শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহামারীর শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে উঠেছে দেশের পর্যটন খাত

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৬:২৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর ২০২০
  • / 100

করোনা মহামারীর শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে উঠেছে দেশের পর্যটন খাত। চলতি শীত মৌসুমের শুরুতেই লোকে লোকারণ্য বিভিন্ন পর্যটন স্পট। কোভিড-১৯-এর দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কার মধ্যেই জমজমাট বিভিন্ন পর্যটন স্পট। গত শুক্রবার পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে পর্যটকদের ঢল নেমেছিল। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্পটেও পর্যটকদের ব্যাপক আনাগোনা লক্ষ করা যায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছেন তারা।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার, সাগরকন্যা কুয়াকাটা, রাঙামাটি, বান্দরবান, সিলেট, মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলের হোটেল-মোটেলগুলো আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বুকিং। এই সময়ে নতুন কোনো বুকিংও নিচ্ছে না অনেক হোটেল। একই অবস্থা বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী এয়ারলাইনসের ক্ষেত্রেও। অনেক আগে বুকিং না দিলে আসন পাওয়া যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা আরো জানান, পর্যটনশিল্পে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। মোট দেশজ উৎপাদন জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৪ শতাংশ অবদান রাখছে পর্যটনশিল্প। করোনা মহামারীতে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে এ খাতের। কিন্তু এরই মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যটন খাত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এর বড় অংশই অভ্যন্তরীণ পর্যটক। তবে বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা এখনো তেমন বাড়েনি। 

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডও কোভিড-১৯ সংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটকদের ভ্রমণ করতে উৎসাহিত করছে। কোভিড-১৯ পরবর্তী ভ্রমণবিধিও তৈরি করেছে সংস্থাটি।

রাঙামাটি আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন সেলিম বলেন, মৌসুমের শুরুতেই পর্যটকদের আগমন ঘটছে চোখে পড়ার মতো। তবে গত বছরের এ সময়ের চেয়ে এখনো কম। আশা করছি, গত পাঁচ মাসের লোকসান কমিয়ে আনতে পারব।

রাঙামাটি ট্যুরিস্ট পুলিশের এসআই কামাল উদ্দিন বলেন, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।

রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া বলেন, গত কয়েক দিন ধরে পর্যটকের আগমন শুরু হয়েছে। তবে গত বছরের এ সময়ের চেয়ে এখনো কম। বর্তমানে পর্যটন মোটেলের কক্ষগুলো প্রায় ৭০ ভাগ বুকিং আছে।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, ‘সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি মেনেই জেলার পর্যটন স্পটগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। পর্যটকরা অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘুরতে যাবেন। এটা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পর্যটন কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।’

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সব সময় সর্তকাবস্থায় রয়েছে পুলিশ। পর্যটকরা যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানির শিকার না হন, পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে এবং পর্যটক বেশে পুরুষ-মহিলা পুলিশের সংখ্যাও সৈকতে দায়িত্বে আছেন।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সৈকত এলাকায় পোশাকধারী পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের বিশেষ রেসকিউ টিম, ইভটিজিং কন্ট্রোল টিম, ড্রিংকিং জোন, দ্রুত চিকিৎসাসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে পর্যটকদের নিরাপত্তায়। সৈকতে বিচ বাইক নিয়ে টহল অব্যাহত রেখেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। রয়েছে ৩টি বেসরকারি লাইফ গার্ড সংস্থার অর্ধশতাধিক প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড কর্মী। কন্ট্রোল রুম, পর্যবেক্ষণ টাওয়াসহ পুরো সৈকতে পুলিশের নজরদারির আওতায় রয়েছে। দেখে মনে হয় করোনা সংকট কাটিয়ে পর্যটন খাত আবারো সম্ভাবনাময় খাত হয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন বলেন, অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা চিন্তা মাথায় রেখে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ পর্যটনশিল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ‘পরীক্ষামূলক খুলে দেওয়া’ হয়। সামনে পর্যটন মৌসুম আসছে। আবার করোনার দ্বিতীয় ফ্লো-র শঙ্কার কথাও ঘোষণা এসেছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনা রোধের পাশাপাশি পর্যটনটাও এগিয়ে নিতে হবে। সেভাবেই পর্যটন সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত দেওয়া রয়েছে। সবাই আন্তরিক হলে পর্যটন ব্যবসা ঠিক রেখে করোনা রোধ সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক।

কক্সবাজার হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউস, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, এখন কোথাও রুম খালি নেই। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে পর্যটন খাতের অবস্থা রমরমা। পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় রয়েছে কক্সবাজারে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মহিবুল হক বলেন, করোনাকালে পর্যটন ব্যবসা সচল রাখতে একটি নীতিমালা করা হয়েছে। পর্যটন খাত যাতে ঘুরে দাঁড়ায়, সেজন্য সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এতে পর্যটক বাড়ছে। 

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রাফেউজ্জামান বলেন, অভ্যন্তরীণ পর্যটনশিল্প চাঙা হতে শুরু করায় উদ্যোক্তাদের মধ্যে প্রাণের সঞ্চার ঘটেছে। এতে কোভিড-১৯ বিপর্যয় কাটিয়ে পর্যটন খাত লাভবান হচ্ছে।

নিউজ লাইট ৭১

Tag :

