ইজারা সংকটে জুড়ীর হাট-বাজার
- আপডেট টাইম : ০৮:১৬:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 36
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার চারটি প্রধান হাট-বাজার ইজারা না হওয়ায় সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে। চলতি অর্থবছরসহ টানা দুই বছর ধরে এসব বাজার ইজারা না হওয়ায় বছরে প্রায় ৭৯ লাখ টাকার রাজস্ব লোকসানের মুখে পড়েছে সরকার। এই পরিস্থিতিতে বাজারগুলো খাস কালেকশনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যার ফলে নির্ধারিত ইজারা মূল্যের তুলনায় অনেক কম রাজস্ব আদায় হচ্ছে।
কামিনীগঞ্জ বাজার: লাখ লাখ টাকার ক্ষতি
উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কামিনীগঞ্জ বাজারে রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। বাংলা ১৪৩০ সনে এই বাজার ৬৯ লাখ ৯১৯ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছিল, যা ভ্যাট-ট্যাক্সসহ মোট ৮৬ লাখ ২৬ হাজার টাকায় দাঁড়ায়। কিন্তু ১৪৩১ সনে খাস কালেকশনের মাধ্যমে মাত্র ৫০ লাখ ৩৩ হাজার টাকা আদায় হয়েছে। ফলে সরকারের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা। চলতি ১৪৩২ সনেও একই ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফুলতলা হাটবাজার: রাজস্ব কমেছে অর্ধেকেরও বেশি
সীমান্তবর্তী ফুলতলা হাটবাজারের অবস্থাও একই রকম। ১৪২৯ সনে এই বাজার ৪৩ লাখ ২৯ হাজার টাকায় ইজারা হয়, যা ভ্যাট-ট্যাক্সসহ ৫৪ লাখ টাকার বেশি ছিল। কিন্তু ১৪৩১ সনে খাস কালেকশনে আদায় হয়েছে মাত্র ১১ লাখ টাকার কিছু বেশি। এতে সরকারের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪৩ লাখ টাকা।
অন্যান্য বাজারের অবস্থা
গোয়ালবাড়ী বাজার ১৪৩২ সনে মাত্র ১ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় নগণ্য। এছাড়া শাহগঞ্জ ও ভৈরবগঞ্জ বাজার ইজারা না হওয়ায় সেখান থেকেও সরকার সামান্য রাজস্ব পাচ্ছে।
কেন ইজারা হচ্ছে না?
কামিনীগঞ্জ বাজারের সর্বশেষ ইজারাদার আতিকুর রহমান জানান, সরকার নির্ধারিত ইজারা মূল্য অত্যন্ত বেশি হওয়ায় বাজার পরিচালনা লাভজনক নয়। এ কারণে অনেকে নিলামে অংশ নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না। জুড়ী সদর ইউপি চেয়ারম্যান মাছুম রেজা মনে করেন, ঈদকে কেন্দ্র করে যত্রতত্র অবৈধ বাজার বসার কারণে ইজারায় আগ্রহ কমছে। তিনি বলেন, যথাযথ তদারকি ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি
ইজারা না থাকায় বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুযোগ-সুবিধা কমে গেছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পশু কেনাবেচায় ব্যবসায়ীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অবকাঠামোগত সুবিধার অভাবে বাজারের আকর্ষণও কমছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।
প্রশাসনের বক্তব্য
জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বাবলু সূত্রধর জানান, সরকার নির্ধারিত মূল্যের কমে বাজার ইজারা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে খাস কালেকশনে রাজস্ব বাড়াতে বাজারগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি পূর্বের তুলনায় বেশি রাজস্ব আদায় করতে। তবে ইজারা নীতিমালা মেনে চলতে হচ্ছে।”
সমাধানের পথ কী?
বাজার ইজারা সংকট সমাধানে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অবৈধ বাজার বন্ধ, নিয়মিত তদারকি এবং বাজারের অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানো সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। অন্যথায়, সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি বাজারের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
নিউজ লাইট ৭১



















