সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোজার বাজার চড়া

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০২:৪৬:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মার্চ ২০২৪
  • / 79

শুরু হয়েছে রমজান মাস। সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্য পবিত্র মাস এটি। বিশ্বের মুসলিমপ্রধান দেশগুলোতে এ সময় দ্রব্যমূল্য কমিয়ে রোজাদারদের স্বস্তি আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন ব্যবসায়ীরা। দোকানে থাকে নানা রকমের ছাড়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থান তার পুরো উল্টো। প্রতিবছর রমজানের একটি চেনাচিত্র যেন সবখানে দেখা যায়। রমজানকে কেন্দ্র করে চলে মূল্য বাড়ানোর প্রতিযোগিতা। সরকার বারে বারে বাজার নিয়ন্ত্রণের কথা বললেও কার্যত তা নিয়ন্ত্র করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এবারে রমজানে অতি প্রয়োজনীয় কিছু নিত্যপণ্যের দাম কমানোর জন্য সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত সেই পণ্যগুলোর দামে অস্বস্তি নিয়েই শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান।

রোজা শুরুর আগের কয়েকদিনের মধ্যেই বেড়েছে মসুর ডাল, অ্যাংকর ডাল, মুগডাল, ছোলা, চিনি, সোনালি মুরগি, গরুর মাংস, বিভিন্ন ধরনের মাছ, বেগুনসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি, লেবু, শসা, ধনেপাতা ও ফলের দাম।  এককথায় বলা যায়,  বাজার চড়া। নগরীর প্রত্যেকটি এলাকার নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলে একই রকমের তথ্য পাওয়া যায়। তাদের অভিমত সব জিনিসের দাম বেড়েছে। রোজার শুরুতে দাম আরেক দফা বেড়েছে।

মানুষের সংসারে চাপ বাড়ছেই। কয়েক বছর ধরে পবিত্র রমজান মাসে অন্তত কম দামে কেনা যেত। তাছাড়া এখন পেঁয়াজের মৌসুম চলছে। এবারও পেঁয়াজের দর চড়া।  রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১১০ টাকা। গত বছর রোজার আগে একই পেঁয়াজের কেজি ছিল ৪০ টাকার মধ্যে। গত রোজার তুলনায় এবার ১০টি পণ্যের দাম বেশি। যে পাঁচটি পণ্যের দাম কম, সেগুলোর মূল্য গত বছর অনেক বেড়ে গিয়েছিল। তারপর কমেছে। তবে কাক্সিক্ষত মাত্রায় নয়। ফলে সেগুলোর দামও চড়া বলা যায়। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের ঘোষিত ইশতেহারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। নতুন মন্ত্রিসভা দায়িত্ব নেওয়ার পর দাম কমাতে চারটি পণ্যের (চাল, চিনি, ভোজ্যতেল ও খেজুর) শুল্ককর কমানো হয়। এতে কমেছে শুধু সয়াবিন তেলের দাম, লিটারে ১০ টাকা।

বাজারে অভিযান, হুঁশিয়ারি অন্য পণ্যের দাম কমাতে পারেনি। নির্ধারিত দর কার্যকর করতেও সফল হয়নি সরকারি সংস্থা। বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম  রাজধানীর শান্তিনগর বাজার পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, টেলিভিশনে চেহারা দেখানোর জন্য তিনি বাজারে যাননি। গিয়েছেন সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত সবার সঙ্গে আলাপ করে শৃঙ্খলা ফেরাতে। এখন কেউ চালের দাম ও ভোজ্যতেলের দাম নিয়ে কথা বলে না। কারণ, ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আছে। ভোজ্যতেলের দাম কমেছে। চেষ্টা করেও চিনির দাম অস্বাভাবিক বাড়ানো সম্ভব হয়নি।

অবশ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চাল, ভোজ্যতেল ও চিনির মতো পণ্যগুলোর দাম আগে থেকেই চড়া। সেগুলোর দাম কমা দরকার। ২০২১ সালের শুরুতে চিনি ছিল ৬২-৬৫ টাকা কেজি। এর পর থেকে প্রতিবছর তা বাড়ছে।  সবচে বড় কথা হলো একবার বাড়লে তা আর কমছে না। প্রতিবার রমজানের চিত্র যেন সবার চেনা হয়ে উঠেছে। সরকার কোনোভাবেই বাজারের লাগাম টানতে পারছে না। এই অবস্থা থাকলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? বাজারের লাগাম টানতে সরকারের  সংশ্লিষ্ট বিভাগের আন্তরিকতা একান্ত জরুরি।

নিউজ লাইট ৭১

Tag :

