আজ বিশ্ব ডাক দিবস, সেবার সংকটে দেশের ডাকঘর
- আপডেট টাইম : ১০:২০:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 8
একসময় মানুষের যোগাযোগের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মাধ্যম ছিল বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। চিঠি, মানি অর্ডার, পার্সেল, সঞ্চয়পত্র, সরকারি চিঠি, নিয়োগপত্র, পরীক্ষার প্রবেশপত্র থেকে আদালতের নোটিশ—সবই পৌঁছে যেত ডাকপিয়নের মাধ্যমে। প্রিয়জনের চিঠির অপেক্ষায় থাকতেন মানুষ।
তবে প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে ডাক বিভাগের সেই গুরুত্ব অনেকটাই কমে গেছে। চিঠির জায়গা নিয়েছে মোবাইল ফোন, ই-মেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। মানি অর্ডারের বিকল্প হিসেবে এসেছে মোবাইলভিত্তিক আর্থিক সেবা। ফলে দেশের অনেক ডাকঘর এখন গ্রাহক ও সেবার সংকটে পড়েছে।
আজ ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবস। এ দিনে দেশের ডাক বিভাগের বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক ডাকঘর নিয়মিত খোলা হয় না। কোথাও একাধিক ঘণ্টা তালাবদ্ধ থাকে, আবার কোথাও একজন কর্মী দিয়েই চলছে পুরো কার্যক্রম। জনবল সংকট, পুরোনো ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও দুর্বল তদারকির কারণে সেবার মান কমছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার ডাকঘর রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪০ হাজার কর্মী কাজ করছেন।
বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশনসের (বিএনএনআরসি) প্রধান নির্বাহী এইচ এম বজলুর রহমান বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ডাক বিভাগের বিস্তৃত অবকাঠামো ও জনবল রয়েছে। বেসরকারি কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের তুলনায় এই নেটওয়ার্ক বড় সম্পদ। কিন্তু সময়োপযোগী সংস্কার ও আধুনিকায়নের অভাবে সেই সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ফলে ই-কমার্স ও লজিস্টিকস খাতেও ডাক বিভাগের অংশগ্রহণ সীমিত হয়ে পড়ছে।
রাজধানীর ডাকঘরে বেহাল চিত্র
রাজধানীর বিভিন্ন ডাকঘর ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও কর্মীর অভাবে অফিস বন্ধ থাকছে, কোথাও আবার গ্রাহকের উপস্থিতি খুবই কম।
সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল উপ-ডাকঘরে গিয়ে তালা ঝুলতে দেখা যায়। প্রায় ৩০ মিনিট পর সাব-পোস্টমাস্টার দীপক চন্দ্র দাস এসে অফিস খোলেন। তিনি জানান, দুজন দায়িত্ব পালন করেন। একজন বাইরে থাকায় অন্যজনও বাইরে গেলে অফিস বন্ধ রাখতে হয়।
দয়াগঞ্জ পোস্ট অফিসে একাই দায়িত্ব পালন করছেন সাব-পোস্টমাস্টার আবুল হাসান। তার ভাষ্য, গ্রাহক কমলেও চিঠিপত্রের কাজ রয়েছে। তবে তিনি বাইরে গেলে অফিস বন্ধ রাখতে হয়।
মতিঝিলের বিআইডিসি সাব-পোস্ট অফিস ও বাসাবো সাব-পোস্ট অফিসেও গ্রাহকের উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রাহক কম থাকলেও সঞ্চয়পত্র, এফডিআর, চিঠিপত্র, পার্সেল বুকিং ও ডেলিভারিসহ বিভিন্ন কাজ হয়।
তবে খিলগাঁও উপ-ডাকঘরে ছিল ভিন্ন চিত্র। সেখানে কর্মব্যস্ত পরিবেশ দেখা গেছে। সাব-পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হওয়ায় এখানে কাজের চাপ বেশি।
কাগজে অনেক সেবা, বাস্তবে সংকট
ডাকঘরগুলোর দেয়ালে ডাকটিকিট বিক্রি, রেজিস্ট্রি, পার্সেল, ইএমএস, মানি অর্ডার, সঞ্চয় ব্যাংক, সঞ্চয়পত্র, ডাক জীবন বিমা, পোস্টাল অর্ডার, প্রাইজবন্ডসহ বিভিন্ন সেবার তালিকা টানানো রয়েছে।
তবে এসব সেবার অনেকগুলোই বর্তমানে অধিকাংশ ডাকঘরে নিয়মিত পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। গ্রাহক কমে যাওয়ায় অনেক ডাকঘরের কার্যক্রমও সীমিত হয়ে পড়েছে।
ঢাকা উত্তর সার্কেলের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মো. আব্দুল হামিদ বলেন, অনেক ডাকঘরের ল্যাপটপ ও কম্পিউটার দীর্ঘদিনের পুরোনো। এগুলো পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট পাওয়া যায় না। জনবল সংকট ও তদারকিতেও কিছু ঘাটতি রয়েছে। তবে পর্যায়ক্রমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।
ডাক বিভাগের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো ডাকঘর নিয়মিত তালাবদ্ধ থাকলে সে বিষয়ে তথ্য দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজ লাইট ৭১



















