সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এবি ব্যাংকের ১,৯০৬ কোটি টাকা লোকসান

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ১২:৪৬:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫
  • / 78

ছবি : সংগৃহীত

প্রথম প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংক এবি ব্যাংক গত বছর বিশাল অঙ্কের লোকসানে পড়েছে। ২০২৪ হিসাব বছরে ব্যাংকটির মোট লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা। শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২১ টাকা ২৮ পয়সা। এ কারণে এ বছর বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ দিচ্ছে না ব্যাংকটি।

ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। গত বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে এবি ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় ছিল এক টাকা এবং মুনাফা হয়েছিল ৯০ কোটি টাকা।

২০২৪ সালে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ হয়েছে মাইনাস ৪২ টাকা ২৩ পয়সা, যেখানে আগের বছর তা ছিল ১০ টাকা ৯৮ পয়সা। আর গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য ছিল ৭ টাকা ১৯ পয়সা।

ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ আগস্ট সকাল ১০টায়, হাইব্রিড পদ্ধতিতে। রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ জুন।

এক সময় সেবার মানে উৎকর্ষ এনে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করেছিল এবি ব্যাংক। কিন্তু শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও উদ্যোক্তাদের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের ফলে ব্যাংকটির আর্থিক ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ এতটাই বেড়েছে যে, তা মোকাবেলায় চাহিদামতো নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখলে লোকসান আরও অনেক গুণ বেড়ে যেত।

দীর্ঘদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণ থাকলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। ব্যাংকটির অন্যতম উদ্যোক্তা বিএনপির সাবেক মন্ত্রী এম মোরশেদ খান। তাঁর পরিবারের হাতেই ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ। সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াহিদুল হক, মোহাম্মদ এ (রুমী) আলী এবং খায়রুল আলম চৌধুরী ব্যাংকটির হাল ধরলেও উন্নতি হয়নি। বর্তমানে চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন সাবেক এমডি কাইজার এ চৌধুরী।

এবি ব্যাংকের শীর্ষ খেলাপি গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে সিকদার গ্রুপ, আশিয়ান সিটি, বিল্ডট্রেড, মাহিন গ্রুপ, আমান গ্রুপ, এরশাদ ব্রাদার্স এবং আলোচিত ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম ওরফে মিঠুর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এমনকি বেক্সিমকোর ঋণও আদায় করতে পারছে না ব্যাংকটি।

এ ছাড়া মোরশেদ খানের মালিকানাধীন বন্ধ হয়ে যাওয়া সিটিসেলের ঋণও খেলাপি অবস্থায় রয়েছে। এসব কারণে ব্যাংকটি আমানতকারীদের সুদ পরিশোধেও হিমশিম খাচ্ছে।

নিউজ লাইট ৭১

Tag :

শেয়ার করুন

এবি ব্যাংকের ১,৯০৬ কোটি টাকা লোকসান

আপডেট টাইম : ১২:৪৬:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫

প্রথম প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংক এবি ব্যাংক গত বছর বিশাল অঙ্কের লোকসানে পড়েছে। ২০২৪ হিসাব বছরে ব্যাংকটির মোট লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা। শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২১ টাকা ২৮ পয়সা। এ কারণে এ বছর বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ দিচ্ছে না ব্যাংকটি।

ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। গত বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে এবি ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় ছিল এক টাকা এবং মুনাফা হয়েছিল ৯০ কোটি টাকা।

২০২৪ সালে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ হয়েছে মাইনাস ৪২ টাকা ২৩ পয়সা, যেখানে আগের বছর তা ছিল ১০ টাকা ৯৮ পয়সা। আর গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য ছিল ৭ টাকা ১৯ পয়সা।

ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ আগস্ট সকাল ১০টায়, হাইব্রিড পদ্ধতিতে। রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ জুন।

এক সময় সেবার মানে উৎকর্ষ এনে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করেছিল এবি ব্যাংক। কিন্তু শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও উদ্যোক্তাদের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের ফলে ব্যাংকটির আর্থিক ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ এতটাই বেড়েছে যে, তা মোকাবেলায় চাহিদামতো নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখলে লোকসান আরও অনেক গুণ বেড়ে যেত।

দীর্ঘদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণ থাকলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। ব্যাংকটির অন্যতম উদ্যোক্তা বিএনপির সাবেক মন্ত্রী এম মোরশেদ খান। তাঁর পরিবারের হাতেই ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ। সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াহিদুল হক, মোহাম্মদ এ (রুমী) আলী এবং খায়রুল আলম চৌধুরী ব্যাংকটির হাল ধরলেও উন্নতি হয়নি। বর্তমানে চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন সাবেক এমডি কাইজার এ চৌধুরী।

এবি ব্যাংকের শীর্ষ খেলাপি গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে সিকদার গ্রুপ, আশিয়ান সিটি, বিল্ডট্রেড, মাহিন গ্রুপ, আমান গ্রুপ, এরশাদ ব্রাদার্স এবং আলোচিত ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম ওরফে মিঠুর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এমনকি বেক্সিমকোর ঋণও আদায় করতে পারছে না ব্যাংকটি।

এ ছাড়া মোরশেদ খানের মালিকানাধীন বন্ধ হয়ে যাওয়া সিটিসেলের ঋণও খেলাপি অবস্থায় রয়েছে। এসব কারণে ব্যাংকটি আমানতকারীদের সুদ পরিশোধেও হিমশিম খাচ্ছে।

নিউজ লাইট ৭১