শেয়ার করুন

রোজার বাজার চড়া

আপডেট টাইম : ০২:৪৬:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মার্চ ২০২৪

শুরু হয়েছে রমজান মাস। সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্য পবিত্র মাস এটি। বিশ্বের মুসলিমপ্রধান দেশগুলোতে এ সময় দ্রব্যমূল্য কমিয়ে রোজাদারদের স্বস্তি আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন ব্যবসায়ীরা। দোকানে থাকে নানা রকমের ছাড়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থান তার পুরো উল্টো। প্রতিবছর রমজানের একটি চেনাচিত্র যেন সবখানে দেখা যায়। রমজানকে কেন্দ্র করে চলে মূল্য বাড়ানোর প্রতিযোগিতা। সরকার বারে বারে বাজার নিয়ন্ত্রণের কথা বললেও কার্যত তা নিয়ন্ত্র করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এবারে রমজানে অতি প্রয়োজনীয় কিছু নিত্যপণ্যের দাম কমানোর জন্য সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত সেই পণ্যগুলোর দামে অস্বস্তি নিয়েই শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান।

রোজা শুরুর আগের কয়েকদিনের মধ্যেই বেড়েছে মসুর ডাল, অ্যাংকর ডাল, মুগডাল, ছোলা, চিনি, সোনালি মুরগি, গরুর মাংস, বিভিন্ন ধরনের মাছ, বেগুনসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি, লেবু, শসা, ধনেপাতা ও ফলের দাম।  এককথায় বলা যায়,  বাজার চড়া। নগরীর প্রত্যেকটি এলাকার নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলে একই রকমের তথ্য পাওয়া যায়। তাদের অভিমত সব জিনিসের দাম বেড়েছে। রোজার শুরুতে দাম আরেক দফা বেড়েছে।

মানুষের সংসারে চাপ বাড়ছেই। কয়েক বছর ধরে পবিত্র রমজান মাসে অন্তত কম দামে কেনা যেত। তাছাড়া এখন পেঁয়াজের মৌসুম চলছে। এবারও পেঁয়াজের দর চড়া।  রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১১০ টাকা। গত বছর রোজার আগে একই পেঁয়াজের কেজি ছিল ৪০ টাকার মধ্যে। গত রোজার তুলনায় এবার ১০টি পণ্যের দাম বেশি। যে পাঁচটি পণ্যের দাম কম, সেগুলোর মূল্য গত বছর অনেক বেড়ে গিয়েছিল। তারপর কমেছে। তবে কাক্সিক্ষত মাত্রায় নয়। ফলে সেগুলোর দামও চড়া বলা যায়। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের ঘোষিত ইশতেহারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। নতুন মন্ত্রিসভা দায়িত্ব নেওয়ার পর দাম কমাতে চারটি পণ্যের (চাল, চিনি, ভোজ্যতেল ও খেজুর) শুল্ককর কমানো হয়। এতে কমেছে শুধু সয়াবিন তেলের দাম, লিটারে ১০ টাকা।

বাজারে অভিযান, হুঁশিয়ারি অন্য পণ্যের দাম কমাতে পারেনি। নির্ধারিত দর কার্যকর করতেও সফল হয়নি সরকারি সংস্থা। বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম  রাজধানীর শান্তিনগর বাজার পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, টেলিভিশনে চেহারা দেখানোর জন্য তিনি বাজারে যাননি। গিয়েছেন সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত সবার সঙ্গে আলাপ করে শৃঙ্খলা ফেরাতে। এখন কেউ চালের দাম ও ভোজ্যতেলের দাম নিয়ে কথা বলে না। কারণ, ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আছে। ভোজ্যতেলের দাম কমেছে। চেষ্টা করেও চিনির দাম অস্বাভাবিক বাড়ানো সম্ভব হয়নি।

অবশ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চাল, ভোজ্যতেল ও চিনির মতো পণ্যগুলোর দাম আগে থেকেই চড়া। সেগুলোর দাম কমা দরকার। ২০২১ সালের শুরুতে চিনি ছিল ৬২-৬৫ টাকা কেজি। এর পর থেকে প্রতিবছর তা বাড়ছে।  সবচে বড় কথা হলো একবার বাড়লে তা আর কমছে না। প্রতিবার রমজানের চিত্র যেন সবার চেনা হয়ে উঠেছে। সরকার কোনোভাবেই বাজারের লাগাম টানতে পারছে না। এই অবস্থা থাকলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? বাজারের লাগাম টানতে সরকারের  সংশ্লিষ্ট বিভাগের আন্তরিকতা একান্ত জরুরি।

নিউজ লাইট ৭১