সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রস সংগ্রহ ও গুড় উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন গাছিরা

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৮:০৮:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০
  • / 160

নিউজ লাইট ৭১: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শীতের শুরু থেকেই খেজুর রস সংগ্রহ ও গুড় উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন গাছিরা। গুড় তৈরিকে কেন্দ্র করে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে উপজেলার বৈরচুনা গ্রাম। এতে কাজ জুটেছে এলাকার কিছু মানুষের। 
এদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও মিষ্টি জাতীয় খাদ্যের চাহিদা মেটাতে তাল-খেজুর চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ। ভোরের কুয়াশা ভেদ করেই গাছ থেকে রস সংগ্রহ করছে গাছিরা। এরপর পাটালি গুড় তৈরি শুরু করেন তারা। এমন দৃশ্য পীরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী বৈরচুনা গ্রামে। প্রতিদিন ৫০-৬০ কেজি গুড় উৎপাদন হয় এই গ্রামে। 
রাস্তার শোভা বর্ধনের জন্য খেজুর গাছ রোপণ করেছিলেন গ্রামের মোকসেদ ও সলেমান নামে এই দুই ভাই। তাদের দেখে গ্রামে অনেকেই বাড়ির পতিত জমিতে খেঁজুর গাছ লাগান। এসব গাছের রস থেকে তৈরি হচ্ছে গুড়। 
ওই গ্রামের আব্দুল লতিফ জানান, রাজশাহী থেকে কয়েকজন লোক প্রতিবছর শীতের সময় এখানে এসে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করে থাকে। গোটা শীত মৌসুম তারা এখানে অবস্থান করে গুড় তৈরি করে বিক্রি করে থাকেন। তারা ১৫-১৬ বছর ধরেই এ কাজ করে আসছেন। প্রতিদিন দুর-দুরান্ত থেকে অনেক মানুষ রস ও গুড় নিতে ভিড় জমায় এই গ্রামে।অন্যের খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য তাদের কোনো টাকা লাগে না। গাছ মালিককে মাঝে মধ্যে গুড় খাওয়ায় তারা। 
স্থানীয় কয়েক গ্রামবাসী জানান, রসনা বিলাস খেজুর গুড়ের জুড়ি মেলানো ভার। খেজুরের রস ও গুড় দিয়ে তৈরি হচ্ছে পিঠা, পায়েস, মিষ্টান্ন সহ নানা মুখরোচক খাবার। তাই এর চাহিদার প্রচুর।

গুড় তৈরি সঙ্গে জড়িতরা জানান, কোনো প্রকার কেমিক্যাল ছাড়াই এ গুড় তৈরি করা হয়। এজন্য এর চাহিদা বেশি। প্রতিদিন তারা ৫০ থেকে ৬০ কেজি গুড় তৈরি করে থাকেন। প্রতি কেজি ১২০ টাকা দরে বিক্রি করেন তারা। বাজারে নিতে পারেন না। তৈরির সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে শেষ হয়ে যায়। এতে মাসে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা আয় হয় তাদের। রাজশাহীর চারজন ছাড়াও তাদের সঙ্গে স্থানীয় কিছু লোকের কাজ জুটেছে বলেও জানান তারা।  এদিকে খেজুর গুড়ের সম্ভাবনা নিয়ে পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও মিষ্টি জাতীয় খাদ্যের চাহিদা মেটাতে কৃষি বিভাগ তাল-খেজুর চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে বলে জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম গোলাম সারওয়ার। 
তার মতে জেলায় ১০ থেকে ১৫ হাজার খেজুর গাছ রয়েছে। তবে একমাত্র পীরগঞ্জ উপজেলায় রস দিয়ে গুড় তৈরি হচ্ছে। এটার গুণগত মান ভাল। স্থানীয়ভাবে খেজুর এবং তাল গাছ রোপণে কৃষকদের উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। 

Tag :

