শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সবজায়গায় সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ভোট হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৭:৪৮:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১
  • / 122

দুইটি কেন্দ্র ছাড়া ৬০টি পৌরসভার সবজায়গায় সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ভোট হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর। শনিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে দ্বিতীয় ধাপের পৌরসভা ভোটগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। সচিব বলেন, নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভালো এবং গণমাধ্যমে আপনারা দেখিয়েছেন যে, সেখানে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল। সকাল থেকে ভোটাররা লাইন দিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে ভোট দিয়েছেন। দুয়েকটি জায়গায় একেবারেই নগণ্য পর্যায়ে, বলা চলে কিছু কিছু এলাকায় দুস্কৃতিকারী যারা থাকেন তারা সবসময় সুযোগ সন্ধানী থাকে। তারা নির্বাচনের কাজকে বিঘ্ন করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছে কিন্তু আমাদের নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এগুলোকে সম্পূর্ণরুপে কন্ট্রোলে নিয়েছেন এবং তারা নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার সুযোগ দেননি।

তিনি আরও বলেন, ৬০টি পৌরসভা নির্বাচনে বোয়ালমারী পৌরসভার একটি কেন্দ্রে ১২টার পরে কিছু দুস্কৃতিকারী হঠাৎ করে ঢুকে ব্যালট পেপার ছিনতাই করার চেষ্টা করেছে, বাক্স ভেঙে ফেলেছে। যেহেতু বাক্সটা ভেঙে ফেলেছে, ব্যালট পেপার নিতে না পারলেও প্রিজাইডিং অফিসার ওই কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করেছে। আরেকটা কিশোরগঞ্জে তারা ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে নিয়ে যাচ্ছিল। প্রিজাইডিং অফিসার সেটিও বন্ধ ঘোষণা করেছে। এছাড়া আমাদের ৬০টি পৌরসভার যতকেন্দ্রে আছে সব জায়গায় সুষ্ঠুভাবে সুন্দরভাবে ভোট হয়েছে। আপনারা দেখেছেন যে প্রচুর ভোটাররা সেখানে ভোট দিয়েছেন।

কিছু দুস্কৃতিকারী সব জায়গাতেই থাকে তারা চেষ্টা করে বিতর্কিত করতে এবং নির্বাচনকে ভণ্ডুল করার জন্য উল্লেখ করে সচিব বলেন, তাদের উদ্দেশ্যই থাকে যে, সুষ্ঠু নির্বাচন যাতে না হতে পারে। সেটাকে ব্যর্থ করে দিয়ে আমরা বলবো যে, নির্বাচন কমিশন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আপনাদের সহযোগিতায় অত্যন্ত সুন্দর একটি নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

ভোট পড়ার হার সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের কাছে এ পর্যন্ত যে তথ্য এসেছে তাতে ইভিএমে সর্বোচ্চ ৮০ পারসেন্ট ভোট পড়েছে। সম্পূর্ণ রেজাল্ট আসলে তখন একজাক্ট ফিগারটা দিতে পারবো। রাজশাহীর আড়ানী পৌরসভায় ইভিএমে ৮০ পারসেন্ট ভোট পড়েছে। আর ইভিএমে সবচেয়ে কম কুলিয়ারচরে ৫৫ পারসেন্ট দেখেছি। এই তথ্য আরও আগের নেয়া, এটা আরও বাড়বে। আর ব্যালটের ক্ষেত্রে রাজশাহীর বোয়ালমারীতে ৭৫ পারসেন্ট আর সব চেয়ে কম দিনাজপুরের সদরে ১৫ পারসেন্ট। এটা কিন্তু সর্বশেষ হিসাব নয়। আগের কখনো কখনো বিকেলের, কখনো দুপুরের হিসাব। আমরা চূড়ান্ত হিসাব ফলাফল পেলে বলতে পারবো।

আমরা আশা করি কোথাও কোথাও ৭০ হবে, কোথাও কোথাও ৮০ শতাংশ ভোট পড়বে। এভারেজে ৭০ থেকে ৭৫ পারসেন্ট হবে বলে আমরা মনে করি। তবে চূড়ান্তটা বলতে পারবো সব ফলাফল আসলে যোগ করেন তিনি।

