আপনাদের কারণে আমাকে গালি শুনতে হচ্ছে
- আপডেট টাইম : ০৯:২৫:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০
- / 161
নিউজ লাইট ৭১: দেশের বিদ্যমান অর্থনীতির বাস্তবতা স্বীকার করলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মস্তফা কামাল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, অর্থনীতি এখন খারাপ অবস্থায় রয়েছে। শুধু বাংলাদেশে নয়, সারাবিশ্বেই। ১৯৯৭ সালেও বিশ্বব্যাপী অর্থনীতির অবস্থা খারাপ ছিলো।
এরপর ২০০৯ সালে দ্বিতীয় দফায় খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর দূরদৃষ্টির কারণে সেই অবস্থান থেকে উত্তোরণ সম্ভব হয়েছে। দেশের অর্থনীতির মজবুত ভিত গড়ে উঠেছে।
এ কারণেই গত ১০ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি সারাবিশ্বে রোল মডেল হয়েছে। তবে এখন অর্থনীতি কিছুটা খারাপের দিকে থাকলেও বছর শেষে এ অবস্থার উত্তরণ ঘটবে। সে লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের (বিডিবিএল) ‘ব্রাঞ্চ ম্যানেজারদের বার্ষিক কার্যক্রম প্রণয়ন সম্মেলন ২০২০’-এ যোগ দিয়ে এমন মন্তব্য করলেন অর্থমন্ত্রী। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন।
রাজধানীর মতিঝিলে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও কাজী আলমগীরের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, বিডিবিএলের চেয়ারম্যান ও সাবেক সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেসবাহউদ্দিন এবং পরিচালক কাজী তরিকুল ইসলাম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দেশের অর্থনীতির খারাপ অবস্থা বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, এখন দেশের অর্থনীতির একটা খারাপ সময় যাচ্ছে। আমদানি রপ্তানি কমে যাচ্ছে। কোনো দেশেই আমদানি-রপ্তানি সঠিকভাবে হচ্ছে না।
বিশ্ব অর্থনীতি খারাপের দিকে থাকায় বাংলাদেশের কিছু সেক্টরেও এর প্রভাব পড়েছে। তবে আমি আশা করি বছর শেষে এই সেক্টরগুলো আর পিছিয়ে থাকবে না। বছর শেষে আমদানি-রপ্তানির অবস্থা ভালো হয়ে যাবে।অর্থনীতি খারাপ অবস্থার কথা বলতে গিয়ে তিনি ব্যাংকিং খাতের বর্তমান অবস্থাকেও টেনে আনেন।
এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাতের অবস্থাও খুব ভালো না। ব্যাংক খাতে অনেক ‘মিস মেস’ হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এ প্রসঙ্গে বলেন, মিস মেসের কারণে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে। ব্যাংকগুলো যদি ভালো চলতো, তবে ব্যাংকগুলোকে মার্জ করতে হতো না। এ সময় ব্যাংক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের কারণে সংসদে আমাকে গালি শুনতে হচ্ছে।
আপনারা বলেন, এটা কি আমার জন্য হয়েছে। না আপনাদের জন্য? আমি আশা করবো, আমার জন্য নয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আপনারা সবাই যার যার দায়িত্ব পালন করবেন। দেশটাকে সোনার বাংলায় রূপান্তরিত করবেন।
বিডিবিএলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আপনাদের মধ্যে সবাই খারাপ রয়েছেন তা বলবো না। কিছুসংখ্যক লোক রয়েছে যারা খারাপ। বাংলাদেশ ব্যাংক, কিংবা অর্থ মন্ত্রণালয় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আগে, নিজেরা নিজেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। শাস্তি দিন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, খেলাপি ঋণ আপনারা কমিয়ে এনেছেন। ৫০ শতাংশ থেকে সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের রিপোর্ট অনুসারে ৩৮ শতাংশে এনেছেন। এটা আরও কমাতে হবে।
পাশাপাশি প্রযুক্তিগত ঝুঁকির প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। মূলধন সংরক্ষণ হার ও আমানত বাড়াতে হবে। দেশের অর্থনীতিতে এখন বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি কমেছে। বর্তমানে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ আর টার্গেট ছিল ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির। সেটা হচ্ছে না। এ বিষয়টা অগ্রাধিকার দিতে হবে।













