কর্মব্যস্ত রাজধানী রাত হলেই যেন এক আতঙ্কের নাম
- আপডেট টাইম : ০৬:০৮:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ জানুয়ারী ২০২১
- / 88
কর্মব্যস্ত রাজধানী রাত হলেই যেন এক আতঙ্কের নাম হয়ে জাগ্রত হয়। সম্প্রতি চারদিকে ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয় নগরবাসীর মনে। সন্ধ্যার পর অফিস থেকে বাসায় ফেরা কর্মজীবী নারীরা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। রাজধানীতে কখনো গলায় ছুরি ঠেকিয়ে, কখনো আবার আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে টাকা, মোবাইল ফোন ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিচ্ছে ছিনতাইকারীরা। তাদের এই কাজে বাধা দিতে গিয়ে জীবনও হারাতে হচ্ছে নিরীহ মানুষকে। আগে পকেটমারের দৌরাত্ম্য বেশি থাকলেও তা অনেকটা হ্রাস পেয়ে এখন ছিনতাই বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সঙ্গে গত কয়েক বছর ধরে যুক্ত হয়েছে টানা পার্টি, মলম পার্টি ও অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য।
এরা ছোঁ মেরে ল্যাপটপ, ব্যাগ, মোবাইল ফোন সেট ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিতে সর্বদা তৎপর থাকে। বিশেষ করে বাসস্ট্যান্ড, রেললাইন, নিভু নিভু বাতির সড়কগুলোই ছিনতাইকারীদের জন্য নিরাপদ জায়গা। এসব জায়গায় দেখা যায়, একজন সাধারণ মানুষ হেঁটে যাওয়া অবস্থায় মুঠোফোনে কথপোকথন থাকাকালেই ছোঁ মেরে হাত থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে উধাও! চারদিকে বিপুল সংখ্যক মানুষ থাকলেও কাউকে সাহায্যের জন্য অগ্রসর হতে দেখা যায় না। ছিনতাইয়ের ঘটনা যেন স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উত্তর ঢাকার চেয়ে দক্ষিণ ঢাকায় ছিনতাইয়ের স্পট ও দৌরাত্ম্য দুটোই বেশি। ছিনতাই, রাহাজানির মতো ঘটনা উন্নত বিশে^র বিভিন্ন মেগাসিটি ও ছোট শহরগুলোতেও ঘটে। কিন্তু ঢাকা শহরে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য যেমন বেশি, তেমনি প্রতিকারও মেলে কম। যথাযথ প্রতিকার মিললে ঢাকা শহরে ছিনতাইয়ের ঘটনা অনেকাংশে কমে যেত, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে টাকা-পয়সা তো যাচ্ছেই, ক্ষেত্রবিশেষে প্রাণটাই ছিনতাই হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন বিভিন্ন কাজে রাজধানীতে আসা-যাওয়া করা মানুষ প্রায়ই ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ছে। প্রকৃতপক্ষে সব ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রকাশ পায় না। বেশিরভাগ ছিনতাইয়ের ঘটনায় কোনো মামলা হয় না। ভুক্তভোগীরা ভোগান্তির ভয়ে অনেক সময় পুলিশের কাছে যেতে চায় না। গেলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অভিযোগ আমলে নেওয়া হয় না।
এদিকে কিছু মহল মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্তি ও সামর্থ্যরে প্রয়োগ ঘটিয়ে ছিনতাইকারীদের কুকর্ম থামিয়ে দেওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। দরকার শুধু সদিচ্ছা, আগ্রহ আর আন্তরিকতা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছিনতাইকারীরা ধরা পড়লেও দুঃখজনক হলো, কয়েক দিন পর তারা জামিনে বের হয়ে যায়।
রাজধানীতে বিভিন্ন সময় ঘটে যাওয়া ছিনতাইয়ের দৃশ্যগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, চলতি পথে কিংবা রিকশায় যাতায়াতের সময় আচমকা টান। মুহূর্তেই সব কিছু নিয়ে চম্পট ছিনতাইকারী। ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে নিজেদের ভারসাম্য রাখতে না পেরে ভুক্তভোগীদের অনেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হচ্ছেন। প্রায়ই এরকম ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই পুলিশের কাছে। তবে, শতাধিক স্থানকে ছিনতাইপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে গোয়েন্দারা। এর মধ্যে মহাখালী ও গাবতলী বাসস্ট্যান্ড, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ও সদরঘাট এলাকা অন্যতম। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি পাড়া মহল্লাকেও চিহ্নিত করা হয়েছে। যেখানে ভোর কিংবা রাতে অহরহ ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা।
ছিনতাই, রাহাজানির দৌরাত্ম্য দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বিষয়ে কথা হয় সরকারি চাকরিজীবী এক কর্মকর্তার সঙ্গে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক তিনি বলেন, বর্তমান বাংলাদেশে যা শুরু হয়েছে তাতে আমি মনে করি বাইরের পরিবেশটা যে পর্যাপ্ত নিরাপত্তায় বহাল আছে; মানুষ এ ভরসায় নির্বিঘ্নে চলাচলে সাহস জোগাবে এরকম পরিবেশ আগেও ছিল না, এখনো নেই। পরবর্তীতে যে আশা করব এমনটাও আশা ব্যক্ত করাটা বোকামি। কেননা, বাইরের পরিবেশটায় মানুষরূপী রাক্ষস দিয়ে ভরে গেছে। যারা পশুদের মতো করে মানুষকে ছিনিয়ে নিতে দ্বিধাবোধ করে না। কোনো কিছু ছিনিয়ে নিয়ে মুহূর্তেই উধাও হয়ে যায়। ইতোমধ্যেই ছিনতাইপ্রবণ শতাধিক স্পট চিহ্নিত করেছেন গোয়েন্দারা। শতাধিক স্পটগুলো চিহ্নিত করলেও, ছিনতাইকারীদের প্রতিহত করতে নির্বিঘ্নে বলা যায় প্রশাসন ব্যার্থ। কেননা এই চিহ্নিত এলাকাগুলোতেই ছিনতাই আগের মতোই স্বাভাবিকভাবেই সচল রয়েছে। বরং আগের চেয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে তাদের অপকর্ম।
নিউজ লাইট ৭১























