্রধানমন্ত্রী আমাদের শিক্ষার প্রতি এতই আন্তরিক যে, গত সোমবার এবং এর আগেও আমাকে ফোন করে বলেছেন তোমার সব শিক্ষককে তুমি টিকা দিয়ে নাও। যেহেতু আমরা যেকোনো সময় স্কুল খুলে দেব। যাতে আমার কোনো শিক্ষক টিকার আওতার বাইরে না থাকেন।
তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের টিকার জন্য প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা যেকোনো সময়, আজ থেকে সাত দিনের মধ্যে টিকা নেওয়া শেষ করব। আমি নিজেও নিয়েছি, আমাদের সচিবালয়ের সবাই নিয়েছে। কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। আমি অনুরোধ করব আমার শিক্ষকদের ৪০ বছরের ঊর্ধ্বে যারা পড়বেন তাদের টিকা নেওয়ার জন্য।
টিকা নিয়ে স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মান্নান বলেছেন, টিকা নিয়ে প্রথম দিকে কারও কারও মধ্যে ভয় থাকলেও এখন তা কেটে গেছে। যতটা ভয়ভীতি ছিল, এখন একেবারেই নেই। একটা উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের লাইন আছে, একের পর এক আসছে এবং টিকা দেওয়ার কোনো ঝামেলা নেই। অনেকের কাছে জানতে চেয়েছি, কিন্তু সবাই জানিয়েছেন, টিকা নেওয়ার পর কোনো অস্বস্তি তারা বোধ করছেন না।
সচিব বলেন, সামনের দিনগুলোতে আরও বেশি মানুষ আসবে এবং সামগ্রিক পরিবেশ আরও বেশি ‘উৎসবমুখর’ হবে। ইতিমধ্যে ছয় লাখের বেশি মানুষ টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন। আমরা চাইছি মানুষ নিরাপদে এবং আনন্দের সঙ্গে টিকা নেবে। ভিড় করার দরকার নেই। আমাদের সমস্ত সাপোর্ট এখানে দেওয়া আছে।
সবাইকে নিবন্ধন করে টিকা নিতে আসার আহ্বান জানিয়ে সচিব বলেন, স্পটেও রেজিস্ট্রেশন করছি, কিন্তু সবার না। বয়স্ক মানুষ চলে এসেছেন, উনার রেজিস্ট্রেশন করে দিচ্ছি, অস্থিরতার কোনো কারণ নেই। পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন আছে। আরও ভ্যাকসিন আমরা পাচ্ছি বিভিন্ন সোর্স থেকে। বাংলাদেশে দেওয়া হচ্ছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকা। সবাইকে এ টিকার দুটি ডোজ নিতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও গ্যাভির নেতৃত্বাধীন প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্স থেকেও বাংলাদেশ অক্সফোর্ডের টিকা পাবে।
সচিব বলেন, এছাড়া ফাইজারের কিছু টিকাও আসবে। আর সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে প্রতি মাসে যে ৫০ লাখ ডোজ পাওয়ার কথা, তার ফেব্রুয়ারির চালান আসার তারিখ চূড়ান্ত না হলেও সময়মতোই তা পাওয়া যাবে।
নিউজ লাইট ৭১























