শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাসপোর্টধারী যাত্রী করোনা রিপোর্ট না নিয়েই ভারত থেকে বাংলাদেশে

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৬:২৬:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০
  • / 118

বিশ্বে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত। সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারত থেকে দেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে করোনা নেগেটিভ সনদ দেয়া বাধ্যতামূলক করে একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করলেও ভারতে পর্যাপ্ত প্রচারণার অভাবে বাংলাদেশে ফেরা যাত্রীরা এক প্রকার অন্ধকারেই রয়ে গেছে। করোনা সনদ ছাড়াই ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে এসেছে বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের। মানবিক কারণে তাদের করোনা সনদ ছাড়াই দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হলেও তা নিয়ে আতঙ্কে আছেন সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল শুক্রবার শতাধিক পাসপোর্টধারী যাত্রী করোনা রিপোর্ট না নিয়েই ভারত থেকে বাংলাদেশে আসে। এসব যাত্রীদের সাথে সনদ না থাকায় স্বাস্থ্য কর্মীরা তাদেরকে প্রত্যায়ন না দেয়ায় ইমিগ্রেশনও ছাড়পত্র দেয়নি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আটকে পড়া যাত্রীদের মানবিক কারণে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে বলে জানান ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা।

এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল থেকে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে চেকপোস্টে। ভারতগামী প্রত্যেক যাত্রীকে সচেতন করা হচ্ছে যাতে ফেরার সময় কোভিড-১৯ নেগেটিভ সনদ নিয়ে দেশে ফিরে।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল অফিসার সুজন সেন জানান, বাংলাদেশিদের ভারতে যাওয়ার জন্য এবং ভারতীয়দের বাংলাদেশে আসার জন্য করোনা নেগেটিভ সনদ প্রয়োজন হচ্ছিলো। তবে এবার বাংলাদেশিদের ভারত থেকে ফেরার সময় এবং ভারতীয়দের বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফেরার সময় করোনা নেগেটিভ সনদ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করতে হবে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয়দের আসা ও যাওয়ার সময় করোনা পরীক্ষার সনদ গ্রহণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আহসান হাবিব জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপন হাতে পেয়েছি। ভারতে যাওয়া ও ভারত থেকে ফেরার সময় ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশ-বিদেশি সব ধরনের যাত্রীদের করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ সনদের কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে পূর্বের নিয়মে কার্যক্রম চলছে। পরবর্তী নির্দেশনা পৌঁছানোমাত্র করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ইমিগ্রেশন পুলিশ যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করবে।

ভারতগামী যাত্রী আলতাফ হোসেন বলেন, বাংলাদেশিরা যে পরিমাণ ভারতে যায় তার মাত্র ৫ শতাংশ বিদেশিরা আসেন বাংলাদেশে। জরুরি ভারত ভ্রমণে বাংলাদেশে করোনা পরীক্ষা করতে ১৫০০ টাকা লাগছে। ভারতে বাংলাদেশিদের জন্য করোনা পরীক্ষা ফি কত পড়বে তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। দুইবার করোনা পরীক্ষাতে অর্থের পাশাপাশি ভোগান্তিও বাড়বে বাংলাদেশিদের। এতে বিশেষ করে বেকায়দায় পড়বেন চিকিৎসার জন্য ভারতে ভ্রমণকারী রোগীরা। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আলোচনা করে পরীক্ষা কার্যক্রম সহজ আর কম খরচে করার আহবান জানান তিনি। তিনি বেনাপোলে করোনা পরীক্ষার ল্যাব স্থাপনের জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

বেনাপোল দিয়ে কোলকাতার সাথে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠায় এপথে বছরে প্রায় ৩০ লাখ যাত্রী যাতায়াত করে।

নিউজ লাইট ৭১

Tag :

শেয়ার করুন

পাসপোর্টধারী যাত্রী করোনা রিপোর্ট না নিয়েই ভারত থেকে বাংলাদেশে

আপডেট টাইম : ০৬:২৬:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০

বিশ্বে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত। সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারত থেকে দেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে করোনা নেগেটিভ সনদ দেয়া বাধ্যতামূলক করে একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করলেও ভারতে পর্যাপ্ত প্রচারণার অভাবে বাংলাদেশে ফেরা যাত্রীরা এক প্রকার অন্ধকারেই রয়ে গেছে। করোনা সনদ ছাড়াই ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে এসেছে বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের। মানবিক কারণে তাদের করোনা সনদ ছাড়াই দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হলেও তা নিয়ে আতঙ্কে আছেন সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল শুক্রবার শতাধিক পাসপোর্টধারী যাত্রী করোনা রিপোর্ট না নিয়েই ভারত থেকে বাংলাদেশে আসে। এসব যাত্রীদের সাথে সনদ না থাকায় স্বাস্থ্য কর্মীরা তাদেরকে প্রত্যায়ন না দেয়ায় ইমিগ্রেশনও ছাড়পত্র দেয়নি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আটকে পড়া যাত্রীদের মানবিক কারণে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে বলে জানান ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা।

এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল থেকে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে চেকপোস্টে। ভারতগামী প্রত্যেক যাত্রীকে সচেতন করা হচ্ছে যাতে ফেরার সময় কোভিড-১৯ নেগেটিভ সনদ নিয়ে দেশে ফিরে।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল অফিসার সুজন সেন জানান, বাংলাদেশিদের ভারতে যাওয়ার জন্য এবং ভারতীয়দের বাংলাদেশে আসার জন্য করোনা নেগেটিভ সনদ প্রয়োজন হচ্ছিলো। তবে এবার বাংলাদেশিদের ভারত থেকে ফেরার সময় এবং ভারতীয়দের বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফেরার সময় করোনা নেগেটিভ সনদ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করতে হবে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয়দের আসা ও যাওয়ার সময় করোনা পরীক্ষার সনদ গ্রহণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আহসান হাবিব জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপন হাতে পেয়েছি। ভারতে যাওয়া ও ভারত থেকে ফেরার সময় ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশ-বিদেশি সব ধরনের যাত্রীদের করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ সনদের কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে পূর্বের নিয়মে কার্যক্রম চলছে। পরবর্তী নির্দেশনা পৌঁছানোমাত্র করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ইমিগ্রেশন পুলিশ যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করবে।

ভারতগামী যাত্রী আলতাফ হোসেন বলেন, বাংলাদেশিরা যে পরিমাণ ভারতে যায় তার মাত্র ৫ শতাংশ বিদেশিরা আসেন বাংলাদেশে। জরুরি ভারত ভ্রমণে বাংলাদেশে করোনা পরীক্ষা করতে ১৫০০ টাকা লাগছে। ভারতে বাংলাদেশিদের জন্য করোনা পরীক্ষা ফি কত পড়বে তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। দুইবার করোনা পরীক্ষাতে অর্থের পাশাপাশি ভোগান্তিও বাড়বে বাংলাদেশিদের। এতে বিশেষ করে বেকায়দায় পড়বেন চিকিৎসার জন্য ভারতে ভ্রমণকারী রোগীরা। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আলোচনা করে পরীক্ষা কার্যক্রম সহজ আর কম খরচে করার আহবান জানান তিনি। তিনি বেনাপোলে করোনা পরীক্ষার ল্যাব স্থাপনের জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

বেনাপোল দিয়ে কোলকাতার সাথে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠায় এপথে বছরে প্রায় ৩০ লাখ যাত্রী যাতায়াত করে।

নিউজ লাইট ৭১