এদিকে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, সব মিলিয়ে এই নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক বলা যায় না।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ডেফিনেশন আপনারা ভালো করে জানেন। নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের, রাষ্ট্রযন্ত্রের। তারা সেই আয়োজন করেছেন। এখন যদি কেউ নির্বাচনে তার প্রতিনিধি না দেন। বা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করেন। সেই জন্য ওনারা এইটা বলতেই পারেন। কিন্তু ওনারা যদি নিবাচনে না আসেন, সেই ক্ষেত্রে তো কিছু করার নাই। এটাও হতে পারে এটা ওই রাজনৈতিক দলের নিবাচনি কৌশল।

সহিংসতার বিষয়ে তিনি বলেন, আপনারাই এটি দেখিয়েছেন। আপনারা যেটি দেখিয়েছেন আমার মনে হয় ওইটাই সঠিক। সুন্দর ভোট হয়েছে। লাইন ধরে মানুষ ভোট দিয়েছে। শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট হচ্ছে।

অনেক জায়গায় অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নজরে আনলে তিনি বলেন, অনেক জায়গায় না। দুয়েকটি জায়গায়। অনেক জায়গায় বলতে বুঝায় ব্যাপক, পারসেন্টেসটা গ্রহণযোগ্য নয়, না তো নয়। ৬০টি পৌরসভায় ভোট হয়েছে। কেন্দ্র ছিল ৪০০ থেকে ৪৫০টি সেখান থেকে ৫-৭ কেন্দ্রে ছিল এটাতো একেবারে নগন্য। আর আমাদের মতো দেশে এমন কোনো নির্বাচন তো আমরা দেখি নাই যেখানে সহিংসতা না হয়। সব নির্বাচনেই হয়। কারণ এটা না করলে যারা দুস্কৃতিকারী তাদের ভালো লাগে না।

facebook sharing button নিউজ লাইট ৭১

Tag :

শেয়ার করুন

সবজায়গায় সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ভোট হয়েছে

আপডেট টাইম : ০৭:৪৮:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১

দুইটি কেন্দ্র ছাড়া ৬০টি পৌরসভার সবজায়গায় সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ভোট হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর। শনিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে দ্বিতীয় ধাপের পৌরসভা ভোটগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। সচিব বলেন, নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভালো এবং গণমাধ্যমে আপনারা দেখিয়েছেন যে, সেখানে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল। সকাল থেকে ভোটাররা লাইন দিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে ভোট দিয়েছেন। দুয়েকটি জায়গায় একেবারেই নগণ্য পর্যায়ে, বলা চলে কিছু কিছু এলাকায় দুস্কৃতিকারী যারা থাকেন তারা সবসময় সুযোগ সন্ধানী থাকে। তারা নির্বাচনের কাজকে বিঘ্ন করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছে কিন্তু আমাদের নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এগুলোকে সম্পূর্ণরুপে কন্ট্রোলে নিয়েছেন এবং তারা নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার সুযোগ দেননি।

তিনি আরও বলেন, ৬০টি পৌরসভা নির্বাচনে বোয়ালমারী পৌরসভার একটি কেন্দ্রে ১২টার পরে কিছু দুস্কৃতিকারী হঠাৎ করে ঢুকে ব্যালট পেপার ছিনতাই করার চেষ্টা করেছে, বাক্স ভেঙে ফেলেছে। যেহেতু বাক্সটা ভেঙে ফেলেছে, ব্যালট পেপার নিতে না পারলেও প্রিজাইডিং অফিসার ওই কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করেছে। আরেকটা কিশোরগঞ্জে তারা ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে নিয়ে যাচ্ছিল। প্রিজাইডিং অফিসার সেটিও বন্ধ ঘোষণা করেছে। এছাড়া আমাদের ৬০টি পৌরসভার যতকেন্দ্রে আছে সব জায়গায় সুষ্ঠুভাবে সুন্দরভাবে ভোট হয়েছে। আপনারা দেখেছেন যে প্রচুর ভোটাররা সেখানে ভোট দিয়েছেন।

