ঢাকা ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাড়ল তেল ও চালের দাম

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ১০:০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 5

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে চালের পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি ও মিল পর্যায়ে দাম বাড়ানোর প্রভাবে রাজধানীর খুচরা বাজারে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। গত এক থেকে দেড় সপ্তাহের ব্যবধানে সরু চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা এবং মাঝারি মানের চালের দাম ১ থেকে ২ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। চালের পাশাপাশি নতুন করে দাম বেড়েছে দেশি পেঁয়াজ, রসুন ও খোলা সয়াবিন তেলের। আর ব্রয়লার মুরগি ও ডিম বিক্রি হচ্ছে আগের মতো চড়া দামেই।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও আগারগাঁও তালতলা বাজার ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে।

বাজার তথ্য অনুযায়ী, খুচরা দোকানে ব্র্যান্ডভেদে মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে ডায়মন্ড, মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৭৪ থেকে ৭৫ টাকায়, যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ৭২ টাকা। রশিদের মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়। মোজাম্মেল মিনিকেটের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি কেজি ৭৬ টাকায়। এ ছাড়া মানভেদে সরু নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯৫ টাকায়, যেখানে কেজিতে বেড়েছে ২ থেকে ৩ টাকা।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যমতে, বাজারে মাঝারি মানের পাইজাম, ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ চালের দাম কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে ৫৮ থেকে ৬৫ টাকায় উঠেছে। তবে মোটা চালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে (কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা)।

ব্যবসায়ীরা জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় প্রতি ট্রিপে ট্রাকভাড়া ২ থেকে ৩ হাজার টাকা বেড়েছে। ধান সংগ্রহ থেকে আড়ত পর্যন্ত কয়েক দফায় পরিবহনের প্রয়োজন হওয়ায় পাইকারিতে এর প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি নওগাঁসহ বিভিন্ন মোকামে ধানের দাম বাড়ার কারণে মিল মালিকরাও বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) কাটারি চালের দাম ৫০ টাকা বাড়িয়েছেন। তবে খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, তদারকির অভাবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা পরিবহন ভাড়ার অনুপাতের চেয়েও বেশি হারে চালের দাম বাড়াচ্ছেন।

চালের পাশাপাশি এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় উঠেছে। রসুনের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। এ ছাড়া বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকটের অজুহাতে গত দুই সপ্তাহে খোলা সয়াবিনের দাম লিটারে ৫ টাকা বেড়েছে।

এদিকে আমিষের বাজারে কোনো স্বস্তি নেই। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকা এবং ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি ডজন ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হয়ে উচ্চমূল্যে স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতিনিয়ত নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় বাজারে আসা সীমিত ও মধ্যম আয়ের সাধারণ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে।

নিউজ লাইট ৭১

Tag :

শেয়ার করুন

বাড়ল তেল ও চালের দাম

আপডেট টাইম : ১০:০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে চালের পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি ও মিল পর্যায়ে দাম বাড়ানোর প্রভাবে রাজধানীর খুচরা বাজারে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। গত এক থেকে দেড় সপ্তাহের ব্যবধানে সরু চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা এবং মাঝারি মানের চালের দাম ১ থেকে ২ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। চালের পাশাপাশি নতুন করে দাম বেড়েছে দেশি পেঁয়াজ, রসুন ও খোলা সয়াবিন তেলের। আর ব্রয়লার মুরগি ও ডিম বিক্রি হচ্ছে আগের মতো চড়া দামেই।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও আগারগাঁও তালতলা বাজার ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে।

বাজার তথ্য অনুযায়ী, খুচরা দোকানে ব্র্যান্ডভেদে মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে ডায়মন্ড, মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৭৪ থেকে ৭৫ টাকায়, যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ৭২ টাকা। রশিদের মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়। মোজাম্মেল মিনিকেটের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি কেজি ৭৬ টাকায়। এ ছাড়া মানভেদে সরু নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯৫ টাকায়, যেখানে কেজিতে বেড়েছে ২ থেকে ৩ টাকা।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যমতে, বাজারে মাঝারি মানের পাইজাম, ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ চালের দাম কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে ৫৮ থেকে ৬৫ টাকায় উঠেছে। তবে মোটা চালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে (কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা)।

ব্যবসায়ীরা জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় প্রতি ট্রিপে ট্রাকভাড়া ২ থেকে ৩ হাজার টাকা বেড়েছে। ধান সংগ্রহ থেকে আড়ত পর্যন্ত কয়েক দফায় পরিবহনের প্রয়োজন হওয়ায় পাইকারিতে এর প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি নওগাঁসহ বিভিন্ন মোকামে ধানের দাম বাড়ার কারণে মিল মালিকরাও বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) কাটারি চালের দাম ৫০ টাকা বাড়িয়েছেন। তবে খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, তদারকির অভাবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা পরিবহন ভাড়ার অনুপাতের চেয়েও বেশি হারে চালের দাম বাড়াচ্ছেন।

চালের পাশাপাশি এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় উঠেছে। রসুনের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। এ ছাড়া বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকটের অজুহাতে গত দুই সপ্তাহে খোলা সয়াবিনের দাম লিটারে ৫ টাকা বেড়েছে।

এদিকে আমিষের বাজারে কোনো স্বস্তি নেই। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকা এবং ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি ডজন ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হয়ে উচ্চমূল্যে স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতিনিয়ত নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় বাজারে আসা সীমিত ও মধ্যম আয়ের সাধারণ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে।

নিউজ লাইট ৭১