শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় বেড়ে গেছে বায়ু দূষণ
- আপডেট টাইম : ০৫:৫৫:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২১
- / 99
এবারো শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় বেড়ে গেছে বায়ু দূষণ। সে কারণে মানুষের শ্বাসতন্ত্রের অসুস্থতাও বেড়েছে। গতবছর করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ শুরুর প্রথম দিকে যানবাহন, কল-কারখানাসহ সব ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকায় ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা কিছুটা কমলেও স্বস্তির শ্বাস নেয়ার মতো অবস্থায় এখনো পৌঁছায়নি।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, গত নভেম্বর থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত দেশে প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে দেশে হাঁপানি রোগীর সংখ্যা প্রায় ২৪ গুণ বেড়েছে। শ্বাসতন্ত্রের রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ১০ গুণ বেড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসজনিত রোগের চিকিৎসা নেয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৯ শতাংশ।
এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এসডো)সহ একাধিক বায়ুমান পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠানের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বায়ুমানের অবণতি হয়েছে এবং সেটা বিপজ্জনক সীমা ছাড়িয়ে গেছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তারা বলছেন, ‘মৌসুম পরিবর্তন ও বাতাসের আন্তঃসীমান্ত গতিশীলতা বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ। শীতে আন্তঃসীমান্ত গতিশীলতার বাতাসে দূষিত বায়ুকণার প্রভাব সর্বোচ্চ থাকে, যা বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান বেল্টের কারণে উত্তরদিকে প্রবাহিত হয়ে ঢাকা, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছায়।
তথ্যমতে, বাতাসের মান নির্ভর করে ভাসমান সূ² ধূলিকণার পরিমাণ (পার্টিকুলেট ম্যাটার বা পিএম-১০) এবং অতি সূ² ধূলিকণার পরিমাণের (পিএম ২.৫) ওপর, যা পরিমাপ করা হয় প্রতি ঘনমিটারে মাইক্রোগ্রাম (পার্টস পার মিলিয়ন-পিপিএম) এককে। পিএম ২.৫, পিএম ১০ ছাড়াও সালফার ডাই অক্সাইড, কার্বন মনো-অক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড ও গ্রাউন্ড লেভেল ওজোনে সৃষ্ট বায়ুদূষণ বিবেচনা করে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই তৈরি হয়। একিউআই নম্বর যত বাড়তে থাকে, বায়ুমান তত ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচিত হয়।
একিউআই শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে সেই এলাকার বাতাসকে ভালো বলা যায়। ৫১ থেকে ১০০ হলে বাতাসের মান মডারেট বা মোটামুটি গ্রহণযোগ্য ধরা হয়। একিউআই ১০১ থেকে ১৫০ হলে সেই বাতাস স্পর্শকাতর শ্রেণির মানুষের (শিশু, বৃদ্ধ, শ্বাসকষ্টের রোগী) জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা সবার জন্যই অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয়।
আর একিউআই ২০ থেকে ৩০০ হলে তা খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১ থেকে ৫০০ হলে সেই বাতাসকে বিপদজনক ধরা হয়। একিউআই বিপদজনক পর্যায়ে পৌঁছালে পুরো জনগোষ্ঠীর গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়ার শঙ্কা তৈরি হয়, যা স্বাস্থ্য সতর্কতা জারির পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।
এসডোর গবেষণা মতে, গত বছরের ১১ মাসের বায়ুমান সূচকে বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক দূষণের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল দ্বিতীয় এবং বিশ্বের শহরগুলোর মধ্যে চতুর্থ। আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ঢাকা নিয়মিতই ওপরের দিকে থাকছে। গত এক মাসে ১৮ দিনই ঢাকার বাতাস ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ ও ‘বিপদজনক’ মাত্রায় ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বায়ুদূষণ ছিল গত ১৯ জানুয়ারি, সেদিন একিউআই ওঠে ৩৬৩ এ। সেদিন সকাল ৮টার দিকে ঢাকার একিউআই ৬০৩ পর্যন্ত ওঠে।
নিউজ লাইট ৭১