কিছু দুস্কৃতিকারী সব জায়গাতেই থাকে তারা চেষ্টা করে বিতর্কিত করতে এবং নির্বাচনকে ভণ্ডুল করার জন্য উল্লেখ করে সচিব বলেন, তাদের উদ্দেশ্যই থাকে যে, সুষ্ঠু নির্বাচন যাতে না হতে পারে। সেটাকে ব্যর্থ করে দিয়ে আমরা বলবো যে, নির্বাচন কমিশন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আপনাদের সহযোগিতায় অত্যন্ত সুন্দর একটি নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

ভোট পড়ার হার সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের কাছে এ পর্যন্ত যে তথ্য এসেছে তাতে ইভিএমে সর্বোচ্চ ৮০ পারসেন্ট ভোট পড়েছে। সম্পূর্ণ রেজাল্ট আসলে তখন একজাক্ট ফিগারটা দিতে পারবো। রাজশাহীর আড়ানী পৌরসভায় ইভিএমে ৮০ পারসেন্ট ভোট পড়েছে। আর ইভিএমে সবচেয়ে কম কুলিয়ারচরে ৫৫ পারসেন্ট দেখেছি। এই তথ্য আরও আগের নেয়া, এটা আরও বাড়বে। আর ব্যালটের ক্ষেত্রে রাজশাহীর বোয়ালমারীতে ৭৫ পারসেন্ট আর সব চেয়ে কম দিনাজপুরের সদরে ১৫ পারসেন্ট। এটা কিন্তু সর্বশেষ হিসাব নয়। আগের কখনো কখনো বিকেলের, কখনো দুপুরের হিসাব। আমরা চূড়ান্ত হিসাব ফলাফল পেলে বলতে পারবো।

আমরা আশা করি কোথাও কোথাও ৭০ হবে, কোথাও কোথাও ৮০ শতাংশ ভোট পড়বে। এভারেজে ৭০ থেকে ৭৫ পারসেন্ট হবে বলে আমরা মনে করি। তবে চূড়ান্তটা বলতে পারবো সব ফলাফল আসলে যোগ করেন তিনি।

এদিকে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, সব মিলিয়ে এই নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক বলা যায় না।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ডেফিনেশন আপনারা ভালো করে জানেন। নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের, রাষ্ট্রযন্ত্রের। তারা সেই আয়োজন করেছেন। এখন যদি কেউ নির্বাচনে তার প্রতিনিধি না দেন। বা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করেন। সেই জন্য ওনারা এইটা বলতেই পারেন। কিন্তু ওনারা যদি নিবাচনে না আসেন, সেই ক্ষেত্রে তো কিছু করার নাই। এটাও হতে পারে এটা ওই রাজনৈতিক দলের নিবাচনি কৌশল।

সহিংসতার বিষয়ে তিনি বলেন, আপনারাই এটি দেখিয়েছেন। আপনারা যেটি দেখিয়েছেন আমার মনে হয় ওইটাই সঠিক। সুন্দর ভোট হয়েছে। লাইন ধরে মানুষ ভোট দিয়েছে। শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট হচ্ছে।

অনেক জায়গায় অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নজরে আনলে তিনি বলেন, অনেক জায়গায় না। দুয়েকটি জায়গায়। অনেক জায়গায় বলতে বুঝায় ব্যাপক, পারসেন্টেসটা গ্রহণযোগ্য নয়, না তো নয়। ৬০টি পৌরসভায় ভোট হয়েছে। কেন্দ্র ছিল ৪০০ থেকে ৪৫০টি সেখান থেকে ৫-৭ কেন্দ্রে ছিল এটাতো একেবারে নগন্য। আর আমাদের মতো দেশে এমন কোনো নির্বাচন তো আমরা দেখি নাই যেখানে সহিংসতা না হয়। সব নির্বাচনেই হয়। কারণ এটা না করলে যারা দুস্কৃতিকারী তাদের ভালো লাগে না।

facebook sharing button নিউজ লাইট ৭১