সরকারি জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণ
- আপডেট টাইম : ০৭:১৯:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 39
মাগুরা পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সরকারি জায়গা দখল করে অসংখ্য অবৈধ মার্কেট ও স্থাপনা গড়ে উঠেছে।
শহরের হাজীরোডের কর্নার, মাগুরা কলেজের সামনে, পৌরসভা ও কলেজ সংলগ্ন এলাকা, কলেজ মসজিদের বারান্দা, চৌরঙ্গী মোড়, ভায়না মোড় এবং ডিসি কোর্টের আশেপাশে এসব মার্কেট শহরের সড়ক ও জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।
জানা গেছে, প্রথমে সড়কের পাশে ছাপড়াঘর তৈরি করা হতো, পরে ধীরে ধীরে পাকা ঘর, আরসিসি পিলার ও ছাদ ঢালাই করে পূর্ণাঙ্গ মার্কেটে রূপ নিত। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহায়তায় সরকারি জায়গাগুলো বাণিজ্যিক দখলে চলে গেছে।
পৌরসভার মানচিত্রে সড়কের প্রস্থ ৬০ ফিট হলেও অনেক জায়গায় তা ২০–৪০ ফিটে নেমে এসেছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, আগামী ৩০ বছরে জনসংখ্যা ও যানবাহন বৃদ্ধি পেলে ফুটপাত ও সড়ক পুরোপুরি দখল হয়ে যেতে পারে।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে ভায়না মোড় পর্যন্ত ডিসি কোর্ট মার্কেটে ৫০টির বেশি দোকান সরকারি জায়গায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, এসব দোকান প্রকৃত ব্যবসায়ীদের ন্যস্ত না করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং পরে ভাড়ায় চলেছে। এছাড়া হাজীরোডের ৬২ শতক খাসজমিতেও ভবন নির্মাণ করে ভাড়া ব্যবসা চলছে।
স্থানীয় সামাজিক সংগঠনের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, “সরকারি জায়গা উদ্ধার ছাড়া শহর উন্নয়ন সম্ভব নয়। আগামী প্রজন্মের স্বার্থে অবিলম্বে এসব দখল উচ্ছেদ করতে হবে।”
মাগুরা জেলা বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি রাজা মিয়া বলেন, “মার্কেট ভাঙা বা রাস্তা প্রশস্তকরণ জরুরি। তবে দোকানদারদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, যাতে অতীত বিনিয়োগকারীরা সুবিধা বঞ্চিত না হন।”
মাগুরা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আহ্সান বারী জানিয়েছেন, “আগামী শনিবার সকাল ১০টায় শহরের বিভিন্ন জায়গা পরিমাপ করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।”
শহরের সাধারণ মানুষও মনে করছেন, সরকারি জায়গা উদ্ধার ছাড়া শহরের উন্নয়ন সম্ভব নয় এবং রাজনৈতিক প্রভাব বা মামলা জটিলতার অজুহাতে দখলদারদের প্রশ্রয় দিলে শহর বসবাসের অযোগ্য হয়ে যেতে পারে।
নিউজ লাইট ৭১