শেয়ার করুন

মহামারীর শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে উঠেছে দেশের পর্যটন খাত

আপডেট টাইম : ০৬:২৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর ২০২০

করোনা মহামারীর শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে উঠেছে দেশের পর্যটন খাত। চলতি শীত মৌসুমের শুরুতেই লোকে লোকারণ্য বিভিন্ন পর্যটন স্পট। কোভিড-১৯-এর দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কার মধ্যেই জমজমাট বিভিন্ন পর্যটন স্পট। গত শুক্রবার পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে পর্যটকদের ঢল নেমেছিল। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্পটেও পর্যটকদের ব্যাপক আনাগোনা লক্ষ করা যায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছেন তারা।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার, সাগরকন্যা কুয়াকাটা, রাঙামাটি, বান্দরবান, সিলেট, মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলের হোটেল-মোটেলগুলো আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বুকিং। এই সময়ে নতুন কোনো বুকিংও নিচ্ছে না অনেক হোটেল। একই অবস্থা বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী এয়ারলাইনসের ক্ষেত্রেও। অনেক আগে বুকিং না দিলে আসন পাওয়া যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা আরো জানান, পর্যটনশিল্পে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। মোট দেশজ উৎপাদন জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৪ শতাংশ অবদান রাখছে পর্যটনশিল্প। করোনা মহামারীতে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে এ খাতের। কিন্তু এরই মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যটন খাত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এর বড় অংশই অভ্যন্তরীণ পর্যটক। তবে বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা এখনো তেমন বাড়েনি। 

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডও কোভিড-১৯ সংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটকদের ভ্রমণ করতে উৎসাহিত করছে। কোভিড-১৯ পরবর্তী ভ্রমণবিধিও তৈরি করেছে সংস্থাটি।

রাঙামাটি আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন সেলিম বলেন, মৌসুমের শুরুতেই পর্যটকদের আগমন ঘটছে চোখে পড়ার মতো। তবে গত বছরের এ সময়ের চেয়ে এখনো কম। আশা করছি, গত পাঁচ মাসের লোকসান কমিয়ে আনতে পারব।

রাঙামাটি ট্যুরিস্ট পুলিশের এসআই কামাল উদ্দিন বলেন, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।

রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া বলেন, গত কয়েক দিন ধরে পর্যটকের আগমন শুরু হয়েছে। তবে গত বছরের এ সময়ের চেয়ে এখনো কম। বর্তমানে পর্যটন মোটেলের কক্ষগুলো প্রায় ৭০ ভাগ বুকিং আছে।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, ‘সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি মেনেই জেলার পর্যটন স্পটগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। পর্যটকরা অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘুরতে যাবেন। এটা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পর্যটন কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।’

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সব সময় সর্তকাবস্থায় রয়েছে পুলিশ। পর্যটকরা যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানির শিকার না হন, পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে এবং পর্যটক বেশে পুরুষ-মহিলা পুলিশের সংখ্যাও সৈকতে দায়িত্বে আছেন।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সৈকত এলাকায় পোশাকধারী পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের বিশেষ রেসকিউ টিম, ইভটিজিং কন্ট্রোল টিম, ড্রিংকিং জোন, দ্রুত চিকিৎসাসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে পর্যটকদের নিরাপত্তায়। সৈকতে বিচ বাইক নিয়ে টহল অব্যাহত রেখেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। রয়েছে ৩টি বেসরকারি লাইফ গার্ড সংস্থার অর্ধশতাধিক প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড কর্মী। কন্ট্রোল রুম, পর্যবেক্ষণ টাওয়াসহ পুরো সৈকতে পুলিশের নজরদারির আওতায় রয়েছে। দেখে মনে হয় করোনা সংকট কাটিয়ে পর্যটন খাত আবারো সম্ভাবনাময় খাত হয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন বলেন, অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা চিন্তা মাথায় রেখে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ পর্যটনশিল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ‘পরীক্ষামূলক খুলে দেওয়া’ হয়। সামনে পর্যটন মৌসুম আসছে। আবার করোনার দ্বিতীয় ফ্লো-র শঙ্কার কথাও ঘোষণা এসেছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনা রোধের পাশাপাশি পর্যটনটাও এগিয়ে নিতে হবে। সেভাবেই পর্যটন সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত দেওয়া রয়েছে। সবাই আন্তরিক হলে পর্যটন ব্যবসা ঠিক রেখে করোনা রোধ সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক।

কক্সবাজার হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউস, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, এখন কোথাও রুম খালি নেই। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে পর্যটন খাতের অবস্থা রমরমা। পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় রয়েছে কক্সবাজারে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মহিবুল হক বলেন, করোনাকালে পর্যটন ব্যবসা সচল রাখতে একটি নীতিমালা করা হয়েছে। পর্যটন খাত যাতে ঘুরে দাঁড়ায়, সেজন্য সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এতে পর্যটক বাড়ছে। 

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রাফেউজ্জামান বলেন, অভ্যন্তরীণ পর্যটনশিল্প চাঙা হতে শুরু করায় উদ্যোক্তাদের মধ্যে প্রাণের সঞ্চার ঘটেছে। এতে কোভিড-১৯ বিপর্যয় কাটিয়ে পর্যটন খাত লাভবান হচ্ছে।

নিউজ লাইট ৭১