সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রিজ ধসে যোগাযোগ বন্ধ, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৭:৩৫:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫
  • / 103

ছবি : সংগৃহীত

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় আয়মন নদীর ওপর নির্মিত গহুর মোল্লার  ব্রিজ ধসে যাওয়ায় দুই পাড়ের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে নদীর পানির চাপ বৃদ্ধি ও সেতুর দু’পাশের মাটি সরে যাওয়ায় পাটাতন ধসে পড়লে এ ঘটনা ঘটে। এতে হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। উপজেলা প্রশাসন দ্রুত সেতুটি মেরামত করে জনদুর্ভোগ লাঘবের কথা জানিয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, ২০০১ সালের দিকে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর পলশা ভিটিবাড়ী গ্রামের গহুর মোল্লার সেতুটি আয়মন নদীর ওপর নির্মাণ করেছিল। সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ড অপরিকল্পিতভাবে আয়মন নদী খনন করায় সেতুর গোড়ার মাটি সরে গিয়ে এটি নড়বড়ে হয়ে পড়ে। এর ফলস্বরূপ, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে নদীর পানির স্রোতের ধাক্কায় শুক্রবার সকালে সেতুটি ভেঙে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম জানান, এই সেতুটি পলশার স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের প্রধান পথ ছিল। হঠাৎ সেতু ভেঙে যাওয়ায় কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

আরেক বাসিন্দা তোতা মিয়া বলেন, অপরিকল্পিত নদী খননের কারণেই সেতুটি ভেঙে পড়েছে। তিনি দ্রুত সেতু সংস্কারের দাবি জানান।

পণ্য পরিবহনে সমস্যার কথা জানিয়ে আজহারুল ইসলাম বলেন, এই সেতুটি এই অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার অন্যতম কারণ ছিল। সেতু ভেঙে যাওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এবং দ্রুত সেতু পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

মুক্তাগাছা উপজেলা প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, সেতুটি তারাই নির্মাণ করেছিলেন, কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপরিকল্পিত নদী খননের কারণে এটি ভেঙেছে। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাঁশের সাঁকো নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে এবং পরবর্তীতে সেতুটি পুনঃনির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি সেতু ভেঙে পড়ার খবর শুনেছেন এবং টানা বৃষ্টির কারণে এখনো ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যেতে পারেননি। পরিদর্শন শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

ময়মনসিংহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখলাক উল জামিল অবশ্য তাদের দায় অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, নদী খননের আগে তারা উপজেলা প্রশাসনকে সেতু সংরক্ষণের জন্য চিঠি দিয়েছিলেন এবং সেতুর দুই পাশে ৩০ মিটারের মধ্যে কোনো খনন কাজ করেননি। তাই সেতু ভেঙে পড়ার দায় তারা নেবেন না।

নিউজ লাইট ৭১

Tag :

শেয়ার করুন

ব্রিজ ধসে যোগাযোগ বন্ধ, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

আপডেট টাইম : ০৭:৩৫:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় আয়মন নদীর ওপর নির্মিত গহুর মোল্লার  ব্রিজ ধসে যাওয়ায় দুই পাড়ের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে নদীর পানির চাপ বৃদ্ধি ও সেতুর দু’পাশের মাটি সরে যাওয়ায় পাটাতন ধসে পড়লে এ ঘটনা ঘটে। এতে হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। উপজেলা প্রশাসন দ্রুত সেতুটি মেরামত করে জনদুর্ভোগ লাঘবের কথা জানিয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, ২০০১ সালের দিকে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর পলশা ভিটিবাড়ী গ্রামের গহুর মোল্লার সেতুটি আয়মন নদীর ওপর নির্মাণ করেছিল। সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ড অপরিকল্পিতভাবে আয়মন নদী খনন করায় সেতুর গোড়ার মাটি সরে গিয়ে এটি নড়বড়ে হয়ে পড়ে। এর ফলস্বরূপ, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে নদীর পানির স্রোতের ধাক্কায় শুক্রবার সকালে সেতুটি ভেঙে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম জানান, এই সেতুটি পলশার স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের প্রধান পথ ছিল। হঠাৎ সেতু ভেঙে যাওয়ায় কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

আরেক বাসিন্দা তোতা মিয়া বলেন, অপরিকল্পিত নদী খননের কারণেই সেতুটি ভেঙে পড়েছে। তিনি দ্রুত সেতু সংস্কারের দাবি জানান।

পণ্য পরিবহনে সমস্যার কথা জানিয়ে আজহারুল ইসলাম বলেন, এই সেতুটি এই অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার অন্যতম কারণ ছিল। সেতু ভেঙে যাওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এবং দ্রুত সেতু পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

মুক্তাগাছা উপজেলা প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, সেতুটি তারাই নির্মাণ করেছিলেন, কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপরিকল্পিত নদী খননের কারণে এটি ভেঙেছে। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাঁশের সাঁকো নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে এবং পরবর্তীতে সেতুটি পুনঃনির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি সেতু ভেঙে পড়ার খবর শুনেছেন এবং টানা বৃষ্টির কারণে এখনো ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যেতে পারেননি। পরিদর্শন শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

ময়মনসিংহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখলাক উল জামিল অবশ্য তাদের দায় অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, নদী খননের আগে তারা উপজেলা প্রশাসনকে সেতু সংরক্ষণের জন্য চিঠি দিয়েছিলেন এবং সেতুর দুই পাশে ৩০ মিটারের মধ্যে কোনো খনন কাজ করেননি। তাই সেতু ভেঙে পড়ার দায় তারা নেবেন না।

নিউজ লাইট ৭১