শেয়ার করুন

রস সংগ্রহ ও গুড় উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন গাছিরা

আপডেট টাইম : ০৮:০৮:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০

নিউজ লাইট ৭১: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শীতের শুরু থেকেই খেজুর রস সংগ্রহ ও গুড় উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন গাছিরা। গুড় তৈরিকে কেন্দ্র করে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে উপজেলার বৈরচুনা গ্রাম। এতে কাজ জুটেছে এলাকার কিছু মানুষের। 
এদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও মিষ্টি জাতীয় খাদ্যের চাহিদা মেটাতে তাল-খেজুর চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ। ভোরের কুয়াশা ভেদ করেই গাছ থেকে রস সংগ্রহ করছে গাছিরা। এরপর পাটালি গুড় তৈরি শুরু করেন তারা। এমন দৃশ্য পীরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী বৈরচুনা গ্রামে। প্রতিদিন ৫০-৬০ কেজি গুড় উৎপাদন হয় এই গ্রামে। 
রাস্তার শোভা বর্ধনের জন্য খেজুর গাছ রোপণ করেছিলেন গ্রামের মোকসেদ ও সলেমান নামে এই দুই ভাই। তাদের দেখে গ্রামে অনেকেই বাড়ির পতিত জমিতে খেঁজুর গাছ লাগান। এসব গাছের রস থেকে তৈরি হচ্ছে গুড়। 
ওই গ্রামের আব্দুল লতিফ জানান, রাজশাহী থেকে কয়েকজন লোক প্রতিবছর শীতের সময় এখানে এসে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করে থাকে। গোটা শীত মৌসুম তারা এখানে অবস্থান করে গুড় তৈরি করে বিক্রি করে থাকেন। তারা ১৫-১৬ বছর ধরেই এ কাজ করে আসছেন। প্রতিদিন দুর-দুরান্ত থেকে অনেক মানুষ রস ও গুড় নিতে ভিড় জমায় এই গ্রামে।অন্যের খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য তাদের কোনো টাকা লাগে না। গাছ মালিককে মাঝে মধ্যে গুড় খাওয়ায় তারা। 
স্থানীয় কয়েক গ্রামবাসী জানান, রসনা বিলাস খেজুর গুড়ের জুড়ি মেলানো ভার। খেজুরের রস ও গুড় দিয়ে তৈরি হচ্ছে পিঠা, পায়েস, মিষ্টান্ন সহ নানা মুখরোচক খাবার। তাই এর চাহিদার প্রচুর।

গুড় তৈরি সঙ্গে জড়িতরা জানান, কোনো প্রকার কেমিক্যাল ছাড়াই এ গুড় তৈরি করা হয়। এজন্য এর চাহিদা বেশি। প্রতিদিন তারা ৫০ থেকে ৬০ কেজি গুড় তৈরি করে থাকেন। প্রতি কেজি ১২০ টাকা দরে বিক্রি করেন তারা। বাজারে নিতে পারেন না। তৈরির সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে শেষ হয়ে যায়। এতে মাসে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা আয় হয় তাদের। রাজশাহীর চারজন ছাড়াও তাদের সঙ্গে স্থানীয় কিছু লোকের কাজ জুটেছে বলেও জানান তারা।  এদিকে খেজুর গুড়ের সম্ভাবনা নিয়ে পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও মিষ্টি জাতীয় খাদ্যের চাহিদা মেটাতে কৃষি বিভাগ তাল-খেজুর চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে বলে জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম গোলাম সারওয়ার। 
তার মতে জেলায় ১০ থেকে ১৫ হাজার খেজুর গাছ রয়েছে। তবে একমাত্র পীরগঞ্জ উপজেলায় রস দিয়ে গুড় তৈরি হচ্ছে। এটার গুণগত মান ভাল। স্থানীয়ভাবে খেজুর এবং তাল গাছ রোপণে কৃষকদের উৎসাহ দেয়া হচ্ছে।