দ্বৈত ভোটারদের নামে মামলা দেওয়া শুরু করেছে কমিশন
- আপডেট টাইম : ০৭:৪৩:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ জানুয়ারী ২০২১
- / 82
নাগরিকদের তথ্য সংরক্ষণে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুধু সতর্কই নয়, এ বিষয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে ইসি। এরই মধ্যে দ্বৈত ভোটারদের নামে মামলা দেওয়াও শুরু করেছে কমিশন। এর আগে রোহিঙ্গা ভোটারের সন্ধান পেলে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হতো। এবার প্রথমবারের মতো ১৩ রোহিঙ্গার নামে মামলা দিয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। শুধু তাই নয়, এদেরকে ভোটার হওয়ার জন্য যারা সহযোগিতা করেছেন- এমন স্থানীয় আরও ২০ জনের নামে মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে সেখান থেকে চার রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় দুজনকে পুলিশ আটক করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। রোহিঙ্গা নাগরিকদের নামে এবারই প্রথম কমিশন মামলা করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে বলে জানান ইসির সহকারী সচিব মো. মোশাররফ হোসেন।
জানা যায়, গত বছর ১৮ ফেব্রুয়ারি বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিন কচি ইসিতে (মো. ইউনুছ- পিতা ফোরকান আহমদ, আইয়ুবুল হক- পিতা আলী আহমদ, জাহেদ হোছেন- পিতা সব্বির আহমদ, জিয়াবুল হক- পিতা আলী মদন, মোহাম্মদ রশিদ- পিতা আবদুল ছালাম, হামিদ হোছন- পিতা শামসুল আলম, নুর আলম- পিতা রশিদ আহমদ, আলী হোছন- পিতা আশরাফ আলী, আজিজুল হক- পিতা আলী মদন, ইউসুফ নবী- পিতা আশরাফ আলী, জাহেদ হোসেন, শামসুল আলম, হামিদ হোছন- পিতা নুরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান- পিতা নুর আহমদ) ১৩ জন রোহিঙ্গাকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে একটি চিঠি দেন।
ওই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালে হালনাগাদকৃত ভোটার তালিকায় ১৩ জন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে ধুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক অভিযোগের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হয়। এ লক্ষ্যে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় অভিযুক্তদের বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাইয়ের পর সর্বসম্মতভাবে অভিযুক্তদের মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক মর্মে সিদ্ধান্ত হয় এবং তাদের সবার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাতিল করার সুপারিশ করা হয় ওই চিঠিতে।
এরপর কমিশন এগুলো যাচাই-বাছাই করে গত ২২ ডিসেম্বর এ ১৩ রোহিঙ্গাসহ এদেরকে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় যারা এদের নকল বাবা, মা, যারা নাগরিকত্ব সনদসহ অন্যান্য ডকুমেন্ট সরবরাহে সহযোগিতা করেছেন- এমন আরও ২০ জনসহ মোট ৩৩ জনের নামে মামলা করার জন্য বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাচন অফিসারকে নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাচন অফিসার আবু সালেহ নিউজ লাইট ৭১ কে জানান, এরই মধ্যে কমিশনের নির্দেশনা মোতাবেক ১৩ জন রোহিঙ্গার নামে মামলা দায়ের করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তিতে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় আরও ২০ জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদের মধ্যে স্থানীয় সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, এক ইউনিয়ন পরিষদের সচিব, প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকও রয়েছেন।
এরমধ্যে চারজন রোহিঙ্গা এবং দুজন স্থানীয় নাগরিক রয়েছেন। এর আগে আরও ১০ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে গত ২ নভেম্বর এদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন।
এনআইডি জালিয়াতির বিভিন্ন ঘটনা সামনে এলে গত বছর সেপ্টেম্বরে রাজধানী ঢাকার প্রতিটি থানা নির্বাচন অফিসে এনআইডি সেবা দেওয়া সংক্রান্ত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে কমিশন। পর্যায়ক্রমে এই শুদ্ধি অভিযান দেশব্যাপী পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ইসি কর্মকর্তারা।
নিউজ লাইট ৭১























